পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর হইবেই, প্রেস্ট্রিজ-দেবতা নরবলি দাবি করিতেই থাকিবে এবং ইংরেজের শাসন ইংরেজের চিরকালীন ঐতিহাসিক ধর্মের প্রতিবাদ করিবে । এ কথার উত্তরে শুনিব, রাষ্ট্রতন্ত্রে নীতিই শক্তির চেয়ে সত্য এই কথাটাকে পারমাধিক ভাবে মান চলে কিন্তু ব্যবহারিক ভাবে মানিতে গেলে বিপদ আছে, অতএব হয় গোপনে পরম-নিঃশব্দ গরম-পন্থা, নয় তো প্রেস অ্যাক্টের মুখ-খাবার নীচে পরম-নি:শব্দ নরম-পন্থা।' ‘ই, বিপদ আছে বই কি, তবু জ্ঞানে যা সত্য ব্যবহারেও তাকে সত্য করিব।” Φ “কিন্তু আমাদের দেশের লোকই ভয়ে কিম্বা লোভে দ্যায়ের পক্ষে সাক্ষ্য দিবে না, বিরুদ্ধেই দিবে।’ এ কথাও ঠিক। তবু সত্যকে মানিয়া চলিতে হইবে।” “কিন্তু আমাদের দেশের লোকই প্রশংসা কিম্ব পুরস্কারের লোভে ঝোপের মধ্য হইতে আমার মাথায় বাড়ি মারিবে।’ "এ কথাও ঠিক । তবু সত্যকে মানিতে হুইবে ।’ ‘এতটা কি আশা করা যায় ? ই, এতটাই আশা করিতে হুইবে, ইহার একটুকুও কম নয়। গবর্মেন্টের কাছ হইতেও আমরা বড়ো দাবিই করিব কিন্তু নিজেদের কাছ হইতে তার চেয়ে আরো বড়ো দাবি করিতে হুইবে, নহিলে অন্ত দাবি টিকিবে না । এ কথা মালি, সকল মানুষই ৰশিষ্ঠ হয় না এবং অনেক মানুষই দুর্বল ; কিন্তু সকল বড়ো দেশেই প্রত্যেক দিনই অনেকগুলি করিয়া মাছুষ জন্মেল যার সকল মামুষের প্রতিনিধি— যায়। সকলের ছ:থকে আপনি বছেন, সকলের পথকে আপনি কাটেন, যার সমস্ত বিরুদ্ধতার মধ্যেও মমুস্তত্বকে বিশ্বাস করেন এবং ব্যর্থতার গভীরতম অন্ধকারের পূর্বপ্রান্তে অরুণোদয়ের প্রতীক্ষায় জাগিয়া থাকেন। তার অবিশ্বাসীর সমস্ত পরিহাসকে উপেক্ষা করিয়া জোরের সঙ্গে বলেন :