পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৫৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


@r○b" হাসি-কৃষ্ণ কহিলেন শুনহ ফাস্তুনি । ভীষ্মরথ সারথি চারি অশ্ব গণি ॥ ইহাতে সহস্ৰ পদ করিলে চালন । কপিধ্বজ রথের শুনহ বিবরণ ॥ স্বমেরু সদৃশ ধ্বজে বৈসে হনুমান । রথ বেড়ি আছে যত দেবতা প্রধান ॥ পৰ্ব্বত সদৃশ ভারি রথ ভয়ঙ্কর । বিশ্বম্ভর মুক্তি আমি তাহার উপর ॥ ইহাতে ত্রিপদ পাছু চলিল যখন । সাধু সাধু মহাবীর গঙ্গার নন্দন ॥ বিস্ময় মানেন শুনি নন্দন কুন্তীর । রথি দশ সহস্ৰ মারিল ভীষ্মবীর ॥ জয়শঙ্খ বাজাইয়। রথ ফিরাইল । আনন্দেতে কুরুগণ শিবিরে চলিল ॥ পাণ্ডব নিবৃত্তি রণে, সহ যদুবীর । সৈন্য সহ আইলেন, আপন শিবির ॥ মহাভারতের কথা অমৃত-সমান । কাশীরাম দাস কহে শুনে পুণ্যবান ॥ যুধিষ্ঠিরের প্রতি দ্রুপদ রাজার প্রবোধ । বলেন বৈশম্পায়ন শুনহ রাজন। কৃষ্ণ প্রতি কহিলেন ধৰ্ম্মের নন্দন ॥ পিতামহ পরাক্রম অদ্ভুত কথন । যুদ্ধেতে নাহিক জয় বুঝিনু কারণ ॥ শুনিয়া দ্রুপদ রাজা বুঝায় ধৰ্ম্মেরে । পূৰ্ব্ব কথা কেন রাজা না কর অন্তরে ॥ শৈশবে একত্র বাস করিতে যখন । বিরোধ করিত প্রায় ভীম দুৰ্য্যোধন ॥ এ কারণে ধৃতরাষ্ট্র মন্ত্রণা করিয়া । সবারে বারণাবতে দিল পাঠাইয়া ॥ ছুষ্ট মন্ত্রী সহ যুক্তি করি ছুৰ্য্যোধন । তথা এক জতুগৃহ করিল রচন ॥ দৈবযোগে ব্রাহ্মণ ভোজন সেই দিনে । ব্যাধপত্নী এল এক অমের কারণে ॥ তার সঙ্গে পঞ্চপুত্ৰ দেখি তব মাত । জিজ্ঞাসিল কহ সত্য কিবা তব কথা ॥ বক্ষসানাগহারঞ্চ বিজর্তীং– [মহাভারত। কিবা নাম ধরে তব পুত্র পঞ্চজন T কি নাম তোমার হেথা গতি কি কারণ, ব্যাধপত্নী বলে দেবি নিবেদন করি । পাণ্ডুব্যাধপত্নী আমি কুন্তী নাম ধরি । জ্যেষ্ঠ পুত্র যুধিষ্ঠির ভীম যে দ্বিতীয়। চতুর্থ নকুল আর অর্জন তৃতীয় ॥ সহদেব পঞ্চমের নাম যে কেবল । আমার বৃত্তান্ত দেবি শুনহ সকল । নিত্য নিত্য মৃগয়া করেন মোর স্বামী । উদরার্থে মাংস বিক্ৰী করিতাম আমি । স্বামী গেল জাল নিয়া মৃগয়া কারণ। ন পাইয়া মৃগ বহু করি আম্বেষণ ॥ অত্যন্ত চিন্তিত ব্যাধ আসে দুঃখমনে । হেনকালে এক মৃগী দেখিল নয়নে ॥ মৃগীর প্রসবকাল আসি উপস্থিত। হেনকালে ব্যাধ তারে বেড়ি চারিভিত ॥ একদিকে অগ্নি দিল জাল আর দিকে। আর দিকে শ্বান ছাড়ি দিল অতি বেগে ॥ আপনি সে ধনু ধরি অস্ত্র নিল হাতে। ব্যাকুল হইয়া মৃগী চাহে চতুৰ্ভিতে ॥ চারিদিক নিরখিয়া পথ না পাইল । কাতর হইয়া মৃগী ভাবিতে লাগিল। হে শ্ৰীকৃষ্ণ আর্তত্ৰোত যাদব-নন্দন । এ মহাসঙ্কটে মোরে করহ তারণ ॥ তৃণ জল খাই কারো হিংসা নাহি জানি । তবে কেন ব্যাধ মোরে বধয়ে অমনি | এইরূপে মৃগী প্রাণে কাতর হইয়া । রক্ষা কর জগন্নাথ বলিল ডাকিয় ॥ শুনি নারায়ণ হয়ে সদয়-হৃদয় । মেঘে আজ্ঞা দিল মেঘ জল বরিষয় ॥ অগ্নি নিবাইল জাল উড়িল বাতাসে । অকস্মাৎ আসি ব্যাঘ্র শ্বানেরে বিনাশে | ব্যাধ শিরে তখনি হইল বজ্রাঘাত । চারিদিকে মুক্ত তারে করেন শ্রীনাথ । ব্যাধের মরণে সবে অনাথ হইনু । অন্ন হেতু দেবি তব সদনে আইনু ॥