পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৫৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভীষ্মপৰ্ব্ব । ] পয়াৰঃ কমলা কটাক্ষবিভবৈরানন্দন্তীহরিং , Փ Ե-Գ সহস্ৰেক রথী তাহে গেল যমদ্বার । সহস্ৰ সহস্ৰ গজ হইল সংহার । দেখি ভীষ্ম শক্তি এড়িলেন বজলার । ইন্দ্রবণে কাটিলেন ইন্দ্রের কুমার ॥ এড়েন মাহেন্দ্ৰবাণ মহেন্দ্র সমান । লক্ষ লক্ষ রথী করিলেন খান খান । দেখি ভীষ্ম মহাকোপে এড়ে শরগণ । পাণ্ডবের সৈন্যগণে করিল নিধন । দশ সহস্র রথী মারি শঙ্খ বাজাইল । সন্ধ্যা জানি যোদ্ধাগণ নিবৃত্ত হইল ॥ মহাভারতের কথা অমৃত-সমান। কাশীরাম দাস কহে শুনে পুণ্যবান ॥ নবম দিনের যুদ্ধ । শিবিরে গেলেন যুধিষ্ঠির মহামতি। সভা করি বসিলেন বিষাদিত অতি ॥ পিতামহ পরাক্রম অতুল ভুবনে । কিরূপে হবেন ক্ষয় ভাবেন তা মনে ॥ কৃষ্ণের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে বীরবর। রাখিল প্রতিজ্ঞা নিজ সংগ্রাম ভিতর ॥ হেন বীর সহ যুঝিবেক কোনজন । এত বলি চিত্তাকুল ধৰ্ম্মের নন্দন ॥ শুনিয়া দ্রুপদ রাজা প্রবুেধে ধৰ্ম্মেরে । আমার বচন শুন না চিন্ত অন্তরে ॥ ভক্তের অধীন প্রভু জগতে বিদিত। সৰ্ব্বদা করেন ভক্ত কল্যাণ বিহিত ॥ ভক্তের প্রতিজ্ঞ সদা করেন রক্ষণ । স্তম্ভেতে নৃসিংহ মুৰ্ত্তি করেন ধারণ ॥ প্ৰহলাদেরে বহু দুঃখ দিল দৈত্যেশ্বর। সে কারণে র্তাহারে দিলেন যমঘর ॥ " বলিরে ছলনা করি দিলেন পাতালে। আধিপত্য স্বর্গের দিলেন স্বৰ্গপালে ॥ বিভীষণ রাজা হয় র্যাহার মহিমা । অদ্ভুত প্রভুর লীলা নাহি তার সীমা ॥ হেন প্ৰভু গদাধর তোমার সারথি । অকারণে শোক কেন কর মহীপতি ॥ | অবশ্ব হইবে জয় নাহিক সংশয় । এত বলি প্রবোধিল ধৰ্ম্মের তনয় ॥ এত শুনি পাণ্ডবের প্রবোধ জন্মিল । | নানা কথা আলাপনে রজনী বঞ্চিল । প্রভাতে উভয় সেনা করিল সাজন। কুরুক্ষেত্রে গিয়া সবে দিল দরশন ॥ যে যার লইয়া অস্ত্র যত যোদ্ধাগণ । সিংহনাদ করি রণে ধায় সৰ্ব্বজন ॥ },মহারথিগণ তবে করে অস্ত্রাঘাত । লক্ষ লক্ষ সেনা মারি করিল নিপাত ॥ শ্ৰীহরি সারথি রথে পার্থ ধনুৰ্দ্ধর । অস্ত্রবৃষ্টি করিলেন যেন জলধর ॥ লক্ষ লক্ষ সেন মারি দিল ঘমঘর । বহিল শোণিত নদী অতি ভয়ঙ্কর ॥ ভীমসেন বিনাশিল যত হস্তীগণ । । আড়ারির প্রায় তাহে হইল শোভন ॥ নদীফেন সম ভাসে শ্বেত ছত্ৰগণ । কচ্ছপ হইল চৰ্ম্ম আসি মীন সম ॥ শৈবাল সমান কেশ ভালি যায় স্রোতে । শুশুক সমান গজ ডুবিছে তাহাতে ॥ গ্ৰাহসম মৃত অশ্ব ভাসি যায় বেগে । হস্তপদ তৃণ সম ভাসে চতুর্দিকে ॥ শোণিতের নদী বহে বেগে ভয়ঙ্কর। অস্ত্রগণ বৃষ্টিধারা পড়ে নিরন্তর ॥ প্রচণ্ড সমর দেখি আসেন চামুণ্ড । i দিগম্বরী মুক্তকেশী হস্তে শোভে খাণ্ডt.॥ সঙ্গেতে যোগিনীগণ বিস্তারবদন । নরমুণ্ড গলে দোলে বিলোল রসন ॥ গজমুণ্ড জয়ে কর্ণে পরিল কুণ্ডল । করতালি দিয়া নাচে হাসে খল খল ৷ নরমুণ্ডমালা কেহ গাঁথি পরে গলে । গেড়য়া খেলায় কেহ মহাকুতূহলে ॥ হাতেতে খপর করি করে রক্তপান । ক্রীড়ায় যোগিনীগণ আনন্দ বিধান ॥ শিবাগণ চতুর্দিকে আনন্দেতে ধায় । শকুনি গৃধিনী কত উড়িয়া বেড়ায় ॥