পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর আত্মসাৎ করবার জন্ত নয় । পাশ্চাত্য অলংকার-মতে মহাকাব্য যুদ্ধমূলক। মহাভারতের আখ্যানভাগেরও অধিকাংশ যুদ্ধবর্ণনার দ্বারা অধিকৃত— কিন্তু যুদ্ধেই তার পরিণাম নয়। নষ্ট ঐশ্বর্ধকে রক্তসমুদ্র থেকে উদ্ধার ক’রে পাওবের হিংস্র উল্লাস চরমরূপে এতে বর্ণিত হয় নি। এতে দেখা যায়, জিত সম্পদকে কুরুক্ষেত্রের চিতাভষ্মের কাছে পরিত্যাগ ক’রে বিজয়ী পাওব বিপুল বৈরাগ্যের পথে শাস্তিলোকের অভিমুখে প্রয়াণ করলেন– এ কাব্যের এই চরম নির্দেশ । এই নির্দেশ সকল কালে সকল মানবের প্রতি । যে ভোগ একান্ত স্বার্থগত ত্যাগের দ্বারা তাকে ক্ষালন করতে হবে । ষে ভোগে সর্বমানবের ভোজের আহবান আছে সভ্যতার স্বরূপ আছে তার মধ্যে। কিন্তু রিপু অতি প্রবল, সাধন অতি দুরূহ। সেই কারণেই এই সাধনায় যত দূর সিদ্ধি লাভ করা যায় মন্থন্তত্বের গৌরব তত দূর প্রসারিত হতে থাকে, ব্যাপ্ত হতে থাকে তার সভ্যতা । যুগ প্রতিকুল, বর্বরতা বলিষ্ঠতার মর্যাদা গ্রহণ ক’রে আপন পতাকা আন্দোলন করে বেড়াচ্ছে রক্তপঙ্কিল মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। কিন্তু বিকারগ্রস্ত রোগীর সাংঘাতিক আক্ষেপকে যেন আমরা শক্তির পরিচয় ব’লে ভূল না করি। লোভ যে সম্পদ আহরণ ক’রে আনে তাকে মানুষ অনেক দিন পর্যন্ত ঐশ্বর্য ব’লে জ্ঞান করে এসেছে, এবং অহংকৃত হয়েছে সঞ্চয়ের মৰীচিকায়। লোভের ভাণ্ডারকে রক্ষা করবার জন্তে জগৎ জুড়ে অস্ত্রসজ্জা, যুদ্ধের আয়োজন চলল। সেই ঐশ্বৰ্ধ আজ ভেঙেচুরে তার ভগ্নাবশেষের তলায় মনুষ্যত্বকে নিস্পিষ্ট করে দিচ্ছে । আমার অধিক কিছু বলবার নেই, শক্তিও নেই। মানবসত্যের শেষ বাণী আমাদের দেশে উচ্চারিত হয়েছে, আমি আজ কেবল তারই প্রত্যুচ্চারণ করে বিদায় গ্রহণ করি чob е