পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর কর্মবুদ্ধিতে কোথাও কিছুমাত্র আটক না খাইলেও গাড়িতে বসিয়া স্বচ্ছন্দে পান খাইবার স্বাধীনতাটুকু যে দেশের মানুষ অনায়ালে বর্জন করিতে প্রস্তুত, সে দেশের লোক স্বাধীনতার অস্ত্যেষ্টিসৎকার করিয়াছে । অথচ দেখি, যারা গোড়ায় কোপ দেয় তারাই আগায় জল ঢালিবার জন্ত ব্যস্ত । নিষ্ঠা পদার্থের একটা শোভা আছে । কোনো কোনো বিদেশী এ দেশে আসিয়া সেই শোভার ব্যাখ্যা করেন । এটাকে বাহির হইতে তারা সেই ভাবেই দেখেন, একজন আর্টিন্ট পুরানো ভাঙা বাড়ির চিত্রযোগ্যতা যেমন করিয়া দেখে, তার বাসযোগ্যতার খবর লয় না। স্নানযাত্রার পরবে বরিশাল হইতে কলিকাতায় আসিতে গঙ্গাস্নানের যাত্রী দেখিয়াছি, তার বেশির ভাগ স্ত্রীলোক । স্টীমারের ঘাটে ঘাটে, রেলওয়ের স্টেশনে স্টেশনে তাদের কষ্টের অপমানের সীমা ছিল না । বাহিরের দিক হইতে এই ব্যাকুল সহিষ্ণুতার সৌন্দর্য আছে। কিন্তু আমাদের দেশের অন্তর্যামী এই অন্ধ নিষ্ঠার সৌন্দর্যকে গ্রহণ করেন নাই । তিনি পুরস্কার দিলেন না, শাস্তিই দিলেন। স্থঃখ বাড়িতেই চলিল । এই মেয়েরা মানত-স্বস্ত্যয়নের বেড়ার মধ্যে যেসব ছেলে মানুষ করিয়াছে, ইহকালের সমস্ত বস্তুর কাছেই তার মাথা ইেট করিল এবং পরকালের সমস্ত ছায়ার কাছেই তার মাথা খুঁড়িতে লাগিল । নিজের কাজের বাধাকে রাস্তার বঁাকে বাকে গাড়িয়া দেওয়াই এদের কাজ, এবং নিজের উন্নতির অন্তরায়কে আকাশপরিমাণ উচু করিয়া তোলাকেই এরা বলে উন্নতি । সত্যের জন্ত মাম্বুব কষ্ট সহিবে, এইটেই মুন্দর। কানা বুদ্ধি কিম্ব খোড়া শক্তিয় হাত হইতে মামুষ লেশমাত্র কষ্ট যদি সয়, তবে সেটা কুদৃপ্ত। কারণ, বিধাতা আমাদের সব চেয়ে বড়ো যে সম্পদ দিয়াছেন, ত্যাগ-স্বীকারের বীরত্ব, এই কষ্ট তারই বেছিলাবি বাজে খরচ। আজ তারই নিকাশ আমাদের চলিতেছে — ইহার ঋণের સ્વછર