পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর করেছে। ষে বিজ্ঞান যথার্থ আত্মসাধনার সহায় তাকে বিশুদ্ধ জ্ঞানের পথ থেকে ভ্ৰষ্ট ক’রে জগতে মহামারী বিস্তার করেছে। এই ছৰ্গতির অস্ত কোথায় জানি নে । অপর পক্ষে কোনো কোনো জাতি অপেক্ষাকৃত সহজে তাদের স্বভাবকে অনুসরণ ক’রে বাহিরের চিত্তবিক্ষেপ থেকে শাস্তিলাভ করে এসেছে। তারা বিবাদ ক’রে, লড়াই ক’রে মাছুষের গৌরব সপ্রমাণ করতে চায় নি। বরঞ্চ লড়াই করাকে তারা বর্বরতা ব’লে জ্ঞান করেছে। চীন তার প্রধান দৃষ্টাস্ত। বহু শতাব্দী ধ’রে আপনার সাহিত্য, অতুলনীয় শিল্প ও অতিগভীর তত্ত্বজ্ঞানের মধ্যে মনকে সম্পদশালী করে রাখতে পেরেছে। মামুষের চরম সত্য যে তার অস্তরে সঞ্চিত, এই কথাটা যতই তারা জীবনের ব্যবহারে সপ্রমাণ করেছে ততই তারা মহতী প্রতিষ্ঠা পেয়ে এসেছে । আজ লোভের সঙ্গে, বিজ্ঞানবাহন রিপুর সঙ্গে, তার শোচনীয় বিরোধ ঘটল। আমাদের বিশ্বাস, এক দিন যখন এই বিরোধের অবসান হবে তখন চীন তার সেই চিরন্তন প্রাচীন শাস্তিকে পুনরায় পৃথিবীতে স্থাপন করতে পারবে । কিন্তু যারা লোভকে কেন্দ্র করেছে তারা জয়লাভ করলেও আত্মপরাভবের বিপত্তি থেকে কোনো দিন রক্ষা পাবে কি না সন্দেহ করি। এই লোভের শেষ পরিণাম মহতী বিনষ্টি । পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস, পরস্পরের অর্জিত সম্পদের প্রতি লুব্ধ হস্তক্ষেপ— এই অভ্যাস অনার্য অভ্যাস এবং এই অভ্যাস মাদকতার মতো শরীরমনকে অভিভূত করে রাখে। তার থেকে নিজেকে উদ্ধার করা পরম আঘাতেও অসাধ্য। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর শিক্ষা দেশকে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাদের প্রত্যেককেই মনের ভিতর ধ্যান করতে হবে। কারণ, পাশ্চাত্য সংক্রামকতা আমাদের জাতির মধ্যে প্রবেশ ক'রে ভারতবর্ষের পুরাতন আধ্যাত্মিক বীর্যকে প্রতিদিন পরাস্ত করছে। ঋষিবাক্যে যে পরম মন্ত্র এক দিন আমরা পেয়েছিলেম সে হচ্ছে শাস্তং শিবং অৰৈতম্— এক \3ՊԵ,