পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সভ্যতার সংকট স্বাধীনতার পথ বিজয়ী জাতির দাক্ষিণ্যের দ্বারাই প্রশস্ত হৰে । কেননা, এক সময় অত্যাচার-প্ৰপীড়িত জাতির আশ্রয়স্থল ছিল ইংলণ্ডে । যারা স্বজাতির সম্মান রক্ষার জন্ত প্রাণপণ করছিল তাদের অকুষ্ঠিত আসন ছিল ইংলণ্ডে । মানবমৈত্রীর বিশুদ্ধ পরিচয় দেখেছি ইংরেজচরিত্রে । তাই আস্তরিক শ্রদ্ধা নিয়ে ইংরেজকে হৃদয়ের উচ্চাসনে বসিয়েছিলেম। তখনো সাম্রাজ্যমদমত্ততায় তাদের স্বভাবের দাক্ষিণ্য কলুষিত हग्न नेि । আমার যখন বয়স অল্প ছিল ইংলণ্ডে গিয়েছিলেম । সেই সময় জন ব্রাইটের মুখ থেকে পালামেণ্টে এবং তার বাহিরে কোনো কোনো সভায় যে বক্তৃতা শুনেছিলেম তাতে শুনেছি চিরকালের ইংরেজের বাণী । সেই বক্তৃতায় হৃদয়ের ব্যাপ্তি জাতিগত সকল সংকীর্ণ সীমাকে অতিক্রম করে যে প্রভাব বিস্তার করেছিল সে আমার আজ পর্যন্ত মনে আছে এবং আজকের এই ঐশ্রষ্ট দিনেও আমার পূর্বস্বতিকে রক্ষা করছে। এই পরনির্ভরতা নিশ্চয়ই আমাদের প্লাঘার বিষয় ছিল না। কিন্তু এর মধ্যে এইটুকু প্রশংসার বিষয় ছিল যে, আমাদের আবহমান কালের অনভিজ্ঞতার মধ্যেও মনুষ্যত্বের যে-একটি মহৎ রূপ সে দিন দেখেছি, তা বিদেশীয়কে আশ্রয় ক’রে প্রকাশ পেলেও, তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করবার শক্তি আমাদের ছিল ও কুষ্ঠা আমাদের মধ্যে ছিল না . কারণ, মামুষের মধে। যা-কিছু শ্রেষ্ঠ তা সংকীর্ণভাবে কোনো জাতির মধ্যে বদ্ধ হতে পারে না, তা কৃপণের অবরুদ্ধ ভাণ্ডারের সম্পদ নয়। তাই, ইংরেজের ষে সাহিত্যে আমাদের মন পুষ্টিলাভ করেছিল আজ পর্যন্ত তার বিজয়শঙ্খ আমার মনে মশ্রিত হয়েছে। সিভিলিজেশন, যাকে আমরা সভ্যতা নাম দিয়ে তর্জমা করেছি, তার যথার্থ প্রতিশৰ আমাদের ভাষায় পাওয়া সহজ নয়। এই সদ্ধাতায় ষে রূপ আমাদের দেশে প্রচলিত ছিল মন্থ তাকে বলেছেন '&gుల