পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তুর আমরা আত্মকর্তৃত্ব চাই। আমরা পড়িতে পড়িতে চলিব ; দোহাই তোমার, আমাদের এই পড়ার দিকেই তাকাইয়! আমাদের চলার দিকে বাধা দিয়ে না । এই জবাবই সত্য জবাব । যদি নাছোড়বান্দা হইয়া কোনো এক গুয়ে মানুষ এই জবাব দিয়া কর্তৃপক্ষকে বেজার করিয়া তোলে, তবে সে দিক হইতে সে ইন্টার্নড হইতে পারে, কিন্তু এ দিক হইতে বাছবা পায়। অথচ ঠিক এই জবাবটাই যদি আমাদের সমাজকর্তাদের কাছে দাখিল করি, যদি বলি “তোমরা বল, যুগটা কলি, আমাদের বুদ্ধিটা কম, স্বাধীন বিচারে আমাদের ভুল হয়, স্বাধীন ব্যবহারে আমর। অপরাধ করি, অতএব মগজটাকে অগ্রাহ করিয়া পুথিটাকে শিরোধার্য করিবার জন্তই আমাদের নতশিরট তৈরি, কিন্তু এত বড়ে অপমানের কথা আমরা মানিব না’, তবে চণ্ডীমণ্ডপের চক্ষু রাঙা হইয় ওঠে এবং সমাজকর্তা তখনই সামাজিক ইন্টার্ন মেন্টের হুকুম জারি করেন । যারা পোলিটিকাল আকাশে উড়িবার জন্ত পাখী ঝটপট করেন তারাই সামাজিক দাড়ের উপর পাদুটোকে শক্ত শিকলে জড়াইয়া রাখেন । আসল কথা, নৌকাটাকে ডাইনে চালাইবার জন্তও যে হাল, বায়ে চালাইবার জন্তও সেই হাল। একটা মূলকথা আছে, সেইটেকে আয়ত্ত করিতে পারিলেই সমাজেও মামুষ সত্য হয়, রাষ্ট্রব্যাপারেও মানুষ সত্য হয়। সেই মূলকথাটার ধারণা লইয়াই চিৎপুরের সঙ্গে চৌরঙ্গির তফাত । চিৎপুর একেবারেই ঠিক করিয়া আছে যে, সমস্তই উপরওয়ালার হাতে । তাই সে নিজের হাত খালি করিয়া চিত হইয়া রছিল । চৌরঙ্গি বলে, কিছুতে আমাদের হাত নাই এ যদি সত্যই হইত তবে আমাদের হাতছুটোই থাকিত না । উপরওয়ালার হাতের সঙ্গে আমাদের হাতের একট। অবিচ্ছিন্ন যোগ আছে, চৌরঙ্গি এই কথা মানে বলিয়াই জগৎটাকে হাত করিয়াছে ; আর চিংপুর তাছা মানে é २