পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


              র্মাণিক্যমৌলি-মরিণাঙ্গ-রুচিং ত্রিনেত্রং।।

পথে যেতে যেতে সমুদ্র সেখিল দুইজন। পর্ব্বত আকার তাহে জলচরগণ।। শতেক যোজন কেহ বিংশতি যোজন। কুম্ভীর কচ্ছপ মৎস আদি জন্তুগণ।। হেনমতে কৌতুক দেখিয়া দুই জন। উচ্চৈঃশ্রবা অশ্ব যথা করিল গমন।। নিকটেতে গিয়া দোঁহে করে নিরীক্ষণ। কৃষ্ণবর্ণ দেখে ঘোড়া অতি সুলক্ষণ।। দেখিয়া বিনতা হৈল বিষণ্ণ-বদন। অঙ্গীকার কৈল সপত্নীর দাসীপণ।।

      ------

গ্অরুড়ের জন্ম ও সূর্য্যের রূপে অরুণের স্থাপন

 হেনমতে দাসীপনে আছেন বিনতা।

মহাবীর গরুড়ের জন্ম হৈল হেথা।। ডিম্ব ফাটি বাহির হইল আচম্বিতে। দেখিতে দেখিতে দেহ লাগিল বাড়িতে।। প্রাতঃ হৈতে যেন ক্রমে সূর্য্যতেক বাড়ে। বনে অগ্নি দিলে যেন দশ দিক্ বেড়ে।। কামরূপী বিহঙ্গম মহাভয়ঙ্কর। নিস্বাসে উড়ায়ে যায় যতেক শিখর।। বিদ্যুৎ আকার অঙ্গ লোহিত লোচন। ক্ষণমাত্রে মুণ্ড গিয়া ঠেকিল গগন।। যুগান্তরের অগ্নি যেন দেখে সর্ব্ব্জনে। সুরাসুর কম্পবান হইল গর্জ্জনে।। অগ্নি হেন জানি সবে করি যোরকর। অগ্নির উদ্দেশ্যে স্তব করিল বিস্তর।। অগ্নি বলে আমারে এ স্তুতি কর কেনে। আপনা সম্বর বলি বলে দেবগণে।। অগ্নি বলে আমি নহি বিনতা নন্দন। সর্ব্বলোক হিতকারী হিংস্রক হিংসন।। না করিহ ভয় কেহ থাক মম সঙ্গে। আনন্দিত হয়ে সবে দেখহ বিহঙ্গে।। এত শুনি দেবগণ অগ্নির বচন। যোড়হাত করি করে গরিড়ে স্তবন।। ভীমরূপ তোমার দেখিতে ভয়ঙ্কর। সম্বরহ নিজ-রূপ বিনতা-কোঙর।। তোমার তেজে চক্ষু মেলিবারে নারি। তোমার গর্জ্জণে লাগে কর্ণদ্বয়ে তালি।। কশ্যপের পুত্র তুমি হও দয়াবান্। নিজ তেজ সম্বরহ কর পরিত্রাণ।। দেবতার স্তবে তুষ্ট হইল খগেশ্বর। আশ্বাসিয়া সম্বরিল নিজ কলেবর।। তবে পক্ষীরাজ বীর অরুণে লইয়া। আদিত্যের রথে তারে বসাইল গিয়া।। বিষম সুর্য্যের তেজে পোড়ে ত্রিভূবন। অরুণের আচ্ছাদনে হৈল নিবারণ।। মুনিগণ বলে কহ ইহার কারণ। কি হেতু ত্রিভূবন দহেন তপন।। সৌতি বলে যেই কালে অমৃত বাটিল। মায়া করি রাহু তথা অমৃত খাইল।। হেনকালে সুর্য্য বাক্যে দেব নারায়ণ। চক্রেতে তাহার মুণ্ড করেন ছেদন।। সূর্য্যের হইল পাপ তাহার কারণ। সেই ক্রোধে রাহু গ্রাসে পাপগ্রহ দিনে।। সুর্য্যের হইল ক্রোধ যত দেবগণে। ডাকিয়া বলিনু আমি সবার কারণে।। সবে দেখে কৌতুক আমায় করে গ্রাস। এই হেতু সৃষ্টি আমি করিব বিনাশ।। আপনার তেজেতে পোড়াব ত্রিভূবন। এত চিন্তি মহাতেজ ধরিল তপন।। দেবগণ নিবেদিল ব্রম্ভার গোচর। ত্রৈলোক্য দহিতে তেজ ধরে দিনকর।। বম্ভা বলে ভয় না করহ দেবগণ। ইহার উপায় এক করিব রচন।। কশ্যপের পুত্র হবে বিনতা-উদরে। রবিতেজ নিবারিবে সেই মহাবীরে।। কিছুদিন কষ্ট সহি থাক সর্ব্ব্জন। এত শুনি প্রবোধ পাইল দেবগণ।।

      ----