পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৩৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সভাপর্ব। ] কতদিনে বৃহদ্ৰথ পুত্রে রাজ্য দিয়া । ভাৰ্য্যা সহ বনে গেল ব্রহ্মচৰ্য্য নিয়া ॥ ক্তরাসন্ধ রাজা হৈল বলে মহাবল । নিজ ভুজবলেতে শাসিল ভূমণ্ডল ॥ দুই সেনাপতি হংস ডিম্বক তাহার। সর্বত্র অভয় আস্ত্রে অভেদ আকার ॥ তিন জন মহাবীর অজেয় সংসারে । চতুর্থ জামাত কংস মহাবল ধরে ॥ আমা হৈতে ভোজপতি যবে হ’ল হত । তথা হৈতে গদা প্লহারিল বাহ দ্ৰথ ॥ শতেক যোজন গদা এল আচম্বিতে । মথুরা কপিল যেন গিরি বজ্রাঘাতে ॥ সংগ্রামে সাজিয়া আসে অষ্টাদশ বার । ত্রয়োদশ অক্ষৌহিণী সহ পরিবার ॥ হংস নামে এক রাজা ছিল সঙ্গে তার । বলভদ্র হাতে তার হইল সংহার ॥ মরিল মরিল হংস হৈল এই শবদ । শুনিয়া মগধ লোক হইলেক স্তব্ধ ॥ ডিম্বক আছিল সেই রাজ্যের রক্ষণ । শুনিল সংগ্রামে হ’ল ভ্রাতার মরণ ॥ সহিতে নারিল, শোকে হইল অস্থির। ডুবিয়া যমুন-জলে ত্যজিল শরীর ॥ জরাসন্ধ সহ তবে হংস গেল ঘর । শুনিল মরিল শোকে ডুবিয়া সোদর ॥ হেনমতে ডুবিয়া মরিল দুইজন । একমাত্র জরাসন্ধ আছয়ে দুর্জন ॥ সংগ্রামে জিনিতে র্তারে না দেখি ভুবনে । উপায় আছয় এক চিন্তিয়াছি মনে ॥ মল্লযুদ্ধ বিনা তার না হয় নিধন । বৃকোদর বাহুবলে করিবে সাধন ॥ আমার হৃদয় যদি জান মহাশয় । আমার বচন তবে করহ প্রত্যয় ॥ পৌরুষ বিভব যদি বাঞ্ছ নরপতি । ভীমাৰ্জ্জুন দেহ রাজা আমার সংহতি ॥ কৃষ্ণের বচন শুনি ধৰ্ম্মের নন্দন । একদৃষ্টে চান ভীমাৰ্জ্জুনের বদন ॥ দ্বিজানুষ্টেয়-সৎকৰ্ম্ম-সাক্ষিণে ব্রহ্মণে নমঃ ॥ | పెరిరి হৃষ্টমুখ দুই ভাই দেখি নরপতি । কহেন মধুর বাক্যে গোবিন্দের প্রতি । কি কারণে এমত বলিল যত্নরায় । তোমা বিনা পাণ্ডবের কি আছে উপায় ॥ লক্ষী পরামুখ যারে সে তোমা না জানে। সহজে পাণ্ডববন্ধু খ্যাত ত্রিভুবনে ॥ তব নাম নিলে ভয় নাহি ত্ৰিজগতে । তার কি আপদ যার থাকিবা সঙ্গেতে ॥ এত বলি নরপতি দুই ভাই ল’য়ে । গোবিন্দের চরণে দিলেন সমপিয়ে ॥ মহাভারতের কথা অমৃতের ধার । কাশীরাম দাস কহে রচিয়া পয়ার ॥ মগধরাজ্যে ভীমাৰ্জ্জুন সহিত শ্ৰীকৃষ্ণের যাত্র । শুভক্ষণ করিয়া চলেন তিন জন । পদব্রজে ধরি ব্রহ্মচারীর লক্ষণ ॥ পদ্মসর লঙ্ঘিয়। পৰ্ব্বত কালকূট । গণ্ডকী ঘর্ঘর বর্ত বিষম সঙ্কট ॥ সরযু অযোধ্য। আর নগর মিথিলা । ভাগীরথী সরস্বতা যমুনা আইলা ॥ পার হৈয়া পূর্বব মুখে যান তিন জনে । গেলেন মগধ রাজ্যে তারা কত দিনে ॥ চৈত্ররথ আদি করি পঞ্চ মহাগিীর । তাহার মধ্যেতে বৈসে গিরি ব্রজপুরী ॥ অনুপম দেশ সেই দেখিতে সুন্দর । ধন ধান্ত গো মহিষ সহিত নগর ॥ ভীম নে বলেন গোবিন্দ মহামতি । এই পঞ্চ গিরি মধ্যে নগর বসতি ॥ পঞ্চ পৰ্ব্বতের কথা শুন দুই জন । শক্ৰ দেখি দ্বfর রুদ্ধ হয় ততক্ষণ । আর এক আশ্চৰ্য্য আছিয়ে দুয়ারেতে । তিন গোট ভেরা শব্দ করে আচম্বিতে ॥ শক্ৰ দেখি ভেরা শব্দ করয়ে যখন । সজাগ হইয়া সেন করয়ে সাজন ॥ শত্ৰুবাপী অৰ্ব্বদ এ দুই নাগবর। যার ভয়ে রিপু নাহি প্রবেশে নগর ॥