পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


      প্রার্থনা মন্ত্র-- দেবেন্দ্রমৌলিমন্দার-মকরন্দকণারুণাঃ ।

শ্রমেতে অশক্ত-কলেবর সর্ব্ব্জনা।

ঘনশ্বাস বহে যেন আগুনের কণা।। অত্যন্ত ঘর্ষণ নাগ সহিতে নারিল। সহস্র মুখের পথে বিষ বাহিরিল।। সিন্ধুর ঘর্ষণে অগ্নি সর্পের গরল। দেবের নিশ্বাস-অগ্নি মন্দর অনল।। চারি অগ্নি এক হইয়া এক হৈল। সমুদ্র হইতে আচম্বিতে নিঃসারিল।। প্রাতঃ হৈতে দিনকর তেজে যেন বাড়ে। দাবানল-তেজে যেন শুষ্ক বন পোড়ে।। যুগান্তের যম যেন হইল অনল। মুহূর্তেকে ব্যাপিলেক সমুদ্রের জল।। দহিল সবার অঙ্গ বিষের জ্বলনে। রহিতে না পারে ভঙ্গ দিল সর্ব্ব্জনে।। পলায় সহস্র চক্ষু কুবের বরুণ। অষ্টবসু নবগ্রহ অশ্বিনীনন্দন।। অসুর রাক্ষস যক্ষ যত ছিল আর। সকলের মনেতে লাগিল চমৎকার।। পলাইয়া গেল যত ত্রৈলোক্যের জন। বিষন্ন-বদনেতে চাহেন ত্রিলোচন।। দূরেতে থাকিয়া দেবগণ করে স্তুতি। রক্ষা কর ভূতনাথ অনাথের পতি।। তোমা বিনা রক্ষাকর্ত্তা নাহি দেখি আন। সংসার হইল নষ্ট তোমা বিদ্যমান।। রাখ রাখ বিশ্বনাথ বিলম্বনা সয়। ক্ষণেক হইলে আর হইবে প্রলয়।। দেবতাগণের শুনি কাকুতি বচন। বিষে দগ্ধ হয় সৃষ্টি দেখি ত্রিলোচন।। বিশেষ চিন্তেন তিনি পুর্ব্ব অঙ্গীকার। এবার মথনে সিন্ধু রত্ন যে আমার।। আপন অর্জ্জিত সৃষ্টি তাহে করে নাশ। হৃদয়ে চিন্তিয়া আগু হন কৃত্তিবাস।। সমুদ্র জিনিয়া বিষ আকাশ পরশে। আকর্ষণ করি হর নিলেন গণ্ডুষে।। দূরে থাকি সুরাসুর দেখয়ে কৌতুকে। করিলেন বিষপান একই চুমুকে।। অঙ্গীকার পালন স্ব্ধর্ম দেখিবারে। কণ্ঠেতে রাখেন বিষ না লন উদরে।। নীলবর্ণ কণ্ঠ বিষ পিয়ে বিশ্বনাথ। নীলকণ্ঠ নাম তেঁই হইল বিখ্যাত।। আশ্চর্য্য দেখিয়া যত ত্রৈলোক্যের জন। কৃতাঞ্জলি করি হরে করেন স্তবন।। তুমি ব্রম্ভা বিষ্ণু শিব-ধনের-ঈশ্বর। তুমি যম সূর্য্য বায়ু সোম বৈশ্বানর।। তুমি শেষ বরুণ নক্ষত্র বসু রুদ্র। তুমি স্বর্গ ক্ষিতি অধঃ পর্ব্বত সমুদ্র।। যোগ জ্ঞান বেদ শাস্ত্র তুমি যজ্ঞ জপ। তুমি ধ্যান ধারণা সে তুমি উগ্রতপ।। অকালে করিলা তুমি এ মহাপ্রলয়। কি করিব মোরা আজ্ঞা দেহ মৃত্যুঞ্জয়।। এত শুনি অনুজ্ঞা দিলেন মহেশ্বর। রাখ ল'য়ে যথাস্থানে আছিল মন্দর।। মন্থন নিব্বৃত্ত কর আর নাহি কাজ। অনেক পাইলে কষ্ট দেবের সমাজ।। এত শুনি আনন্দিত হৈল দেবগণ। লইতে মন্দর সবে করয়ে যতন।। অমর তেত্রিশ কোটি অসুর যতেক। মন্দর তুলিতে যত্ন করিল অনেক।। কার' শক্তি নহিল তুলিতে গিরিবর। তুলিয়া লইল গিরি শেষে বিষধর।। যথাস্থানে মন্দর থুইল ল'য়ে শেষ। নিবারিয়া সবে গেল যার যেই দেশ।। কাশীরাম দাস কহে করিয়া বিনতি। অনুক্ষণ নীলকণ্ঠ-পদে রহে মতি।।

       ------

অমৃতের নিমিত্ত ও সুরাসুরের যুদ্ধ ও শ্রীকৃষ্ণের মোহিনীরূপ ধারণ

মুনিগণ বলে শুন সূতের নন্দন।

শুনিলাম যে কথা সে অদ্ভুত কথন।। অমর অসুর মিলি সমুদ্র মথিল। উপজিল যত রত্ন দেবতারা নিল।।