পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৪৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সভাপৰ্ব্ব । ] করল বিদুর আজ্ঞা করিতে হেলন । রথে চড়ি ইন্দ্রপ্রস্থে করিল গমন ॥ বিদুরেরে সমাগত করি দরশন। যথাবিধি পূজা করিলেন পঞ্চজন ॥ জিজ্ঞাসা করেন কহ ভদ্রে সমাচার । কি কারণে অন্যচিত্ত দেখি যে তোমার ॥ বিদুর বলেন রাজা চল হস্তিনায়। বিলম্ব না কর ধৃতরাষ্ট্রের আজ্ঞায় ॥ আর যে বলিল তাহ শুনহ হুমতি । তব সভা তুল্য সভা করিয়াছে তথি । ভ্ৰাতৃ সহ মম সভা দেখ হেথা আসি । দূত আদি ক্রীড়া কর সভামধ্যে বসি ॥ সভায় বসিলে মম তৃপ্ত হয় মন । এই হেতু আমারে পাঠাইল রাজন ॥ যুধিষ্ঠির বলে দৃতি অনর্থের ঘর । দৃতক্রীড়া ইচ্ছে যত জ্ঞানভ্রষ্ট নর ॥ নে হোক সে হোক আমি অধীন তোমার । কি কাৰ্য্য করিব মোরে কহ সমাচার ॥ বিছর বলেন দৃতি অনর্থের মূল । দৃত্তেতে অনর্থ জন্মে ভ্ৰষ্ট হয় কুল ৷ করলাম অন্ধ নৃপে অনেক বারণ । আমারে পাঠায় তবু না শুনে বচন ॥ বুঝিয়া করহ রাজা যাহা শ্রেয় হয় । থাই বা না যাহ তথা যেবা চিত্তে লয় ॥ ধৰ্ম্ম বলিলেন আজ্ঞা দেন কুরুপতি । গুরু আজ্ঞা ভঙ্গ কৈলে নরকে বসতি ॥ পজিয়ের ধৰ্ম্ম তাত জানহ যেমন : স্থাতে কিম্বা যুদ্ধে যদি করে আবাহন ॥ বিশেষ আমার সত্য প্রতিজ্ঞা বচন । স্থত কিম্বা যুদ্ধে আমি না করি হেলন ॥ এই বলি যুধিষ্ঠির সহ ভ্রাতৃগণ । ಡ್ದ কহিয়া গেলেন ততক্ষণ ॥ বিপাশে বান্ধি যেন লোকে ল’য়ে যায় । *ভাসই পঞ্চভাই যান হস্তিনায় ॥ ধৃতরাষ্ট্র ভাষ্ম দ্রোণ কৃপ সোমদত্ত । গান্ধীর সহিত অন্তঃপুর নারী যত । হৃষ্টাং ভজ ভগবতীং ভবদুঃখ হন্ত্রীং ॥ ২৭১ একে একে সবাকারে করি সম্ভাষণ । রজনী বঞ্চেন তথা স্বথে পঞ্চজন ॥ পুণ্যকথা ভারতের অমৃত লহরী। কাশী কহে শুনিলে তরয়ে ভববারি ॥ পাশাতে যুধিষ্ঠিরের সর্বস্ব হরণ । রজনী প্রভাতে পঞ্চ পাণ্ডুর নন্দন । সুখে দিব্য সভামধ্যে করিল গমন ॥ একে একে সন্তাষ করিলা সৰ্ব্বজনে । বসিলেন অপূৰ্ব্ব কনক সিংহাসনে ॥ হেনকালে শকুনি আনিল পাশ সারি। যুধিষ্ঠিরে কহে তবে প্রবঞ্চনা করি ॥ পুরুষের মনোরম দূতক্রীড়া জানি । দূতক্রীড়া কর আজি ধৰ্ম্ম নৃপমণি ॥ যুধিষ্ঠির বলে পাশা অনথের ঘর। ক্ষত্রে পরাক্রম ইথে না হয় গোচর ॥ কপট এ কৰ্ম্ম ইথে কপট বাখান । অনীতি কৰ্ম্মেতে মম নাহি লয় মন ॥ শকুনি বলয়ে পাশা স্ববুদ্ধির কৰ্ম্ম । দূত কিম্বা যুদ্ধ এই ক্ষত্রিয়ের ধৰ্ম্ম ॥ যুদ্ধেতে অজাতি জাতি নাহিক বিচার। হীনজাতি যবনাদি করয়ে প্রহার ॥ পাশার সমান সেও বুদ্ধির সমর। ক্ষত্ৰধৰ্ম্ম আছে হেন বলে মুনিবর ॥ যুধিষ্ঠির বলে পাশা অনর্থের মূল । অধৰ্ম্ম করিয়া কেন জিনিবে মাতুল ॥ অন্য নাহি মনে মম দ্বিজসেবা বিন । এ কৰ্ম্ম মাতুল আমি না করি কামনা ॥ শকুনি বলিল তুমি যাও নিজস্থানে । পণ্ডিতে পণ্ডিতে ক্রীড়া পণ্ডিত সে জানে ॥ যদি দূতক্রীড়া ইচ্ছা নাহিক তোমার । ! নিবৰ্ত্তিয়া গৃহে তবে যা ৫ স্থাপনার ॥ } যুধিষ্ঠির বলে যবে ডাকিলা আমারে । সত্য মম না টলিবে পাশার সমরে । সত্য আমি খেলিব পাশার আবাহনে । তোমার সহিত পণ করে কোন জনে ॥