পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কর্তার ইচ্ছায় কর্ম ভয়েই পালামেন্টে হাজির হইত। আর, গলদের কৰা যদি বল, কবেকার কালে সেই জায়ালগু, আমেরিকার লম্বন্ধ হইতে আরম্ভ করিয়া আজকের দিলে বোয়ার যুদ্ধ এবং ডার্ডানেলিস মেসোপেটেমিয়া পর্যন্ত গলদের লম্বা ফর্দ দেওয়া যায় ; ভারতবিভাগের ফটািও নেহাত ছোটো নয়— কিন্তু সেটার কথায় কাজ নাই । আমেরিকার রাষ্ট্ৰতন্ত্রে কুবের দেবতার চরগুলি যেসকল কুকীৰ্তি করে সেগুলো সামান্ত নয়। ড্রেফুসের নির্যাতন উপলক্ষ্যে ফ্রান্সের রাষ্টতন্ত্রে সৈনিক প্রাধান্তের যে অস্কায় প্রকাশ পাইয়াছিল, তাছাতে রিপুর অন্ধশক্তিরই তো হাত দেখা যায় । এসকল সত্ত্বেও আজকের দিনে এ কথায় কারও মনে সন্দেহ লেশমাত্র নাই যে, আত্মকর্তৃত্ত্বের চির সচলতার বেগেই মানুষ ভুলের মধ্য দিয়াই ভুলকে কাটায়, অন্যায়ের গর্তে ধড়িযোড় ভাঙিয়া পড়িয়াও ঠেলাঠেলি করিয়া উপরে ওঠে। এইজন্ত মানুষকে পিছমোড়া বাধিয়া তার মুখে পায়সার তুলিয়া দেওয়ার চেয়ে তাকে স্বাধীনভাবে অন্ন উপার্জনের চেষ্টায় উপবাসী হইতে দেওয়াও ভালো । এর চেয়েও একটা বড়ো কথা আমাদের বলিবার আছে, সে এই যে, রাষ্ট্রীয় আত্মকর্তৃত্বে কেবল যে সুব্যবস্থা বা দায়িত্ববোধ জন্মে তা নয়, মামুষের মনের আয়তন বড়ো হয় । কেবল পল্পীসমাজে বা ছোটো ছোটো সামাজিক শ্রেণীবিভাগে যাদের মন বদ্ধ, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের অধিকার পাইলে তবেই মানুষকে বড়ে পরিধির মধ্যে দেখিবার তারা সুযোগ পায় । এই সুযোগের অভাবে প্রত্যেক মাস্থ্য মামুষ-হিসাবে ছোটো হইয়া থাকে। এই অবস্থায় সে যখন মনুষ্যত্বের বৃহৎ ভূমিকার উপরে আপন জীবনকে না ছড়াইয়া দেখে তখন তার চিস্তা, তার শক্তি, তার আশা ভরসা সমস্তই ছোটো হইয়া যায়। মামুষের এই আত্মার খর্বতা তার প্রাণনাশের চেয়ে ঢের বেশি বড়ো অমঙ্গল । ভূমৈব মুখং নাল্পে মুখমস্তি। অতএব ভুলচুকের সমস্ত আশঙ্কা মানিয়া লইয়াও & Y