পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর অনভ্যস্ত, আত্মরক্ষায় অক্ষম, আত্মকলাশসাধনে অসিদ্ধ, আত্মশক্তিতে নষ্টবিশ্বাস বহুকোটি নরনারীকে— রাখিয়া গেল এমন ক্ষেত্রে যেখানে প্রতিবেশী নৰ উদ্যমে জাগ্রত, নব শিক্ষায় অপরিমিত শক্তিশালী— তবে আমাদের সেই চিরদৈন্তপীড়িত অস্তহীন দুর্ভাগ্যের জন্ত কাহাকে আমরা দায়ী করিব ? আর যদি কল্পনাই করা যায় যে, মানবের পরিবর্তনশীল ইতিহাসের মাঝখানে একমাত্র ভারতে ইংরেজসাম্রাজ্যের ইতিহাসই ধ্রুব হইয়া অনন্ত ভবিষ্যৎকে সদৰ্পে অধিকার করিয়া থাকিবে, তবে এই কি আমাদের ললাটের লিখন যে, ভারতের অধিবাসীরা ष्ठैिश्चदिष्वि হইয়া থাকিবে, তাছাদের পরস্পরের মধ্যে দেশের কল্যাণকর্মবন্ধনের কোনো যোগ থাকিবে না ; চিরদিনের মতোই তাহাদের আশা ক্ষুদ্র, তাহাদের শক্তি অবরুদ্ধ, তাছাদের ক্ষেত্র সংকীর্ণ, তাহদের ভবিষ্যৎ পরের ইচ্ছার পাষাণপ্রাচীরে পরিবেষ্টিত ? এ পর্যন্ত ইংরেজের রাজত্বে আমরা এক-শাসন পাইয়াছি কিন্তু এক দায়িত্ব পাই নাই । তাই আমাদের ঐক্য বাহিরের । এ ঐক্যে আমরা মিলি না, পাশে পাশে সাজানো থাকি, বাহিরে বা ভিতরে একটু ধাক্কা পাইলেই ঠোকাঠুকি বাধিয়া যায়। এ ঐক্য জড় আকর্ষক, ইহ সজীব সকৰ্মক নয়। ইহা ঘুমস্ত মামুষের এক মাটিতে শুইয়া থাকিবার ঐক্য, ইহা সজাগ মাছুষের এক পথে চলিবার ঐক্য নহে । ইহাতে আমাদের গৌরব করিবার কিছু নাই, সুতরাং ইহা আনন্দ করিবার নহে ; ইহাতে কেবল স্তুতি করিতে পারি, নতি করিতে পারি, উন্নতি করিতে পারি না । এক দিন আমাদের দেশে যে সমাজ ছিল তাহ সাধারণের প্রতি আমাদের দায়িত্বের আদর্শকে সচেষ্ট রাখিয়াছিল । সেই দায়িত্বের ক্ষেত্র ছিল সংকীর্ণ, তখন আমাদের জন্মগ্রামকেই আমরা জন্মভূমি বলিয়া জানিতাম। তা হউক, সেই ছোটো সীমার মধ্যে ধনীর দায়িত্ব ছিল Ե Գ