পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৪৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8ዓ & শশিশকলধরং মুণ্ডমালং । । [ মহাভারত ' দোহে দোহা অস্ত্র মারে যেবা যত জানে। ইচ্ছামৃত্যু হ’ক তব সংসার ভিতরে । Iাহিক মরণ নিজ ইচছা হৈলে মরে ॥ টীষ্ম বলে নাম তার ঘোষে ভূমণ্ডলে । ক্ষত্র-কুলান্তক রামে জিনিলেক বলে ॥ মহাভারতের কথা অমৃত-সমান । কাশীরাম দাস কহে শুনে পুণ্যবান ॥ অৰ্জ্জুনের সহিত কর্ণের স“গ্রাম ও কর্ণের পলায়ন । হাসি তবে উত্তরেরে কহে মহামতি । কর্ণের সম্মুখে রথ লও শীঘ্ৰগতি ॥ কর্ণের সম্মুখে ছিল যত রথিগণ । অৰ্জুন উপরে করে বাণ বরিষণ ॥ দেখিয়া হাসিয়ামের কুন্তীর নন্দন । দিব্য অস্ত্র গাওঁীবে যোড়েন তখন ॥ না হ’তে নিমেল পূর্ণ ছাড়িতে নিশ্বাস । শরজালে অন্ধকার করে দিকৃপাশ ॥ একেশ্বর ধনঞ্জয় কুরুসৈন্য দলি । মহাবাতাঘাতে যেন পাড়িল কদলী ॥ মারিয়া সকল সৈন্য পার্থ ধনুৰ্দ্ধর । সলাইয়া দেন রথ কর্ণের উপর ॥ কর্ণের অনুজ ছিল বিকর্ণ নামেতে । আtগুলিল পার্থ আসি ধনুঃশর হাতে ॥ হাসেন অর্জন বীর দেখিয়া বিকৰ্ণ । ভুজঙ্গে পাইল যেন বুভূক্ষু স্থপর্ণ । দুই বাণে ধ্বজ ধনু কাটিয়া তাহার । অৰ্দ্ধচন্দ্র বাণে কাটিলেন মুণ্ড তার ॥ বিকৰ্ণ পড়িল দেখি কর্ণে হৈল ক্ৰোধ । টঙ্কারিয়া ধনুগুণ যায় মহাযোধ ॥ দোহে দেখি দোহা কার হইল হরষ । কণে চাহি ধনঞ্জয় বলেন কর্কশ ॥ রাধাস্থত ত্যজ গৰ্ব্ব ত্যজ সিংহনাদ । আজি তোর ঘূসইব সংগ্রামের সাধ । হাসিয়া বলেন কৰ্ণ দৈব বলবান । যারে খুজি সেই জন এল বিদ্যমান ॥ এতবলি কৰ্ণ বীর পূরিল সন্ধান । অৰ্জ্জুন উপরে প্রহারিল দশবাণ ॥ বরিষা কালেতে যেন বর্ষে মেঘগণে ॥ ক্রোধে পার্থ দিব্য অস্ত্র করেন সন্ধান কাটিয়া কর্ণের ধ্বজ করে খান খান ॥ চারি অশ্ব কাটে তবে কাটে ধমুগুণ । সারথির মাথা তবে কাটেন অৰ্জ্জুন ॥ শীঘ্ৰতর আর রথ যোগায় সারথি । ! আর ধনুকেতে গুণ দিয়া শীঘ্ৰগতি ॥ লজ্জিত হইয়া কৰ্ণ সর্পবাণ এড়ে । সহস্ৰ সহস্র সপ পার্থে গিয়া বেড়ে ॥ এড়েন গরুড় বাণ ইন্দ্রের-নন্দন । ধরিয়া সকল ফণী করিল ভক্ষণ ॥ এইমত দুই বীরে করিল সংগ্রাম । চক্ষু পালটিতে দোহে না করে বিশ্রাম দোহে মহাবীৰ্য্যবন্ত কেহ নহে উন । দৈববলে বলাধিক হইল অৰ্জ্জুন ॥ ইন্দ্রদত্ত দিব্য অস্ত্র পূরিল সন্ধান । একবারে ছাড়িলেন অষ্টগোট বাণ । দুই দুই ভুজে বক্ষে যুগল ললাটে ! বৰ্ম্ম ভেদী চৰ্ম্ম ছেদী অঙ্গে অস্ত্র ফুটে ; ফুটিয়া কর্ণের অঙ্গে বহিল শোণিত । রথেতে পড়িল কৰ্ণ হইয়া মূচ্ছিত ॥ মুচ্ছিত দেখিয়া পার্থ সংবরেণ বাণ । রথ ল’য়ে সারথি যে কৈল পলায়ণ । কৰ্ণ ভঙ্গ দেখি তবে যত রথী কুরু ! বেড়িল অর্জুনে আসি হয়ে শতপুর । অনন্ত ফণীন্দ্র যথা মথে সিন্ধুজল । একাকী অর্জুন মথিলেন কুরুবল । যে ছিল পলায় সবে লইয়া পরাণ । অৰ্জ্জুনে দেখিয়া যেন শমন সমান ॥ দেখিয়া বিরাট পুত্ৰ মানিল বিস্ময় । কৃতাঞ্জলি হয়ে তবে পার্থ প্রতি কয় । এ তিন ভুবনে এই অস্তুত কাহিনী । চক্ষে কি দেখিব কভু কর্ণে নাহি শুনি । পূৰ্ব্বে যে তোমার কৰ্ম্ম শুনিমু শ্রবণে । সাক্ষাতে দেখিমু তাহা আপন নয়নে ?