পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর তাহাদের প্রতি অন্যায় জমা হইয়া উঠিতেছে এবং সেই অন্তায়ের ফল আমরা প্রত্যেকে ভোগ করিতেছি, এ কথা যত ক্ষণ পর্যস্ত আমরা স্বীকার না করিব তত ক্ষণ দয়া করিয়া তাহাদের জন্ত এক-আধটা নাইট স্কুল খুলিয়া কিছুই হইবে না। সকলের গোড়ায় দরকার লোকসাধারণকে লোক বলিয়া নিশ্চিতরূপে গণ্য করা । কিন্তু সমস্তাটা এই যে, দয়া করিয়া গণ্য করাটা টেকে না । তাহারা শক্তি লাভ করিয়া যেদিন গণ্য করাইবে সেই দিনই সমস্তার মীমাংসা হইবে । সেই শক্তি যে তাছাদের নাই তাহার কারণ, তাহারা অজ্ঞতার দ্বারা বিচ্ছিন্ন »রাষ্ট্রব্যবস্থা যদি তাছাদের মমের রান্ত, তাহাদের ষোগের রাস্ত ধুলিয়া না দেয়, তবে দয়ালু লোকের লাইট স্কুল খোলা অশ্রুবর্ষণ করিয়া অগ্নিদাহ-নিবারণের চেষ্টার মতো হইবে। কারণ, এই লিখিতে পড়িতে শেখ তখনই যথার্থ ভাবে কাজে লাগিবে যখন তাগ দেশের মধ্যে সর্বব্যাপী হইবে । সোনার আঙটি কড়ে আঙুলের মাপে হইলেও চলে, কিন্তু একটা কাপড় সেই মাপের হইলে তাহা ঠাট্টার পক্ষেও নেহাং ছোটো হয়— দেহটাকে এক আবরণে আবুত করিতে পারিলেই তবে তাহা কাজে দেখে । সামান্ত লিখিতে পড়িতে শেখা দুইচারজনের মধ্যে বদ্ধ হইলে তাহা দামি জিনিস হয় না, কিন্তু সাধারণের মধ্যে ব্যাপ্ত হইলে তাহা দেশের লক্ষণ রক্ষা করিতে পূর্বেই বলিয়াছি, শক্তির সঙ্গে শক্তির বোঝাপড়া হইলে তবেই সেটা সত্যকার কারবার হয় । এই সত্যকার কারৰারে উভয় পক্ষেরই মঙ্গল । যুরোপে শ্রমজীবীরা যেমনি বলিষ্ঠ হইয়াছে অমনি সেখানকার বণিকরা জবাবদিহির দায়ে পড়িয়াছে। ইহাতেই দুই পক্ষের সম্বন্ধ সত্য হইয়া উঠিৰে— অর্থাৎ যেটা বরাবর সহিৰে সেইটেই দাড়াইয়া যাইবে, সেইটেই উভয়েরই পক্ষে কল্যাণের। স্ত্রীলোককে সাধী রাখিবার 8 o