পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/১৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


 বৈজয়ন্তী মালা ইন্দ্র দিলেন প্রসাদ।
 হৃষ্ট হৈয়া অর্জ্জুনে ছাড়েন সিংহনাদ।।
 মহাভারতের কথা সুধাসিন্ধুব্রত।
 কাশীদাস কহে সাধু পিয়ে অনুব্রত।।
       ------
   কর্ণের সহিত অর্জ্জুনের যুদ্ধ।
   অর্জুন কর্ণের যুদ্ধ লোকেতে ভীষণ।
 করিলেন যেন যুদ্ধ শ্রী-রাম-রাবণ।।
 ক্রোধে ধনঞ্জয় বীর অতুল প্রতাপ।
 এক বাণে সৃজিলেন শত শত সাপ।।
 হাসিয়া গরুড় অস্ত্র এড়ে বীর কর্ণ।
 সকল ভুজঙ্গ ধরি গরাসে সুপর্ণ।।
 শত শত খগবর উড়য়ে আকাশে।
 ভুজঙ্গ গিলিয়া পার্থ গিলিবারে আসে।।
 অগ্নি অস্ত্র এড়ি পার্থ করেন অনল।
 আগুনে পক্ষীর পক্ষ পুড়িল সকল।।
 ঝাঁকে ঝাকে অগ্নিবৃষ্টি কর্ণের উপর।
 দেখি কর্ণ এড়িলেন অস্ত্র জলধর।।
 বৃষ্টি করি নিবারণ কৈল বৈশ্বানর।।
 মুষলধারায় জল বর্ষে পার্থোপর।।
 পুনরাপি ধনঞ্জয় পূরিয়া সন্ধান।
 বৃষ্টি নিবারিতে এড়িলেন দিব্যবাণ।।
 বায়ু অস্ত্র মহাবীর পূরিয়া সন্ধান।
 উড়াইলেন জল অস্ত্রে পার্থ বলবান্।।
 বায়ু অস্ত্রে উড়াইল যত মেঘচয়ে।
 মহাবাতে কাঁপাইল রবির তনয়ে।।
 মারিয়া আকাশ অস্ত্র সংহারিল বাত।
 এইমত দুইজনে হয় অস্ত্রাঘাত।।
 ঢাকিল সূর্য্যের তেজ না দেখি যে আর।
 দিন দুই প্রহরে হইল অন্ধকার।।
 আকাশে প্রশংসা করে যতেক সমর।।
 বিস্মিত হইয়া কর্ণ বলয়ে বচন।
 কহ ছদ্মবেশধারী কে তুমি ব্রাম্ভণ।।
 কিংবা ভস্মানলে ছদ্মরূপে সহস্রাক্ষ।
 কিংবা তুমি জগন্নাথ কিংবা বিরূপাক্ষ।।
 কিংবা তুমি ধনুর্ব্বেদী কিংবা তুমি রাম।
 কিংবা তুমি জীবন্ত পাণ্ডবার্জ্জুন নাম।।
 এত জন মধ্যে তুমি হবে কোন্ জন।
 মম ঠাঁই অন্য কেবা জীবে এতক্ষণ।।
 এত শুনি হাসিয়া বলেন ধনঞ্জয়।
 কি হবে আমার তোরে দিলে পরিচয়।।
 মম পরিচয়ে তোর হবে কোন কাজ।
 দরিদ্র ব্রাম্ভণ আমি তুমি মহারাজ।।
 একা দেখি বেড়িলা লইয়া লক্ষ্ লক্ষ।
 হারি মাগ পরিচয় হইয়া অশক্য।।
 যদি প্রাণে ভয় হয় যাও পলাইয়া।
 কাতরে না মারি আমি দিলাম ছাড়িয়া।।
 অর্জ্জুনের বাক্যে শুনি আরুণি কুপিত।
 অরুণ নয়ন যুগ্ম ঘোরে বিপরীত।।
 অরূণনন্দন বীর অরুণ প্রতাপে।
 অরুণসদৃশ বাণ বাসাইল চাপে।।
 আকর্ণ পূরিয়া কর্ণ এড়িলেন বাণ।
 অর্দ্ধ পথে অর্জ্জুন করিল খান খান।।
 যত অস্ত্র ফেলে কর্ণ তত অস্ত্র কাটি।
 নিরস্ত্র করিয়া অস্ত্র এড়েন কিরীটী।।
 চারি বাণে কাটেন রথের চারি হয়।
 সারিথি কাটেন তার বীর ধনঞ্জয়।।
 বিরথ হইল কর্ণ যুদ্ধের ভিতর।
 হাহাকার করি ধায় যত নরবর।।
 কর্ণরক্ষাহেতু  সবে বেড়িল অর্জ্জুনে।
 অর্জ্জুন করেন শর বরিষ্ণ রণে।।
 বরিষার কালে যেন বরিষয়ে মেঘে।
 দিনকর-তেজ যেন সব-ঠাঁই লাগে।।
 কারো কারো অঙ্গে অস্ত্র করেন প্রহার।
 সহস্র সহস্র বীর হইল সংহার।।
 কাহার কাটেন মুণ্ড কুণ্ডল সহিত।
 নাসা শ্রুতি কাটেন দেখিতে বিপরীত।।
 ধনুক সহিত কার' কাটে বাম হাত।
 গড়াগড়ি যায় কেহ বুকে বাজে ঘাত।।
 ভাদ্রমাসে পাকা তাল পড়ে যেন ঝড়ে।
 পুঞ্জে পুঞ্জে স্থানে স্থানে পার্থ কাটি পাড়ে।।