পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৪২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


o নৃত্যন্ত-মিন্দুশকলাভরণং বিলোক্য [ মহাভারত । যুধিষ্ঠির বচনে সদাই কৃষ্ণ খাটে । সমস্ত ভূপতি কর দেয় করপুটে ॥ আর করিলেক দেখ কপট পাণ্ডব । মম স্থানে ধন রত্ন রাখিলেক সব ॥ দেখিতে দেখিতে মম ভ্রান্তি হৈল মন । ; অপমান কৈল যত শুনহ কারণ ॥ { মায়া সভামধ্যে কিছু না পাই দেখিতে । স্ফটিকের বেদী সব হেন লয় চিতে ॥ জল জানি তুলিলাম পিন্ধন বসন । দেখিয়া হাসিল লোক যত সভাজন ॥ তথা হৈতে কতদূরে দেখি জলাশয় । স্ফটিক বলিয়া তায় মনেভ্রম হয়। পড়িলাম মহাশব্দে সবস্ত্র তাহাতে । চতুর্দিকে লোকগণ লাগিল হাসিতে ॥ ভীম ধনঞ্জয় আর যত সভাজন । দ্রৌপদীর সহিত যতেক নারীগণ ॥ সৰ্ব্বজন আমারে করিলে উপহাস । যুধিষ্ঠির পরিবারে দিল অন্য বাস ॥ বলিল কিঙ্করগণে বস্ত্ৰ আনিবারে । পরাইল বাপী হৈতে তুলিয়া আমারে ॥ কার প্রাণে সহে পিতা এত অপমান । আর যে করিল পিতা কর অবধান ॥ স্থানে স্থানে স্ফটিকের নিৰ্ম্মিত প্রাচীর । দ্বার হেন বুঝিলাম আসিতে বাহির ॥ মস্তকে বাজিল ঘাত পড়িলু ভুতলে । মাদ্রৗপুত্ৰ ছুই আসি ত্বরিত তুলিলে ॥ মম দুঃখে দুঃখিত হইল দুইজন ৷ হাতে ধরি দেখাইল দুয়ার তখন ॥ এই হেতু হইল আমার অভিমান। কিবা তার লক্ষী লই কিবা যাক প্রাণ ॥ ধৃতরাষ্ট্র বলে পুত্র হিংসা বড় পাপ । ংসক জনের পুত্র জন্মে বড় তাপ ॥ অহিংসক পাণ্ডবের না করিবে হিংসা । শান্ত হয়ে থাক পুত্র পাইবে প্রশংলা ॥ সেইমত যজ্ঞ করিবারে যদি মন । কহ পুত্র নিমন্ত্ৰণ করি রাজগণ ॥


च्च्च~

আমারে গৌরব করে সব নৃপবর । ততোধিক রত্ন দিবে আমারে বিস্তর ॥ ইহ না করিয়া যাহা করহ বিচার । অসৎ মার্গেতে গেলে দূষিবে সংসার ॥ পরন্দ্রব্য দেখি হিংসা না করে যে জন । স্বধৰ্ম্মেতে সদা বঞ্চে সন্তোষিত মন ॥ স্বকৰ্ম্মে উদূযোগ করে পর উপকারী । সদাকালে মুখে বঞ্চে কি দুঃখ তাহারি ॥ পর নহে নিজ ভাই পাণ্ডুর নন্দন । দ্বেষভাব তারে না করিও কদাচন ॥ দুৰ্য্যোধন বলে পিতা প্রজ্ঞাবান নই। বহু শুনিয়াছি বলি শাস্ত্র কথা কই ॥ | সে জন কি জানে পিতা শাস্ত্রের বিবাদ । চাটু যেন নাহি জানে পিষ্টকের স্বাদ ॥ রাজা হ’য়ে এক আজ্ঞা নছিল যাহার । তারে রাজা নাহি বলি শাস্ত্র অনুসার ॥ রাজা হ’য়ে সন্তোষ না রাখিবে কখন । ধনে জনে শান্তি না রাখিবে কদাচন। শক্রকে বিশ্বাস আর নাহি কদাচন । নমুচি দানবে যথা সহস্ৰলোচন ॥ এক পিতা হৈতে হৈলে সবার উৎপত্তি । বহুকাল প্রীত ছিল নমুচি সংহতি ॥ সমরে তাহারে ইন্দ্র করিল সংহার। নিষ্কণ্টকে ভোগ করে অদিতি কুমার ॥

শত্রু অল্প যদি তবু নাশের কারণ।

মূলস্থ বল্মীকি যেন গ্রাসে তরুগণ ॥ আপনি জানিয়া কেন করহ বঞ্চন । নিশ্চয় জানিনু চাহ আমার নিধন ॥ পুনঃ ধৃতরাষ্ট্র বহু মধুর বচনে । নিবারিতে না পারিয়া পুত্ৰ দুৰ্য্যোধনে ॥ দৈবগর্তি জানিয়া বিদুরে ডাকাইল । যুধিষ্ঠিরে আন গিয়া বলি আজ্ঞা দিল ॥ বিদুর বলিল রাজা শ্রেয় নহে কথা । কুলনাশ হইবে জানিয়া পাই ব্যথা ॥ অন্ধ বলে আমারে যে না কহিল আর । দৈববশ দেখি এই সকল সংসার ॥