পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৭৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নারীপৰ্ব্ব । ] গোচরং মেখলা জিনদত্তাদিচিহ্নেমাঙ্কিতমীশ্বরং । aున উঠ পুত্র ত্যজ নিদ্রা অস্ত্ৰ লহ হাতে । গদাযুদ্ধ কর গিয়া ভীমের সহিতে ॥ কৃষ্ণাৰ্জ্জুন ডাকিছেন যুদ্ধের কারণ। এভু্যত্তর নাহি কেন দেহ দুৰ্য্যোধন ॥ মৃত পতি পুত্রাদি দর্শনে গান্ধারী প্রভৃতি স্ত্রীগণের বিলাপ ও শ্রীকৃষ্ণের প্রতি গান্ধারীর অনুযোগ । জন্মেজয় কহিলেন শুন মহামুনি । গান্ধারী কি কহিলেন কহ তাহ শুনি ॥ এত বলি গান্ধারী হইল অচেতন । কেমনে ধরিল প্রাণ শত পুত্ৰশোকে । প্রিয়ভাষে কৃষ্ণচন্দ্র করেন সা স্তুন ॥ ক্রোধ করি কোন কথা কহিল কৃষ্ণুকে ॥ শোক না করিও দেবি শুন হিতবাণী । পূৰ্ণব্রহ্ম অবতার দেব নারায়ণ । সকল দৈবের খেলা জানহ আপনি ॥ জানিয়| শাপিল দেবী কিসের কারণ ॥ দেব দ্বিজ গুরু নিন্দ এ সব কুকৰ্ম্ম । এই ত আশ্চৰ্য্য অতি মম মনে লয় । বেদে বুঝাইল ইহা না করিলে ধৰ্ম্ম ॥ বিস্তারিয়া সেই কথা কহ মহাশয় ॥ দুষ্কৰ্ম্ম দুঃসহ ত্যজি থাকি ল স্থপথে । কহেন বৈশম্পায়ন শুনহ রাজন । ইহা স্থখভোগী অন্তে যায় যে স্বগেতে ॥ একচিত্ত হয়ে শুন ভারত কথন । না জানিয়া কুকৰ্ম্ম করয়ে যেই জন । কৃষ্ণের প্রবোধ বাক্য মনেতে বুঝিয়।। পরিণামে দুঃখ পায় বেদের বচন ॥ উঠিয়া বসিল দেবী চেতন পাইয়া । অহঙ্কারে অধৰ্ম্ম করয়ে নিরন্তর। অবশেষে কৰ্ম্ম তার হয়ত দুষ্কর ॥ না শুনে স্থজন বাক্য মত্ত অহঙ্কারে । দেখ কৃষ্ণ একশত পুত্র মহাবল । অবশেষে সেইজন যায় ছারেখারে ॥ ভীমের গদার ঘাতে মরিল সকল ॥ কিন্তু এ সকল ঘটে নিজ কৰ্ম্মগুণে । দেখ কৃষ্ণ বধূগণ উচ্চৈঃস্বরে কান্দে । শোক দূর কর দেবি কান্দ কি কারণে দেখিতে ন পায় যারে কভু সুৰ্য্যে চান্দে ॥ শুভাশুভ কৰ্ম্ম যত বিধির ঘটন। শিরীষ কুহুম জিনি কোমল তনু । ভোগ বিনা ক্ষয় নহে শাস্ত্রের লিখন ॥ দেখিয়া যাহার রূপ রথ রাখে ভানু ॥ কালে আসি জন্মে পাপী কলেভেই মরে । , হেম বধুগণ দেখ আসে কুরুক্ষেত্রে । কালবশ এই সব জানাই তোমারে ॥ ছিন্নকেশ মত্তবেশ দেখ তুমি নেত্রে ॥ না কর বেদন তুমি শুন নৃপজায়া । এই দেখ নৃত্য করে পতিহীনা বধু । বুঝিতে না পারে কেহ বিধাতার মায়া ॥ মুখ অতি স্থশোভন অকলঙ্ক বিধু ॥ বিজয় পাণ্ডব কথা অমৃত লহরী । এই দেখ গান করে নারী পতিহীন । শুনিলে অধৰ্ম্ম খণ্ডে পরলোকে তরি ॥ কণ্ঠশব্দ শুনি যেন নারদের বীণা ॥ কিছুমাত্র বলি আমি রচিয়া পয়ার’। পতিহীন কত নারী বীরবেশ ধরি । অবহেলে শুনে সেই তরয়ে সংসার । ওই দেখ নৃত্য করে হাতে অস্ত্র ধরি ॥ কাশীরাম দাসের সদাই এই মন । হে কৃষ্ণ দেখহ মম পুত্রের দুৰ্গতি । নিরবধি রচে মহাভারত কথন ॥ যাহার মস্তকে ছিল মৃবর্ণের ছাতি ॥ নানা আভরণে যার তনু সুশোভন । সে তনু ধূলায় ওই দেথ নারায়ণ ॥ সহজে কাতর বড় মায়ের পরাণ । স্বপুত্র কুপুত্র দুই মায়ের সমান ॥ কহে কিছু কৃষ্ণকে গান্ধারী পতিব্ৰত । বিচিত্র বীৰ্য্যের বধু রাজার বনিত ॥