পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৩৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S)& 8 রন্ধন ব্যঞ্জন অন্ন যে কিছু আছয় । অল্পেতে হইব তৃপ্ত কহিলু নিশ্চয় ॥ আলস্য ত্যজিয়া উঠ করহ তল্লাস । বিলম্ব ন সছে আর ছাড় উপহ্লাস ॥ কৃষ্ণের বচন শুনি কৃষ্ণ গুণবতী । দেখাইতে পাকপত্র আনে শীঘ্ৰগতি ॥ জানিয়া কহিল দেবী দেখ জগন্নাথ । দেখিয় কৌতুকে কৃষ্ণ পাতিলেন হাত ॥ শাকের সঙ্গিত এক অন্ন মাত্র ছিল । ঈশ্বরে প্রদান হেতু অনন্ত হইল ॥ কৌতুকে উঠিয়া তবে দেব জগন্নাথ । উদগীর করিয়া দেন উদরেতে হাত ॥ দ্রৌপদীরে কহেন আমার ক্ষুধা গেল । আজিকার ভোজনে পরম তৃপ্তি হৈল ॥ ইহা বলি পূনরায় তুলেন উদগার । ত্ৰিভূবনে সেই মত হইল সবার । সৰ্ব্বভূতে আত্মারূপে সেষ্ট নারায়ণ । র্তাহার তৃপ্তিতে তৃপ্ত হইল ভুবন ॥ হেথায় দুৰ্ব্বাস ঋষি সঙ্গ শিষ্যগণ । বুঝিতে ন পারিলেন ইহার কারণ ॥ মন্দানলে উদর পূর্ণিত সবাকার । সঘনে নিশ্বাস বহে উঠিছে উদগীর । বিস্ময় মানিয়া তবে কহে মনিরুজ । নিকটে ডাকিয় মত শিষ্যের সমাজ । মুনি বলিলেন শুন সর্বব শিষ্যগণ । বুঝিতে ন পারি কিছু ইহার কারণ ॥ অকস্মাৎ হৈল দেখ উদর আধুlান । পাছতেছি যত কষ্ট নাহি পরিমাণ ॥ অনুমান করি কিছ না পারি বুঝিতে । পথশ্রান্তে এমন কি পরিবে হইতে ॥ শিষ্যগণ বলে যে কহিলা মহাশয় । আম! সবাকার মনে হইল বিস্ময় ॥ সন্ধ্যা হেতু যাই মুনি প্রভাসের জলে । শরীর দহিতেছিল ক্ষুধার অনলে ॥ অকস্মাৎ এইমত হৈল সবাকার । উদর পূরণে ঘন উঠে ধুমোদগার ॥ i অন্য অন্য বিচার করেন জনে জন । কেহ না বলিল কিছু লজ্জার কারণ " মুনি বলে আশ্চর্য্যে ডুবিল মম মন । ব্রহ্মাণ্ড ভাবিয়া কিছু না পাই কারণ ॥ যখন সন্ধ্যায় আসি প্রভাসের তীরে । রন্ধন করিতে বলিলাম যুধিষ্ঠিরে ॥ ংযোগ করিল তার করি প্রাণপণ । কোন লাজে তারে গিয়া দেখাব বদন ॥ বুঝিয় বিধান তবে করহ বিচার। শিষ্যগণ বলে প্রভু কি কহিব তার ॥ আজি তথা গিয়া লজ্জা পাল কি কারণ । উঠিতে শকতি নাহি কে করে ভোজন । ঈশ্বর করিলে কালি উঠিয়া বিহানে । অতিথি হইয়া সবে যাব তার স্থানে ॥ ইহার উপায় আর নাহি মহাশয় । মুনি বলিলেন কথা মম মনে লয় ॥ এত বলি শয়ন করিল সৰ্ব্বজন । জানিলেন সব তত্ত্ব দৈবকী-নন্দন ॥ কৃষ্ণ সহ গেলেন যেখানে যুধিষ্ঠির । সবাকার সম্মুখে কহেন যদুবার ॥ মুনির কারণে মনে না করিবে ভয় । আজি না আসিবে মুনি জানিও নিশ্চয় ॥ স্নানদান করি কালি প্রভাসের কূলে । ভোজন করিবে সবে আসিয়া সকালে ! শুনিয়া কৃষ্ণের মুখে এতেক বচন । ধৰ্ম্ম বলে বিলম্বে ভালই এতক্ষণ ॥ তোমার অসাধ্য দেব আন্থে কোন কৰ্ম্ম পাণ্ডবকুলের আজি হৈল পুনজ স্ম ৷ বিস্তর কহিয়া আর মাহি প্রয়োজন । সহায় সম্পদ মম তুমি নারায়ণ ॥ ন। জানি পূৰ্ব্বেতে কত করিনু কুকৰ্ম্ম । সে কারণে দুঃখে দুঃখে গেল মম জন্ম । প্রথম বয়সে বিধি দিল নানা শোক । অল্পকালে জনক গেলেন পরলোক ] গোয়াইনু সেই কাল পরের আলয়ে । দুঃখ ন জানিমু অতি অজ্ঞান সময়ে ॥ পারাবার বিহারিণি গঙ্গে । বিৰুদ্ধ বধু কৃত-তরলাপাঙ্গে ॥ [ মহাভারত :