পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


           বন্দে শৈলসূতা-সুতং গণপতিং সিদ্ধিপ্রদং কামদং।।

স্থাবর জঙ্গম তুমি তুম ধরাধর।
আকাশ পাতাল তুমি দেব নাগ নর।।
তোমার দৃষ্টিতে দেব এ তিন ভূবণ।
স্থানে স্থানে সকল তোমার নিয়োজন।।
ইন্দ্রে স্বর্গ যমে দিলা সংযমনীপুর।
কুবেরে কৈলাশ দিলা ধনের ঠাকুর।।
জলমধ্যে আমারে যে করিয়াছ স্থিতি।
চিরকাল তবাজ্ঞায় করি যে বসতি।।
কোন দোষে দোষী নাহি তব আমি পদে।
তবে কেন এত আমি পড়িনু প্রমাদে।।
দ্বিতীয়-সুমেরু-সম মন্দর পর্ব্বত।
মোর পুরমধ্যেতে মথিত অবিরত।।
যোজন পঞ্চাশ কোটি পৃথিবী বিস্তার।
হেন ক্ষিতি তিলবৎ শিরে রহে যার।।
অবিরত সেই স্থল মথে সেই শেষ।
সুরাসুর ত্রৈলোক্যে ঘর্ষণ বিশেষ।।
জীব জন্তু যতেক আছিল যত জন।
একটিও না রহিল লইয়া জীবন।।
ভাঙ্গিল আমার পুর হৈল লন্ড ভন্ড।
না জানি কাহার দোষে মোর হইল দন্ড।।
এতকাল দিয়া স্থল সিন্ধুজল-মাঝ।
কোথায় রহিব আজ্ঞা দেহ দেবরাজ।।
এতেক প্রার্থনা যদি করিল বরুণ।
শুনিয়া করুণাময় হৈল সকরুণ।।
আশ্বাসি বলেন হরি শুন জলেশ্বর।
না করিহ চিন্তা কিছু না করিহ ডর।।
দুর্ব্বাশার শাপে লক্ষ্মী ছাড়ি স্বর্গস্থল।
তিনপুরে ত্যাজি প্রবেশিল সিন্ধুজল।।
লক্ষ্মী হত হৈয়া ক্ষ্ট পায় সর্ব্ব্জন।
সমুদ্র মথিল সবে তাহার কারণ।।
লক্ষ্মী যদি পাই তবে মথনে কি কাজ।
বিশেষ তোমার ক্লেশ হইল জলরাজ।।
এত বলি মন্থন করিল নিবারণ।
শুনি হৃষ্ট হইল বরুণ ততক্ষণ।।
সর্ব্বরত্নসার যেই ত্রৈলোক্য-দুর্লভ।
গোবিন্দের গলে মণি দিলেন কৌস্তভ।।
লক্ষ্মী দিয়া প্রণমিয়া গেলেন জলেশ।
মন্থন নিবারি তবে যান হৃষিকেশ।।
মহাভারতের কথা অমৃত লহরী।
কাশী বলে শুনিলে তরিবে ভববারি।।
         ----
   নারদের কৈলাশ গমন ও মহাদেবকে সমুদ্র-মন্থন-সংবাদ প্রদান।
  সুরাসুর যক্ষ রক্ষ গন্ধর্ব্ব কিন্নর।
সবে সিন্ধু মথিল না জানে মাত্র হর।।
দেখিয়া নারদ মুনি হৃহএ চিন্তিত।
কৈলাসে হরের ঘরে হৈল উপনীত।।
প্রণমিলা শিব-দুর্গা দোঁহার চরণ।
আশীষ করিয়া দেবী দিলেন আসন।।
নারদ বলেন গিয়াছিনু সুরপুরে।
শুনিনু মথিল সিন্ধু যত সুরাসুরে।।
বিষ্ণু পান কমলা কৌস্তভ মণি আদি।
ইন্দ্র উচ্চৈঃশ্রবা ঐরাবত গজনিধি।।
নানা রত্ন পায় লোক মেঘে পায় জল।
অমৃত আমরবৃন্দ কল্পতরুবর।।
নানারত্ন মহৌষধি পায় নরলোক।
এই হেতু হৃদয়ে জন্মিল বড় শোক।।
স্বর্গ মর্ত্ত্য পাতালেতে বৈসে যত জনে
সবে ভাগ পাইল কেবল তোমা বিনে।।
সে কারণে তত্ত্ব জানিতে আইলাম হেথা।
সবার ঈশ্বর তুমি বিধাতার ধাতা।।
তোমারে না দিয়া ভাগ সবে বাঁটি নিল।
এই হেতু মোর অঙ্গে ধৈর্য্য না হইল।।
এতেক নারদ মুনি বলিলা বচন।
শুনি কিছু উত্তর না কৈল ত্রিলোচন।।
দাখি ক্রোধে কম্পান্বিত দেবী ত্রিলোচনা।
নারদেরে কহে কিছু করিয়া ভর্ৎসনা।।
কাহাকে এতেক বাক্য কহ মুনিবর।
বধিরে বলিলে যেন না পায় উত্তর।।