পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


           প্রণাম মন্ত্র--একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদর গজাননং।

কণ্ঠেতে হাড়ের মালা বিভূষণ যার। কৌস্তভাদি মনি রত্নে কি কাজ তাহার।। কি কাজ চন্দনে যার বিভূষণ ধূলি। অমৃতে কি কাজ যার ভক্ষ্য সিদ্ধিগুলি।। মাত্ঙ্গে কি কাজ যার বলদ বাহন। পারিজাত্র কিবা কাজ ধুতুরাভরণ।। সকল চিন্তিয়া মম অঙ্গ জ্বর জ্বর। পূর্ব্বের বৃত্তান্ত সব জান মুনিবর।। জানিয়া উহাকে দক্ষ পূজা না করিল। সেই অভিমানে তনু ত্যাজিতে হইল।। দেবী-বাক্য শুনে হাসি বলে ভগবান। যা বলিলে হৈমবতী কিছু নহে আন।। বাহনে-ভূষণে মম কিবা প্রয়োজন। আমি লই তাহা যা না লয় অন্যজন।। ভক্তিতে করিয়া বশ মাগিলেন দাস। অম্লান অম্বর পট্টাম্বর দিব্যবাস।। ঘৃণা করি ব্যাঘ্রচর্ম্ম কেহ না লইল। তেঁই মোরে বাঘাম্বর পরিতে হইল।। অগুরু চন্দন নিল কুঙ্কুম কস্তুরী। বিভূতি না লয় সেই বিভূষণ ধরি।। মণিরত্নহার নিল মুকুতা প্রবাল। কেহ না লইল তেঁই আছে হাড়মাল।। ধুতুরা কুসুম নাহি লয় কোনজন। তেঁই অংএ ধুতুরে করিনু বিভূষণ।। রথ গজ লইল বাহন পরিচ্ছদ। কেহ নাহি লয় তেঁই আছয়ে বলদ।। প্রথমেতে দক্ষ মোরে না জানি পূজিল। অজ্ঞান-তিমিরে দক্ষ মোহিত হইল।। তেঁই মোরে না জানিয়া পূজা না করিল। সমুচিত তার ফল তখনি পাইল।। পশুর সদৃশ হইল ছাগলের মুন্ড। মূত্র-পুরীষেতে পুর্ণ হইল যজ্জকুন্ড।। ব্রম্ভা বিষ্ণু ইন্দ্র যম বরুন তপন। মোরে না পূজিয়া দবী আছে কোন জন।। দেবী বলে দ্বারা-পুত্রে গৃহী যেই জন। তাহার না হয় যুক্তি এসব কারণ।। বিভূতি বৈভব বিদ্যা সঞ্চয় যতনে। সংসার বিমুখ ইথে আছে কোন জনে।। যে জন সংসারেতে বিমুখ এ সকলে। কাপুরুষ বলিয়া তাহারে লোকে বলে।। ব্রম্ভা বিষ্ণু ইন্দ্রে তুমি যেমত পূজিত। সাক্ষাতেই সে সকল হইল বিদিত।। রত্নাকর মথিয়া নিলেক রত্নগণ। কেহ না পুঁছিল তোমা করিয়া হেলন।। পার্ব্বতীর এই বাক্য শুনিয়া শঙ্কর। ক্রোধেতা অবশ অঙ্গ কাঁপে থর থর।। কাশীরাম কহে কাশীপতি ক্রোধমুখে। বৃষভ সাজাতে আজ্ঞা করিল নন্দীকে।।

      -------

সমুদ্র মন্থন স্থানে মহাদেবের আগমন।

পার্ব্বতীর কটুভাষ শুনি ক্রোধে দিগবাস,

         আঁটিয়া পরিল বাঘবাস।

বাসুকী নাগের দড়ি, কাঁকালে বান্ধিল ফিরি

         করে তুলি নিল মৃগপাশ।।

কপালেতে শশীকলা, কণ্ঠেতে কপালমালা,

        করযুগে কঞ্চুক কঙ্কণ।

ভানু বৃহদ্ভানু শশী ত্রিবিধ প্রকার ঋষি,

       ক্রোধে যেন প্রলয়ের কারণ।।

যেন গিরি হেমকূটে, আকাশে লহরী উঠে,

       বেগে গঙ্গা মধ্যে জটাজুটে।

রতন মণির আভা, কোটি চন্দ্র মুখ-শোভা,

       ফণি মণি বেড়া যে মুকুটে।।

গলে দিল হার সাপ, টঙ্করী পিনাকচাপ,

       ত্রিশূল খট্টাঙ্গ নিল করে।

সাজিল শিবের সেনা, যক্ষ রক্ষ অগণনা,

       ভূত প্রেত ভূচর খেচরে।।

আগে ধায় যত দানা, চারদিকে দিয়ে হানা,

       মুখরব মহা কোলাহলে।

ডম্বুরের ডিমি ডিমি, আকাশ পাতালভূমি,

      কম্প হৈল ত্রৈলোক্যমণ্ডলে।।