পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আরোগ্য একমাত্র বৃদ্ধ বয়সেরই অধিকারগত। বস্তুত অল্প বয়সে আমরা ংসারের বহিরঙ্গকেই সম্পূর্ণ মূল্য দিই ব’লেই সংসারে এত অশাস্তি ঘটে এবং মিথ্যার হুষ্টি হতে থাকে। কেননা এই বাহিরের দিকেই আমরা পরস্পরের সহিত বিচ্ছিন্ন এবং একমাত্র আপনার মধ্যেই चांदङ् । আজ আমি রোগের দশা অতিক্রম করছি ব’লেই আরোগ্য কাকে বলে লেটা বিশেষভাবে অকুভব করি—কিন্তু যথার্থ আরোগ্য সে জীবনের সকল অবস্থারই সম্পদ । সেই আরোগ্যে আমরা সমস্ত বিশ্বভুবনের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যোগস্থাপন করতে পারি। জগতে আমাদের অস্তিত্ব আনন্দময় হয়ে ওঠে। তখন আমাদের দেহের অমুকুল অবস্থা। এই-যে আরোগ্যতত্ত্ব এটা দেহের আস্তরবিভাগের সম্পদ, অলক্ষ্যে সকল দেহে ব্যাপ্ত হয়ে কাজ করে। অমুস্থ হলেই সেই অন্তর্গঢ় সামঞ্জস্ত ভেঙেচুরে গিয়ে অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে পীড়িত করতে থাকে । তখন তার বিরোধের অবস্থা । সেই রকম আমাদের সত্তার যে অস্তরবি ভাগে আধ্যাত্মিক সত্য পরিব্যাপ্ত হয়ে থাকে তার প্রভাব যখন অক্ষুণ্ণ হয়, তখন সর্বত্র তার শাস্তি এবং সকলের সঙ্গে তার সামঞ্জস্ত । এই আস্তরিক সম্পূর্ণতাকে উপলদ্ধি করবার সাধনায় কোনো বয়সের ভেদ নেই। তরুণ অবস্থায় নানা প্রকার আসক্তির আবিলতায় এই উপলব্ধির ব্যাঘাত ঘটে, কিন্তু ধারা তাকে অতিক্রম করে আপনার আত্মাকে উপলব্ধি করতে পারেন তারা সর্বত্র শাস্তিলাভ করেন । কারণ তারা মানবতার সত্যকে অনুভব করতে পারেন, এবং তাদের ভয় থাকে না, তারা মৃত্যুকে অতিক্রম করেন। মানব-ইতিহাসে কোনো কোনো জাতির মধ্যে এই সত্যের উপলদ্ধির ইতরবিশেষ দেখা যায়। যুরোপীয় সভ্যতা প্রথম থেকেই বাছিয়ে আপনার সার্থকতা অন্বেষণ করেছে এবং লোভকে কর্ণধার ক’রে দেশে দেশে, বিশেষভাৰে এলিয়ায় ও আফ্রিকায়, দস্থ্যবৃত্তি দ্বারা ধনসঞ্চয় \eግግ