পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৭১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আগু হৈয়া রথ হুৈত নামি ধনঞ্জয় । দাণ্ডাইয়া রছিলেন কারে নাহি ভয় ॥ যোড়হস্তে গুরুপদে করি নমস্কার । ধনুক টঙ্কার দেন লোকে চমৎকার ॥ এড়িলেন একবাণ উঠিল আকাশে । গর্জন করিয়া যায় দ্ৰোণপুত্র নাশে । তন্ত্রে মন্ত্রে বাণ এড়িলেক ধনঞ্জয় । হইল প্রলয় যুদ্ধ দোহেতে দুৰ্জ্জয় ॥ তিনলোক শব্দে কঁপে, র্কাপে চরাচর । যেন কালদণ্ড বাণ জ্বলে বৈশ্বানর ॥ উল্কাপাত নির্ঘাত সে বাণ হৈতে খসে । হইল প্রলয় বড় পৃথিবী বিনাশে ॥ বাকে ফঁাকে অগ্নিবৃষ্টি হয় ঘনে ঘন। প্রলয় দেখিয়া স্থান ছাড়ে দেবগণ ॥ স্বৰ্গ মর্ত্য পাতাল কঁাপিল সৰ্ব্বলোক । মহাশবেদ বন যেন পোড়ায় পাবক ॥ দুই অস্ত্র সম দেখি কেহ নহে উন। মহাবীর দুইজন কেহ নহে নূ্যন ॥ গিরি বৃক্ষ পোড়ে তাহে প্রাণী কিসে গণি । অকালে প্রলয় হয় মানে সৰ্ব্ব প্রাণী ॥ মহাশব্দে পুড়ি যায়-সব অগ্নিময় । সমুদ্র মস্থনে যেন বিষের উদয় ॥ দ্বাদশ সূর্য্যের দীপ্তি প্রলয়ের কালে। সেইমত দোহে শত শত অস্ত্র ফেলে । জল স্থল পুড়ি যায় যেমত বাঞ্ছনা। মহা অস্ত্র দোহে নাহি সম্বরে আপন ॥ সৰ্ব্ব স্বষ্টিনাশ যায় দেখি লাগে ত্ৰাস । হেনকালে আইলা নারদ আর ব্যাস ॥ দুই বাণ মধ্যে রহিলেন দুই মুনি । জগতের নিতান্ত বিনাশ অনুমানি ॥ র্দোহারে বলেন ডাকি দুই তপোধন। স্বষ্টিনাশ কর কেন কর সম্বরণ ॥ উভয়ে বিবাদে কেন স্বষ্টি কর নাশ । কিবা মনে করিয়াছ কহ এক ভাষ ॥ শুনিয়া দোহার বাক্য অর্জন তখন । করিলেক আপনার অস্ত্র সম্বরণ ॥ দ্রোণি ডাকে কহে শক্য নহে নিবারণ। ক্রোধে অস্ত্র ছাড়িলাম কি করি এখন ॥ উপরোধ রাখি যদি তোম। দোহাকার। পাণ্ডবে মারিয়া অস্ত্র আস্থক আমার ॥ তবে যদি ক্ষমা করি দোহা উপরোধে । উত্তরার গর্ভপাত করিব বিবাদে ॥ যেই পুত্র আছে উত্তরার গর্ভবাসে। চলিল আমার অস্ত্র তাহার বিনাশে ॥ অৰ্জুন বলেন কাটি দ্রোণপুত্র শির। নহিলে না হবে ক্ষমা শুন যত্নবীর ॥ ব্যাস বলিলেন শুন বীর অশ্বথামা । শিরোমণি দিয়া পার্থে চাহ তুমি ক্ষমা ॥ তৰ বাণে মরে যদি শিশু গর্তবাদে । তারে জীয়াইব আমি চক্ষুর নিমিষে ॥ মণি দিলে শির ক্ষত হইবে তোমার। বৎসর সহস্ৰ তৈলে নহে প্রতীকার ॥ শিরের পীড়ায় তুমি করিবা ভ্রমণ । যেমন তোমার কৰ্ম্ম হইল তেমন ॥ এত শুনি অশ্বথামা করিয়া ছেদন । শিরোমণি ধনঞ্জয়ে করে সমপৰ্ণ ॥ হেথা দ্রোণি-বাণ বেগে উটল আকাশেবায়ুবেগে উত্তরার গর্ভেতে প্রবেশে ॥ গর্ভে প্রবেশিয়া গর্ত করিল নিধন । প্রবেশ করেন গর্ভে কৃষ্ণ সেইক্ষণ ॥ গর্ত বিনাশিয়া বাণ হইল বাহির । পুনঃ গর্ভ জীবিত করেন যত্নবীর ॥ এই মতে শান্ত হৈল অস্ত্র বরিষণ । জলেতে নিবৃত্ত যেন হয় হুতাশন ॥ মহাভারতের কথা অমৃতের ধার । কাশী কহে শুনিলে হইবে ভবপার । অশ্বথামার শিরোমণি পাইরা দ্ৰৌপদীর সন্তোষ । মস্তক-জ্বলনে দুঃখ অশ্বথামা পায়। দেখি মুনি ব্যসদেব কছিলেন তায় ॥ যাবৎ তোমার দেহে থাকিবে জীবন। শিরোমণি তোমার না হবে কদাচন ॥ ।