পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/১১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
আদিপর্ব্ব।
১১৩
স্থিরা লক্ষ্মীর্ভবেত্তস্য পুত্রদারাদিভিঃ সহ।

বহু দান কর তুমি শুনি লোকমুখে।
বার্ত্তা পেয়ে আইলাম তোমার সম্মুখে।।
পূর্ণ করি ধন দিবা আমারে হে রাম।
সকল কুটুম্বে যেন পূরে মনষ্কাম।।
শুনিয়া বলেন জামদগ্নির নন্দন।
সব ধন দিয়া আমি এই যাই বন।।
হেনকালে এলে তুমি ব্রাম্ভণ-কুমার।
কোন দ্রব্য দিয়া তুষ্টি করিব তোমার।।
পৃথিবীর মধ্যে মম নাহি অধিকার।
কশ্যপে দিলাম আমি সকল সংসার।।
আছে মাত্র প্রাণ আর ধনুঃশর দ্রোণ।
যাহা ইচ্ছা মম স্থানে মাগি লহ ধন।।
দ্রোণাচার্য্য মাগিলেন তবে ধনুর্ব্বাণ।
মন্ত্র সহ অস্ত্র দেন ভৃগুর সন্তান।।
ধনুর্ব্বেদে নিপুন হইয়া দ্রোণাচার্য্য।
পরে চলিলেন তিনি দ্রুপদের রাজ্য।।
অত্যন্ত দরিদ্র দ্রোণ না মগেন কারে।
পুত্রের দেখিয়া কষ্ট ভাবেন অন্তরে।।
বালক-কালের সখা দ্রুপদ রাজন।
তার স্থানে গেলে হবে দারিদ্র্য-ভঞ্জন।।
ভাবিয়া গেলেন দ্রোণ পাঞ্চালনগর।
উত্তরিলা যথায় দ্রুপদ নরবর।।
পিন্ধন মলিন জীর্ণ কটি মাত্র ঢাকে।
সকল শরীর শীর্ণ সদাকাল দুঃখে।।
রাজারে বলেন বহুকাল পরে দেখা।
অবধান কর রায় হই আমি সখা।।
এত শুনি নরপতি কটাক্ষেতে চায়।
নয়ন লোহিতবর্ণ কহে কম্পকায়।।
কোথাকার দ্বিজ তুমি দরিদ্র ভিক্ষুক।
অজ্ঞান বাতুল কিবা হইবে দুর্ম্মুখ।।
আমি মহারাজ হই পাঞ্চাল ঈশ্বর।
কোন্ লাজে সখা বল সভার ভিতর।।
ধনীর নির্ধন সখা কভূ না যুয়ায়।
সুর নরলোকে কেহ সখা নাহি হয়।।
কোথা সখ্য হইয়াছে নৃপতি ভিক্ষুকে।
সমানে সমানে সখ্য হয় অতি সুখে।।

উত্তমে অধমে সখ্য নাহি হয় সুখ।
অধমে উত্তমে দ্বন্দ সেইরূপ দুঃখ।।
কোথা হৈতে এলে তুমি দরিদ্র এখানে।
দেখেছি কি না দেখেছি নাহি পড়ে মনে।।
এতেক শুনিয়া তার নিষ্ঠুর উত্তর।
অভিমানে দ্রোণের কম্পিত কলেবর।।
সর্পবৎ বহে শ্বাস নেত্র দুটি শোণ।
মুহূর্ত্তেক স্তব্ধ হইয়া রহিলেন দ্রোণ।।
পুনশ্চ না দেখিলেন রাজার বদন।
কারে কিছু না বলিয়া করিলা গমন।।
তথা হৈতেযান দ্রোণ হস্তিনানগর।
দ্রোণে দেখি কৃপাচার্য্য হরিষ অন্তর।।
দারাপুত্র-সহ দ্রোণ থাকেন তথায়।
হেনমতে গুপ্তবেশে কতদিন যায়।।
মহাভারতের কথা অমৃত-সমান।
পাঁচালী প্রবন্ধে কাশীদাস বিরচেন।।

কুরু বালকদিগের বাল্যক্রীড়া।
একদিন মিলে সব কুরু পুত্রগণ।
নগর বাহিরে করে ক্রীড়া সর্ব্বজন।।
লোহার প্রকাণ্ড ভাঁটা ভূমিতে ফেলিয়া।
দণ্ড হাতে করি তাহা যায় তাড়াইয়া।।
আচম্বিতে লৌহ ভাঁটা দৈবনির্ব্বন্ধনে।
নিরুদক কূপ মধ্যে পড়িল তাড়নে।।
পড়ি গেল কূপে দেখি সকল কুমার।
তুলিবারে ভাঁটা যত্ন করিল অপার।।
কিন্তু কিছুতেই কৃতকার্য্য না হইল।
হেনকালে দ্রোণাচার্য্য তথায় আইল।।
দ্রোণে দেখি শিশুগণ জানায়ে বেদন।
তুলিবারে ভাঁটা শক্ত নহি কোনজন।।
দ্রোণ বলে ঈষীকায় করিব উদ্ধার।
ভোজ্য দিয়া তুষ্ট করিবা আমার।।
এত বলি কূশাঙ্গুরী কূপে দিল ফেলি।
ঈষীকা আনিয়া এক বলে হের তুলি।।
এত বলি মন্ত্র পড়ি ঈষীকা মারিল।
মন্ত্রতেজে লৌহ ভাঁটা অমনি ভেদিল।।