পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাবস্ক্রিপ্ট লেখা গোপাল গোবিন্দ মুকুন্দশৌরে।।

 ক্ষুদ্র এক কীট তাহে লোহিতবরণ।
 কৃষ্ণবর্ণ মুখ তার দেখিল রাজন।।
 হেনকালে ভূপতি বলিল মন্ত্রিগণে।
 ব্রম্ভশাপে মুক্ত আজি হই সাত দিনে।।
 মুহূর্ত্তেক অস্ত হৈতে আছে দিনমণি।
 ব্রম্ভশাপ ব্যর্থ হৈলে অদ্ভুত কাহিনী।।
 এই হেতু শঙ্কা বড় হইতেছে মনে।
 অব্যর্থ ব্রাম্ভণ শাপ হইল খণ্ডনে।।
 এই পোকা তক্ষক হউক এইক্ষণ।
 আমাকে দংশুক থাক ব্রাম্ভণ বচন।।
 এতেক বলিয়া পোকা মস্তকে রাখিল।
 শুনিয়া সকল মন্ত্রী না হ'ক বলিল।।
 হেনমতে রাজা মন্ত্রী করয়ে বিচার।
 ততক্ষণে তক্ষক ধরিল নজাকার।।
 প্রলয়ের মেঘ যেন করয়ে গর্জ্জন।
 শব্দ শুনি ভয়েতে পলায় মন্ত্রিগণ।।
 ভয়ঙ্কর মুর্ত্তি দেখি সবে হৈল ডর।
 জড়াইয়া লাঙ্গুলে রাজার কলেবর।।
 সহস্রেক ফণা ধরে ছত্রের আকার।
 শব্দ করি ব্রম্ভতালু দংশিল রাজার।।
 ভূপতীরে দংশিয়া চলিল অন্তরীক্ষে।
 রক্তপদ্ম-আভা তনু দেখে সর্ব্বলোকে।।
 অগ্নিহোত্র ঘৃতে তনু করিল দাহন।
 শ্রাদ্ধ শান্তি হৈল তাঁর বিহিত যেমন।।
 মন্ত্রিগণ সহ যুক্তি করি সব প্রজা।
 তাঁর পুত্র জন্মেজয়ে কৈল তবে রাজা।।
 বয়সে বালক শিশু বড় বুদ্ধিমন্ত।
 পরাক্রমে জন্মেজয় দুষ্টের দুরন্ত।।
 রাজার দেখিয়া গুণ যত মন্ত্রিগণ।
 কাশীরাজ কন্যা সহ করিল মিলন।।
 বপুষ্টমা নামে কাশীরাজের নন্দিনী।
 নানা রত্নে ভূষিয়া দিলেন-নানা মণি।।
 বিভা করি জন্মেজয় আসে গৃহে লৈয়া।
 চিরদিন ক্রীড়া করে আনন্দিত হৈয়া।।
       -----
 জরৎকারু মুনির জরৎকারী ত্যাগ
 সৌনকাদি মুনি বলে শুন ওহে সূত।
 কহিলা সকল কথা শুনিতে অদ্ভুত।।
 জরৎকারু মুনিকে বাসুকী ভগ্নী দিল।
 কহ কি রূপেতে আস্তিকের জন্ম হৈল।।
 সৌতি বলে জরৎকারু বিবাহ করিয়া।
 পূর্ব্ববৎ বনে ভ্রমে একাকী হইয়া।।
 জরৎকারী ভগিনীকে বাসুকি কহিল।
 কহ ভগ্নী মুনি সহ কি কথা হইল।।
 রক্ষণ ভরণ মুনি করে কি তোমার।
 সত্য করি কহ মুনি অগ্রেতে আমার।।
 জরৎকারী বলে আমি মুনি নাহি দেখি।
 কোথা যাই কোথা থাকি বঞ্চি যে একাকী।।
 এত শুনি বাসুকীর বিষন্ন বদন।
 আর দিনে মুনির পাইল দরশন।।
 বাসুকী বলেন মুনি কর অবধান।
 তোমাকে আপন ভগ্নী করিলাম দান।।
 রাখিয়াছিলাম যত্নে তোমার কারণ।
 বিবাহ করিয়া তারে করিবে পালন।।
 মুনি বলে মোর চিত্তে বিবাহ না ছিল।
 পিতৃগণ দুঃখে বিভা করিতে হইল।।
 গৃহবাস করিতে না লয় মোর মন।
 শরীরে না সয় মোর কাহার বচন।।
 তোমার ভগিনী সত্য করুক গোচরে।
 কখন না, কোন বাক্য বলিবা আমারে।।
 যদি বলে ত্যাজিব আমার সত্যবাণী।
 বাসুকী বলিল সত্য যাহা বল মুনি।।
 মম ভগ্নী করিবে অপ্রিয় যেই দিনে।
 নিশ্চয় করিও ত্যাগ তাহারে সে দিনে।।
 তবে ত বাসুকি গৃহ করিয়া নির্ম্মাণ।
 রত্নময় গৃহ দিল মণিময় স্থান।।
 জরৎকারী মুনি সনে করিল পয়ান।
 কতদিনে নাগিনী করিল ঋতুস্নান।।
 ধরিল নাগিনী গর্ভ মুনির ঔরসে।
 শশী সম বাড়ে যেন দিবসে দিবসে।।