পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/১৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
আদিপর্ব্ব।]
১৮৯
আয়ুরিষ্টার্থ সিদ্ধ্যর্থ-মস্কাকং বরদো ভব॥

পূর্ব্বেতে এমন বর দিলন ধুর্জ্জটি।
পুত্র না হইল মম হইল কন্যাটি।।
পুত্রবৎ করি কন্যা করি যে পালন।
মম রাজ্যে রাজা হৈতে নাহি আর জন।।
সেই হেতু করিলাম মনে এ বিচার।
এই কন্যা দিয়া তারে দিব রাজ্যভার।।
কুরুবংশে শ্রেষ্ঠ তুমি না শোভে এ কথা।
এই বাক্য সত্য কর তবে দিব সুতা।।
ইহার গর্ভেতে যেই জ্যেষ্ঠপুত্র হবে।
সেই সে আমার রাজ্যে রাজত্ব করিবে।।
সত্য করিলেন পার্থ, রাজা কন্যা দিল।
একবর্ষ তথাকারে রহিতে হইল।।
পরে পার্থ চলিলেন দক্ষিন সাগর।
স্নান দান সর্ব্বত্র করেন বীরবর।।
এক স্থানে তথায় দেখেন ধনঞ্জয়।
পঞ্চতীর্থ বলি তারে মুনিগণে কয়।।
অশ্বমেধ ফল স্নানে হয়ত বিশেষে।
অন্ধ হৈয়া পড়িয়াছে কেহ না পরশে।।
বিস্মিত হইয়া পার্থ জিজ্ঞাসেন লোকে।
হেন তীর্থ লোকে না পরশে কোন পাকে।।
মুনিগণ বলে এই পুণ্যতীর্থ গণি।
কুম্ভীরের ভয়ে কেহ না পরশে পানি।।
শুনিয়া গেলেন স্নানে কুন্তীর নন্দন।
নিষেধিল তাঁহারে যাইতে সর্ব্বজন।।
সৌভদ্র নামেতে তীর্থ পশি ধনঞ্জয়।
স্নান করিলেন বীর নিঃশঙ্ক-হৃদয়।।
শব্দ শুনি কুম্ভীরিণী আইল নিকটে।
অর্জ্জুনের পায়ে ধরে দশন বিকটে।।
বলে ধরি কূলে তারে তুলেন অর্জ্জুন।
গ্রাহরূপ ত্যাজি কন্যা হইল তখন।।
অদ্ভুত মানিয়া জিজ্ঞাসেন পার্থবীর।
কে তুমি কি হেতু হৈল কুম্ভীর শরীর।।
কন্যা বলে আমি বর্গা নামেতে অপ্সরী।
কুবেরের ইষ্টা পঞ্চ আমরা কুমারী।।
সুবেশা হইয়া যাই যথা ধনেশ্বর।
পথে দেখি তপ করে এক দ্বিজবর।।
চন্দ্রসূর্য্য সম তেজ মহাতপোধন।
অহঙ্কারে তাঁরে করিলাম বিড়ম্বন।।
তপোভঙ্গ করিবারে গেনু তার পাশ।
নৃত্যগীতবাদ্য সহ হাস্য পরিহাস।।
কদাচিত বিচলিত নহিল ব্রাম্ভণ।
ক্রোধে শাপ মো সবারে সিল ততক্ষণ।।
অনেক বৎসর থাক গ্রাহরূপ ধরি।
করিলাম বহু স্তুতি করযোড় করি।।
ব্রাম্ভণের শীলতা-সর্ব্বশাস্ত্রে জানি।
দয়ায় শাপান্ত আজ্ঞা কর মহামুনি।।
মুনি বলে গ্রাহরূপে তীর্থের ভিতর।
থাক, মুক্ত হবে, যবে ছোঁবে গিয়া নর।।
ব্রাম্ভণের বচন শুনিয়া পঞ্চজন।
বাহুড়িয়া যাই ঘর হইয়া বিমন।।
আচম্বিতে দেখিনু নারদ তপোধন।
জানাইনু তাঁহারে যতেক বিবরণ।।
নারদ বলেন নাহি হইও বিমন।
পঞ্চতীর্থে গ্রাহরূপে থাক পঞ্চজন।।
তীর্থ যাত্রা হেতু যে আসিবে ধনঞ্জয়।
তাহার পরশে মুক্ত হইবে নিশ্চয়।।
সত্য হৈল যা বলিল ব্রাম্ভন-কুমার।
তোমার পরশে মুক্তি হইল আমার।।
চারি তীর্থে চারি সখী আছে যে আমার।
কৃপা করি তাহাদের করহ উদ্ধার।।
বিনয় শুনিয়া তার হ'য়ে দয়াবান্।
চারি-তীর্থে চারি-জনে করিলেন ত্রাণ।।
মুক্ত হৈয়া নিজ স্থানে গেল পঞ্চজন।
নিষ্কণ্টকে তীর্থ করি গেলেন অর্জ্জুন।।
পুনঃ বীর মণিপুরে করেন গমন।
চিত্রাঙ্গদা সহ পুনঃ হইল মিলন।।
চিত্রাঙ্গদা-গর্ভে জন্মাইলেন নন্দন।
নাম রাখিলেন তার শ্রীবভ্রুবাহন।।
কত দিন বঞ্চি পুত্র স্থাপিয়া রাজ্যেতে।
পুনঃ তীর্থ করিতে গেলেন তথা হৈতে।।
গোকর্ণাদি তীর্থে স্নান করি ক্রমে ক্রমে।
প্রভাস তীর্থেতে যান পৃথিবী পশ্চিমে।।