পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর স্বেচ্ছায় দ্যায়ধর্মের জন্ত প্রাণ দেওয়া তার পক্ষে অসাধ্য । এইজন্তই আমাদের পাড়াগায়ে অন্ন জল স্বাস্থ্য শিক্ষা আনন্দ সমস্ত আজ ভাটার মুখে। আত্মশক্তি না জাগাইতে পরিলে পল্লীবাসীর উদ্ধার নাই— এই কথা মনে করিয়া, নিজের কল্যাণ নিজে করিবার শক্তিকে একটা বিশেষ পাড়ায় জাগাইবার চেষ্টা করিলাম। এক দিন পাড়ায় আগুন লাগিল ; কাছে কোথাও এক ফোট জল নাই ; পাড়ার লোক দাড়াইয়া হায়-হায় করিতেছে । আমি তাদের বলিলাম, নিজেরা মজুরি দিয়া যদি তোমরা পাড়ায় একটা কুয়ো খুড়িয়া দাও আমি তার বাধাইবার খরচ দিব ।’ তারা ভাবিল, পুণ্য হইবে ওই সেয়ান লোকটার, আর তার মজুরি জোগাইব আমরা, এটা ফাকি । সে কুয়ো গোড়া হইল না, জলের কষ্ট রহিয়া গেল, আর আগুনের সেথানে বাধা নিমন্ত্রণ । এই-যে অটল ছৰ্দশ এর কারণ, গ্রামের যা-কিছু পূর্তকার্য তা এ পর্যস্ত পুণ্যের প্রলোভনে ঘটিয়াছে । তাই মামুষের সকল অভাবই পূরণ করিবার বরাত হয় বিধাতার পরে নয় কোনো আগন্ধকের উপর । পুণ্যের উমেদার যদি উপস্থিত না থাকে তবে এর জল না খাইয়া মরিয়া গেলেও নিজের হাতে এক কোদাল মাটিও কাটিবে না । কেননা এরা এখনও সেই বুড়ির কোল থেকে নামে নাই ৰে বুড়ি এদের জাতিকূল ধৰ্মকৰ্ম ভালোমন্দ শোওয়াবসা সমস্তই বাহির হইতে বাধিয়া দিয়াছে । ইহাদের দোষ দিতে পারি না কেননা বুড়ি এদের মনটাকেই আফিম খাওয়াইরা ঘুম পাড়াইয়াছে। কিন্তু অবাক হইতে হয় যখন দেখি, এখনকার কালের শিক্ষিত যুবকেরা, এমন কি, কলেজের তরু, ছাত্রেরা ও এই বুড়িতন্ত্রের গুণ গাহিতেছেন। ভারতবর্ধকে সনাতন ধামীর কাখে চড়িতে দেখিয়৷ ষ্টছাদের ভারি গর্ব ; বলেন, ওটা বড়ো উচ্চ জায়গা, ওপান হইতে পা মাটিতেই পড়ে না। বলেন, ওই 曹岛