পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর গলিরাস্ত হওয়া চাই । লেখাপড়া শেখাই এই রাস্তা। যদি বলি জ্ঞানশিক্ষা, তাহা হইলে তর্ক উঠবে, আমাদের চাষাভূষার যাত্রার দল ও কথকঠাকুরের কৃপায় জ্ঞানশিক্ষায় সকল দেশের অগ্রগণ্য। যদি বলি উচ্চশিক্ষা, তাহা হইলে ভদ্রসমাজে খুব একটা উচ্চহান্ত উঠিবে – সেটাও সহিতে পারিতাম যদি আশু এই প্রস্তাবটার কোনো উপযোগিতা থাকিত । আমি কিন্তু সব চেয়ে কম করিয়াই বলিতেছি, কেবলমাত্র লিখিতে পড়িতে শেখা। তাহা কিছু লাভ নহে, তাহ কেবলমাত্র রাস্তা— সেও পাড়াগায়ের মেটে রাস্তা । আপাতত এই যথেষ্ট, কেননা এই রাস্ত;ট। ন হইলেই মানুষ আপনার কোণে আপনি বদ্ধ হইয়া থাকে । তখন তাহাকে যাত্র-কথকতার যোগে সাংখ্য যোগ বেদান্ত পুরাণ ইতিহাস সমস্তই শুনাইয়া যাইতে পার, তাহ’র আঙিনায় চরিনামসংকীর্তনেরও ধুম পড়িতে পারে, কিন্তু এ কথা তাহার স্পষ্ট বুঝিবার উপায় থাকে না যে, সে এক নহে, তাহার যোগ কেবলমাত্র অধ্যায়ুযোগ নহে, একটা বৃহৎ লৌকিক যোগ । সঙ্গে নিকটের, অনুপস্থিতের সঙ্গে উপস্থিতের সম্বন্ধপথটা মিস্ত দেশের মধ্যে অবাধে বিস্তীর্ণ হইলে তবেই তো দেশের অতু উপশক্তিটা ব্যাপ্ত হষ্টয় উঠবে । মনের চলাচল যতখানি মানুষ ততখানি বড়ো । মানুষকে শক্তি দিতে হইলে মানুষকে বিস্তৃত করা চাই । তাই আমি এই বলি, লিখিতে পড়িতে শিথিয়া মানুষ কী শিখিৰে ও কতখানি শিখিবে, সেট। পরের কথা, কিন্তু সে যে অন্তের কথা আপনি শুনিবে ও আপনার কথা অন্তকে শোনাইবে, এমনি করিয়া সে যে আপনার মধ্যে বৃহৎ মানুষকে ও বুহুং মংস্থলের মধ্যে আপনাকে পাইবে, তাহার চেতনার অধিকার যে চারি দিকে প্রশস্ত হইয়া খাইবে, এইটেই গোড়াকার কথা । . ح