পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তুর বিভাগে আপন মহত্ত্বকে প্রাণ দিয়াও সপ্রমাণ করে ? দেখিয়াছি, ইতিহাসে যখন প্ৰতাত হয় স্বৰ্ষ তখন পূর্বদিকে ওঠে বটে, কিন্তু সেই সঙ্গেই উত্তরে দক্ষিণে পশ্চিমেও আলো ছড়াইয়া পড়ে। একএক ইঞ্চি করিয়া ধাপে ধাপে যদি জাতির উন্নতি হইত তবে মহাকালকেও হার মানিতে হইত। মানুষ আগে সম্পূর্ণ যোগ্য হইবে, তার পরে সুযোগ পাইবে, এই কথাটাই যদি সত্য হয় তবে পৃথিবীতে কোনো জাতিই আজ স্বাধীনতার যোগ্য হয় নাই । ডিমক্রেসির দেমাক করিতেছ। কিন্তু য়ুরোপের জনসাধারণের মধ্যে আজও প্রচুর বীভৎসতা আছে— সেসব কুৎসার কথা ঘাটিতে ইচ্ছা করে না। যদি কোনো কর্ণধার বলিত এইসমস্ত যত ক্ষণ আছে তত ক্ষণ ডিমক্রেসি তার কোনো অধিকার পাইবে না, তবে বীভৎসত তে থাকিতই, আবার সেই পাপের স্বাভাবিক প্রতিকারের উপায়ও চলিয়া যাইত । তেমনি আমাদের সমাজে, আমাদের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের ধারণায় দুর্বলতা যথেষ্ট আছে, সে কথা ঢাকিতে চাহিলেও ঢাকা পণ্ডিবে না । তবু আমরা আত্মকর্তৃত্ব চাই। অন্ধকার ঘরে এক কোণের বাতিটা মিটমিটু করিয়া জলিতেছে বলিয়া যে আর-এক কোণের বাতি জ্বালাইবার দাবি নাই, এ কাজের কথা নয় । যে দিকের যে সলতে দিয়াই হোক আলো জ্বালাই চাই । আজি মনুষ্যত্বের দেয়ালি-মহোৎসবে কোনো দেশষ্ট তার সব বাতি পুরা জালাইয় উঠতে পারে নাই, তবু উৎসৰ চলিতেছে। আমাদের ঘরের বাতিটা কিছু কাল হইতে নিৰিয়া গেছে ; তোমাদের শিখ হইতে যদি ওটাকে স্বালাষ্টয়া লইতে যাই তবে তা লইয়া রাগারগি করা কল্যাণের নহে । কেননা, ইহাতে তোমাদের আলো কমিবে না, এবং উৎসবের অালে বাড়িয়া উঠিবে। উৎসবের দেবতা আজ আমাদিগকে ভিতর হইতে ডাকিতেছেন । পাও কি আমাদের নিষেধ করিয়া ঠেকাইয়া রাখিতে পাঙ্কিৰে ? সে যে ዓ8