পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/২৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


·ථG 8 কেশিনী বলিল শুন রাজার নন্দিনী । বাহকের যত কৰ্ম্ম দেবমধ্যে গণি ॥ রন্ধন সামগ্ৰী যত ঋতুপর্ণ নৃপে । , মাংস আদি পাঠাইয়া দিল তব বাপে ॥ শূন্য কুম্ভে কিঞ্চিত করিল দৃষ্টিপাত । পূর্ণকুম্ভ তখনি হইল অকস্মাৎ ॥ সেই জলে সব দ্রব্যজাত প্রক্ষালিল । তৃণ কাষ্ঠ ছিল কিন্তু অনল না ছিল ৷ তৃণমুষ্টি হস্তে করি কাষ্ঠ মধ্যে দিল । দৃষ্টিমাত্র তৃণকাষ্ঠ আপনি জ্বলিল ॥ ক্ষণমাত্রে সর্ববদ্রেব্য করিল রন্ধন । ভৈমী বলে আর কেন বুঝেছি কারণ ॥ কেশিনী এখনি তুমি যাও আরবার। ব্যঞ্জন আনহ কিছু রন্ধন তাহার ॥ কেশিনী মাগিল গিয়া বাহুকে ব্যঞ্জন। দময়ন্তী স্থানে গিয়া দিল সেইক্ষণ ॥ খাইয়া ব্যঞ্জন ভৈমী হরষিত মন । নিশ্চয় জানিল এই নলের রন্ধন ॥ তবে পুত্র কন্যা দিল কেশিনী সংহতি । কি বলে বুঝিয়া তুমি আইস শীঘ্ৰগতি ॥ কেশিনীর সঙ্গে দেখি নন্দন-নন্দিনী । শীঘ্ৰগতি উঠি কোলে করে নৃপমণি ॥ দোহা মুখ দেখি রাজা কান্দে উচ্চৈঃস্বরে । পুনঃ পুনঃ চুম্ব দিয়া আলিঙ্গন করে ॥ | কতক্ষণে কেশিনীরে বলিল বচন । দুই শিশু দেখি মম স্থির নহে মন ॥ এইমত কন্যা পুত্র আছে যে আমার । বহুদিন দেখা নাহি সঙ্গে দোহাকার ॥ সেই অনুতাপ চিত্তে হইল রোদন । i অপত্য-বিচ্ছেদ-তাপ নহে সম্বরণ ॥ পাছে কেহ দেখিয়া কহিবে কোন কথা । ল’য়ে যাও দুই শিশু কাৰ্য্য নাহি হেথা ॥ এতেক শুনিয়া তবে কেশিনী চলিল । যতেক প্রস্তাব গিয়া ভৈমীরে কহিল ॥ শুনিয়া বৈদভী ব্যগ্র হইল দর্শনে । স্কত গিয়া জানাইল জননীর স্থানে ॥ প্রণাম মন্ত্র—সদ্য পাতকসংহন্ত্রী সম্বো দুঃখ বিনাশিনী। [ মহাভারত | আজ্ঞা যদি কর যাই নলে দেখিবারে । শুনিয়া বৃত্তান্ত রাণী আজ্ঞা দিল তারে ॥ তনয় তনয়া সঙ্গে করিয়া কামিনী । পতি দরশনে যায় মরালগামিনী ॥ নলের সহিত দময়ন্তীর মিলন । অশ্বশালে গিয়া ভৈমী,নিকটে দেখিয়া স্বাম জটিল মলিন জীর্ণবাপ । দুঃখানলে অঙ্গ দহে, চক্ষে অশ্রুজল বে সকরুণে কহে মৃদুভাষ ॥ হেদে রে বাহুকনাম, এবা দেখি কোন ঠা ধাৰ্ম্মিক পুরুষ একজন। ক্ষুধাতৃষ্ণাপরিশ্রমে স্ত্রী কোলে আছিল ঘু এক ছাড়ি পলাইল বন ॥ বিনা নল পুণ্যশ্লোক, পৃথিবীর অন্য লো কে করিল কহ নাম ধরি । সদাকাল অনুব্রতা, বিশেষ পুত্রের মাত, কোন দোষে নহে দোষকারী ॥ যমাগ্নি বরুণ ইন্দ্র, ত্যজিয়া অমরবৃন্দ, করিল বরণ যেই জনে । সদা বাঞ্ছা অনুবভা, কি হেতু এমন বৃত্তি, ত্যাগ করি নির্জন কাননে ॥ ! সভায় করিলে সত্য, রাখিব তোমায় নিত্য, করিয়া প্রাণের পরাৎপর। নল হেন সত্যবাদী, এমন করিল যদি, আর কি করিবে অন্য নর li দময়ন্তী-বাক্য শুনি, লাজে কহে নৃপমণি, পাইলে কে ছাড়ে হেন রামা । রাজ্যভ্রষ্ট লক্ষীভষ্ট, করিলেক যেই দুষ্ট, বিচ্ছেদ করায় তোমা আমা ৷ তোমারে ছাড়িয়া বনে, হের দেখ বরাননে, অস্থিচৰ্ম্ম প্রাণমাত্র জাগে । ইহা না ভাবিয়া চিতে,দেখিলা আমারে জীতে না বুঝিয়া মম অনুযোগে ॥ কলিছাড়ি গেলম্রাম, তেঁই দেখিলাম তোমা, ক্ৰোধ সম্বরছ শশীমুখী ।