পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তর এইটেই কি স্বপথ হইল ? দেশের ব্যাকুল চেষ্টাকে বিনা বাছনিতে এক দমে কবরস্থ করিলে তার প্রেতের উৎপাতকে কি কোনো দিন শাস্ত করিতে পারিবে ? ক্ষুধার ছটফটানিকে বাহির হইতে কানমলা দিয়া ঠাণ্ডা করিয়া চিরছুর্ভিক্ষকে ভদ্র আকার দান করাই যে যথার্থ ভদ্রনীতি এমন কথা তো বলিতে পারিই না, তাহ যে বিজ্ঞনীতি তাহাও বলা যায় লা । 赖 এই রকম চোরা উৎপাতের সময় সমুদ্রের ও পার হইতে খবর আসিল, আমাদিগকে দান করিবার জন্ত স্বাধীন শাসনের একটা খসড়া তৈরি হইতেছে। মনে ভাবিলাম, কর্তৃপক্ষ বুঝিয়াছেন যে, শুধু দমনের বিভীষিকায় অশাস্তি দূর হয় না, দক্ষিণ্যেরও দরকার। দেশ আমার দেশ, সে তো কেবল এখানে জন্মিয়াছি বলিয়াই নয় ; এ দেশের ইতিহাসস্থষ্টির ব্যাপারে আমার তপস্যার উপরে সমস্ত দেশের দাবি আছে বলিয়াই এ দেশ আমার দেশ, এই গ তীর মমত্ববোধ যদি দেশের লোক অনুভব করিবার উৎসাহ পায় তবেই এ দেশে ইংরেজ-রাজত্বের ইতিহাস গৌরবান্বিত হইবে । কালক্রমে বাহিরে সে ইতিহাসের অবসান ঘটিলেও অস্তরে তাহার মহিমা স্মরণীয় হইয়া থাকিবে । তা ছাড়া নিরতিশয় দুর্বলেরও প্রতিকূলতা নৌকার ক্ষুদ্রতম ছিদ্রের মতো । শাস্তির সময় নিরস্তর জল সেচিয়া সেই ফাট নৌকা বাওয়া যায়, কিন্তু তুফানের সময় যখন সকল হাতই দাড়ে হালে পালে আটক থাকে তখন তলার অতি তুচ্ছ ফাটলগুলিষ্ট মুশকিল বাধায়। রাগ করিয়া তার উপরে পুলিসের রেগুলেশন বা নন-রেগুলেশন লাঠি কিলে ফাটল কেবল বাড়িতেই থাকে। ফাকগুলিকে বুজাইবার জন্ত সময়মতো সামান্ত খরচ করিলে কালক্রমে অসামান্ত খরচ বঁাচে । এই কথা যে ইংলণ্ডের মনীষী রাষ্ট্রনৈতিকের বুঝিতেছেন না তাহ আমি মনে করি না । বুঝিতেছেন বলিয়াই হোমরুলের কথাটা উঠিয়াছে । Ե Շ)