পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তর বরমাল্যে র্তাহাকে বরণ করিয়া লইল, জ্ঞানের জ্যোতির্ময় ভিলকে তার উচ্চ ললাট মহোজ্জল, অতিদূর ভবিষ্যতের শিখরচুড়া হইতে র্তার জন্ত আগমনীর প্রভাতরাগিণী বাজিতেছে। সেই ভূম আজ আমার মধ্যেও আপনার আসন খুজিতেছেন। ওরে অকাল-জরা-জর্জরিত, আত্মঅবিশ্বাসী ভীরু, অসত্যভারাবনত মূঢ়, আজ ঘরের লোকদের লইয়া ক্ষুদ্র ঈর্ষায়, ক্ষুদ্র বিদ্বেষে কলহু করিবার দিন নয় ; আজ তুচ্ছ আশা, তুচ্ছ পদমানের জন্ত কাঙালের মতো কাড়াকড়ি করিবার সময় গেছে ; আজি সেই মিথ্যা অহংকার দিয়া নিজেকে ভুলাইয়া রাখিব না, যে অহংকার কেবল আপন গৃহকোণের অন্ধকারেই লালিত হইয়া স্পর্ধ করে, বিরাট বিশ্বসভার সম্মুখে যাহা উপস্থগিত লজ্জিত। অন্তকে অপবাদ দিয়া আত্মপ্রসাদলাভের চেষ্টা অক্ষমের চিত্তবিনোদন, আমাদের তাহাতে কাজ নাই। যুগে যুগে আমাদের পুঞ্জ পুঞ্জ অপরাধ জমিয়া উঠিল, তাহার ভারে আমাদের পৌরুষ দলিত, আমাদের বিচারবুদ্ধি মুমু — সেই বহু শতাব্দীর আবর্জনা আজ সবলে সতেজে তিরস্কৃত করিবার দিন। সম্মুখে চলিবার প্রবলতম বাধা আমাদের পশ্চাতে ; আমাদের অতীত তাহার সম্মোহনবাণ দিয়া আমাদের ভবিষ্যৎকে আক্রমণ করিয়াছে, তাহার ধূলিপুঞ্জে শুষ্কপত্রে সে আজিকার নূতন যুগের প্রতাতস্বর্ধকে স্নান করিল, নব-নব-অধ্যবসায়-শীল.আমাদের যৌবনধর্মকে অভিভূত করিয়া দিল— আজ নির্মম বলে আমাদের সেই পিঠের দিকটাকে মুক্তি দিতে হইবে তবেই নিত্যসম্মুখগামী মহৎ মছুঝত্বের সহিত যোগ দিয়া আমরা অসীম ব্যর্থতার লজ্জা হইতে বাচিব— সেই মনুষ্যত্ব যে মৃত্যুজয়ী, যে চিরজাগরূক চিরসন্ধানরত, যে বিশ্বকর্মর দক্ষিণহস্ত, জ্ঞানজ্যোতিরালোকিত সত্যের পথে যে চিরযাত্রী, যুগযুগের নব নব তোরণস্বারে যাহার জয়ধ্বনি উচ্ছ্বসিত হইয়া দেশদেশাস্তরে প্রতিধ্বনিত । বাহিরের দুঃখ শ্রাবণের ধারার মতো আমাদের মাথার উপর নিরস্তর ማለፀ