পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৬৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৬২২ গগন ছাইয়া বীর বরিষয়ে বাণ । শীঘ্রহস্তে ধনঞ্জয়পুরিয়া সন্ধান ॥ কাটিয়া পাড়েন যত আচার্য্যের বাণ । ক্রোধে দ্ৰোণ করিলেন বরিষণ বাণ ॥ তবে কৃষ্ণ কহিলেন ধনঞ্জয় প্রতি । , আমি যাহা কহি তাহ কর অবগতি ॥ জয়দ্ৰথ বধ হেতু আছে বড় ভার। দ্রোণ সহ যুদ্ধ কর না বুঝি বিচার ॥ এত শুনি ধনঞ্জয় কহেন কৃষ্ণেরে । কিমতে যাইব, দ্ৰোণ পথ রুদ্ধ করে ॥ কৃষ্ণ বলিলেন শুন আমার বচন । দ্ৰোণের দক্ষিণ দিকে আছে সেনাগণ ॥ সেই সেনাগণ বাণে কাটি পাড় তুমি । সেইখান দিয়া রথ চালাইব আমি ॥ এত শুনি ধনঞ্জয় পূরেন সন্ধান । নিমিষে করেন বহু সৈন্য খান খান ॥ তবে শ্রীকৃষ্ণের রথ বেগেতে চলিল । দ্রোণেরে পশ্চাৎ করি সৈন্যে প্রবেশিল ॥ দ্রোণ বলে ধনঞ্জয় এ কোন বিচার । পলাইয়া যাও তুমি অগ্ৰেতে আমার ॥ অর্জন বলেন গুরু করি নমস্কার । তোমারে জিনিবে হেন শক্তি আছে কীর ॥ জয়দ্ৰথ বধ হেতু যাইব এখন । তোমার চরণে করি এই নিবেদন ॥ এত শুনি দ্রোণাচাৰ্য্য হাসিতে লাগিল । এক ভিতে রথ রাখি পথ ছাড়ি দিল ॥ তবে ধনঞ্জয় ৰীর অতিশয় ক্রোধে । যারে পায় তারে মারে নাহি উপরোধে ॥ আকর্ণ পূরিয়া বীর বরিষয়ে বাণ । রথ অশ্ব পদাতিক করে খান খান ॥ পলায় সকল সৈন্য রণে নাহি রয়। মহাক্রোধে আগু হৈল দ্রোণের তনয় ॥ ধনঞ্জয় অশ্বথামা দোহে মহারণ । বিস্ময় মুনিয়া চাহে যত সেনাগণ ॥ মহাবীর অশ্বথামা দ্ৰোণের নন্দন । অর্জন উপরে করে বাণ বরিষণ ॥ প্রত্যালীঢ়পদাং দিব্যাং নানালঙ্কারভূষিতাম্। [ মহাভারত । তবে ক্রোধে মহাবীর ইন্দ্রের নন্দন । কাটিলেন দ্রোণীর হাতের শরাদন ॥ আর ধনু ল’য়ে বীর দোণের তনয় । বাণ বৃষ্টি করে অতি নির্ভয় হৃদয় ॥ তবে ধনঞ্জয় বীর অগ্নি হেন জ্বলে । সারথির মাথা কাটি ফেলিল ভূতলে ॥ এড়েন যুগল অস্ত্র ইন্দ্রের নন্দন । বাণাঘাতে অশ্বথামা হৈল অচেতন ॥ সেইক্ষণে সারথী আইল এক আর । অচেতন রথে বীর দ্রোণের কুমার ॥ কতক্ষণে অশ্বথামা পাইল চেতন । ধনু ধরি পুনরপি করে মহারণ ॥ মহাপরাক্রম দোহে সমান সোসর। হইল তুমুল যুদ্ধ নাছি অবসর ॥ তবে ধনঞ্জয় ক্রোধে হইল অস্থির । সন্ধান পূরিয়া বিন্ধে দ্রোণীর শরীর ॥ কবচ কাটিয়া বাণ অঙ্গে প্রবেশিল । অচেতন হয়ে বীর রথেতে পড়িল ॥ রথেতে পড়িল বীর হয়ে অচেতন । হাছাকার করি ধায় যত যোদ্ধাগণ ॥ হেনকালে অগ্রে হৈল মিহির নন্দন । , ধনুক ধরিয়া আসে করিবারে রণ ॥ তর্জন করিয়া বলে অর্জনেরে অর্ণটি । লেগেছে তোমারে মৃত্যু ভেঁই ছটফটি ৷ দ্রোণ-সেনাপতি বলে মম বধ্য নহে । সে কারণে ভালে ভালে দিন কত রহে ॥ | নিশ্চয় আমার হস্তে তোমার মরণ । কহিলাম সত্য এই বিধির ঘটন ॥ অৰ্জুন বলেন হাসি হতজ্ঞান তুমি । পশুজ্ঞান করিয়া বধিব তোমা আমি ॥ কুপিয়া বলিছে কৰ্ণ বুঝিব এখন। কেমনে সারিয়া আজি যাহ মোর রণ ॥ এত বলি সূৰ্য্যস্থত সর্পবাণ এড়ে। সহস্ৰ সহস্ৰ নাগ পার্থে গিয়া বেড়ে । এড়েন গরুড় বাণ ইন্দ্রের নন্দন । ধরিয়া সকল সৰ্প করিল ভক্ষণ ॥