পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর করে, অভিজ্ঞতার দোহাই পাড়ে এবং আমরাই ভারতসাম্রাজ্যের শিখরচুড়াকে অপরিমিত উচ্চ করিয়া তুলিয়াছি' এই বলিয়া ইহার অপরিমিত প্রশ্রয় দাবি করে । এই অভ্ৰভেদী অভিমানের ছায়াত্তরালে আমাদের ভাষা, আমাদের আশা, আমাদের অস্তিত্ব কোথায় ? ইহাকে উত্তীর্ণ হইয়া আপিসের প্রাচীর ডিঙাইয়া, ত্ৰিশ কোটি ভারতবাসীকে মানুষ বলিয়া দেখিতে পায় এমন অসাধারণ দৃষ্টিশক্তি করি কাছে প্রত্যাশা করিব ? ষে দূরবর্তী ইংরেজ যুরোপীয় আবহাওয়ার মধ্যে আছে বলিয়াই অন্ধ স্বার্থের কুহক কাটাইয়া ভারতবর্ষকে উদার দৃষ্টিতে দেখিতে পায়, ইছারা তাহাদিগকে জানায় ষে, নীচের আকাশের ধুলানিবিড় বাতাসের মধ্য দিয়া দেখাই বাস্তবকে দেখা, উপরের স্বচ্ছ আকাশ হইতে দেখাই বস্তুতন্ত্রবিরুদ্ধ । ভারতশাসনে দুরের ইংরেজের হস্তক্ষেপ করাকে ইহার স্পধিত অপরাধ বলিয়া গণ্য করে। ভারতবাসীকে এই কথাটা মনে রাখিতে হইবে, ইংরেজ বলিয়া যে একটি মহৎ জাতি আছে প্রকৃতপক্ষে সেই ষে ভারতশাসন করিতেছে তাহা নহে ; ভারত-দফতরখানার বহুকালক্ৰমাগত সংস্কারের অ্যালিডে কাচাবয়স হইতে জীর্ণ হইয়া যেএকটি আমলা-সম্প্রদায় আমাদের পক্ষে কৃত্রিম মানুষ হইয়া আছে আমরা তাহারই প্রজা । যে মানুষ তার সমস্ত মন প্রাণ হৃদয় লইয়া মাজুৰ, সে নয় ; যে মানুষ কেবলমাত্র বিশেষ প্রয়োজনের মাপে মাম্বুব, সেই তো কৃত্রিম মাস্থ্য । ফোটোগ্রাফের ক্যামেরাকে কৃত্রিম চোখ বলিতে পারি। এই ক্যামেরা খুব স্পষ্ট করিয়া দেখে কিন্তু সম্পূর্ণ করিয়া দেখে না, তাছা চলতিকে দেখে না, বাহাকে দেখা যায় না তাহাকে দেখে না। এইজন্স বলা বায় যে, ক্যামেরা অন্ধ হইয়া দেখে । সঙ্গীৰ চোখের পিছনে সমগ্র মাজুৰ আছে বলিয়া তাহার দেখা কোনো আংশিক প্রয়োজনের পক্ষে ৰত অসম্পূর্ণ হোক, মানুষের সঙ্গে মাছবের সম্পূর্ণ ব্যবহার-ক্ষেত্রে তাছাই ԽԵr