পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কর্তার ইচ্ছায় কর্ম ভারতীয় প্রজার আপন অধিকার আছে, তাহা গ্রহণ করে ।” কিন্তু ইংরেজের রাষ্ট্রনীতি আমাদের বেলায় খাটে না, এমন একটা কড় জবাব শুনিবার আশঙ্কা আছে । ভারতবর্ষে ব্রাহ্মণ যেমন বলিয়াছিল, উচ্চতর জ্ঞানে ধর্মে কর্মে শূত্রের অধিকার নাই, এও সেই রকমের কথা । কিন্তু ব্ৰাহ্মণ এই অধিকারভেদের ব্যবস্থাটাকে আগাগোড়া পাকা করিয়া গাধিয়াছিল, যাহাকে বাহিরে পঙ্গু করিবে তার মনকেও পঙ্গু করিয়াছিল। জ্ঞানের দিকে গোড় কাটা পড়িলেই কর্মের দিকে ডালপালা আপনি শুকাইয়া যায়। শূদ্রের সেই জ্ঞানের শিকড়টা কাটিতেই আর বেশি কিছু করিতে হয় নাই ; তার পর হইতে তার মাথাট। আপনিই মুইয়া পড়িয়া ব্রাহ্মণের পদ রজে আসিয়া ঠেকিয়া রহিল। ইংরেজ আমাদের জ্ঞানের দ্বার বন্ধ করে নাই, অথচ সেইটেই মুক্তির সিংহদ্বার । রাজপুরুষের সেজন্ত বোধ করি মনে মনে আপষোস করেন এবং আস্তে আস্তে বিদ্যালয়ের জ্বটো-একটা জালালা-দরজাও বন্ধ করিবার গতিক দেখি ; কিন্তু তবু এ কথা তারা কোনো দিন একেবারে ভুলিতে পারিবেন না যে, সুবিধার খাতিরে নিজের মতুয়াহুকে আঘাত করিলে ফলে সেটা আত্মহত্যার মতোই হয় । ভারতশাসনে আমাদের স্তায্য অধিকারটা ইংরেজের মনস্তত্ত্বের মধ্যেই নিহিত— এই আশার কথাটাকে যদি আমাদের শক্তি দিয়া ধরিতে পারি তবে ইহার জন্ত বিস্তর দুঃখ সহ, ত্যাগ করা, আমাদের পক্ষে সহজ হয়। যদি আমাদের দুর্বল অভ্যাসে ৰলিয়া বসি "কর্তার ইচ্ছায় কর্ম, ওর আর নড়াচড় নাই, তবে যে মুগভীর নৈরাপ্ত আসে, তার দুই রকমের প্রকাশ দেখিতে পাই— হয় গোপনে চক্রাস্ত করিয়া আকস্মিক উপদ্রবের বিস্তার করিতে থাকি নয় ঘরের কোণে বসিয়া পরস্পরের কানে কানে বলি, অমুক লাটগাছেৰ ভালো কিম্বা মনা, অমুক ব্যক্তি মন্ত্রিসভায় সচিৰ থাকিতে আমাদের কল্যাণ নাই, মলি সাহেৰ ভারতসচিব হইলে হয়তো ●ፃ