পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তুর জিনিস না হইয়া শাস্ত্রমত ও বাহ আচারকেই মুখ্য করিয়া তোলে তৰে সেই ধর্ম যত বড়ো অশাস্তির কারণ হয়, এমন আর-কিছুই না। এই 'ডগমা অর্থাৎ শাস্ত্রমতকে বাহির হইতে পালন করা লইয়া যুরোপের ইতিহাস কত বার রক্তে লাল হইয়াছে। অহিংসাকে যদি ধর্ম বল, তবে সেটাকে কর্মক্ষেত্রে ছুঃসাধ্য বলিয়া ব্যবহারে না মানিতে পারি, কিন্তু বিশুদ্ধ আইডিয়ালের ক্ষেত্রে তাহাকে স্বীকার করিয়া ক্রমে সে দিকে অগ্রসর হওয়া অসম্ভব নহে । কিন্তু বিশেষ শাস্ত্রমতের অনুশাসনে বিশেষ করিয়া যদি কেবল বিশেষ পশুহত্যা না করাকেই ধর্ম বলা যায়, এবং সেইটে জোর করিয়া যদি অন্ত ধর্মমতের মানুষকেও মানাইতে চেষ্ট৷ করা হয়, তবে মামুষের সঙ্গে মামুষের বিরোধ কোনে কালেই মিটিতে পারে না । নিজে ধর্মের নামে পশুহত্যা করিব অথচ অন্তে ধর্মের নামে পশুহত্যা করিলেই নরহত্যার আয়োজন করিতে থাকিব, ইহাকে অত্যাচার ছাড়া আর-কোনো নাম দেওয়া যায় না । আমাদের আশি। এই যে, চিরদিন আমাদের ধর্ম আচার প্রধান হইয়া থাকিবে না । আরোএকটি আশা আছে, একদিন হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে দেশহিতসাধনের একই রাষ্ট্রীয় আইডিয়াল যদি আমাদের রাষ্ট্ৰতন্ত্রে বাস্তব হইয়া উঠে তবে সেই অস্তরের যোগে বাহিরের সমস্ত পার্থক্য তুচ্ছ হইয়া যাইবে । অল্প দিন হইল, রেলগাড়িতে আমার এক ইংরেজ সঙ্গী জুটিয়াছিল। তিনি বেহার অঞ্চলের হাঙ্গামার প্রসঙ্গে গল্প করিলেন— সাহাবাদে কিম্বা কোনো-একটা জায়গায় ইংরেজ কাপ্তেন সেখানকার এক জমিদারকে বিদ্রুপ করিয়া বলিয়াছিলেন, “তোমার রায়তদের তোমরা তো ঠেকাইতে পারিলে না ! তোমরাই আবার হোমরুল চাও । জমিদার কী জবাব করিলেন শুনি নাই । সম্ভবত তিনি লম্বা সেলাম করিয়া বলিয়াছিলেন, ‘লা সাহেব, আমরা হোমরুল চাই না, আমরা অযোগ্য অধম। আপাতত আমার রায়তদের তুমি ঠেকাও । বেচারা জানিতেন, у о