পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তর আমাদের কাছে অভাবনীয় নয়। য। অভাবনীয় নয় তা লইয়া কেছ ভাবনাই করে না। আমরাও ভাবনা করি নাই, সহই করিয়াছি। কিন্তু চিঠিতে যে কথাটা অমনিতে চোখ এড়াইয়া যায় সেটার নীচে লাইন কাটা দেখিলে যেমন বিশেষ করিয়া মনে লাগে, আমাদের রাস্তার জলাশয়তার নীচে তেমনি জোড়া লাইন কাটা দেখিয়া, শুধু মনটার মধ্যে নয় আমাদের গাড়ির চাকাতেও ক্ষণে ক্ষণে চমক লাগিল । বর্ষাও নামিয়াছে, ট্র্যামলাইনের মেরামতও শুরু । যার আরম্ভ আছে তার শেষও আছে, দ্যায়শাস্ত্রে এই কথা বলে ; কিন্তু ট্র্যামওয়ালাদের অন্তশয় শাস্ত্রে মেরামতের আর শেষ দেখি না । তাই এবার লাইন কাটার সহযোগে যখন চিংপুর রোডে জলস্রোতের সঙ্গে জনস্রোতের দ্বন্দ্ব দেখিয়া দেহমন আর্দ্র হইতে লাগিল, তখন অনেক দিন পরে গভীরতাৰে তাৰিতে । লাগিলাম, সহ করি কেন । সহ না করিলে যে চলে, এবং না করিলেই যে ভালো চলে, চৌরঙ্গি অঞ্চলে একবার পা বাড়াইলেই তা বোঝা যায়। একই শহর, একই মুনিসিপালিটি, কেবল তফাতট। এই, আমাদের সয়, ওদের লয় না । যদি চৌরঙ্গি রাস্তার পনেরো আনার হিসল ট্র্যামেরই থাকিত, এবং রাস্ত উৎখাত করিয়া লাইন মেরামত এমন সুমধুর গজগমনে চলিত, আজ তবে ট্র্যাম-কোম্পানির দিলে আহার, রাত্রে নিদ্রা থাকিত না । আমাদের নিরীহ ভালোমানুষটি বলেন, ‘সে কী কথা ! আমাদের একটু অসুবিধা হইবে বলিয়াই কি ট্র্যামের রাস্তা মেরামত হুইবে না ? ‘হইবে বই কি ! কিন্তু, এমন আশ্চর্য মুস্থ মেজাজে এবং দীর্ঘ মেয়াদে নয়।’ নিরীহ ভালোমামুষটি বলেন, ‘সে কি সম্ভব ? যা হইতেছে তার চেয়ে আরো ভালো হইতে পারে, এই তরল ভালোমানুষদের নাই বলিয়াই অহরহ চক্ষের জলে তাদের বক্ষ ভালে 8ヶ