পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৭৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


f ৭৪৬ ত্রিনেত্ৰং শিবরূপঞ্চ শক্তিযুক্তমৃ নিরাময়ং দিগম্বরং ঘোররূপমূ— [মহাভারত। আনন্দে রহিল দ্বিজ কোশল নগরে । পরিবার সহ থাকি শুখভোগ করে ॥ বৃত্তি দিয়া ব্রাহ্মণে স্থাপিল নরবর। সেই পুণ্যে হৈল স্থিতি স্বগের উপর ॥ শতেক বৎসর স্থিতি আনন্দ কৌতুকে । দুই কোটি যুগ রাজা স্বর্গে ভুঞ্জে স্বখে ॥ অনন্তর ব্রহ্মলোকে হইল গমন । এক লক্ষ যুগ তথা করিল বঞ্চন ॥ অনন্তর হৈল তার বৈকুণ্ঠেতে স্থিতি । দুই কোটি কল্প তথা করিল বসতি ॥ ব্রাহ্মণের মহিমা বেদেতে অগোচর । ব্রাহ্মণ হইতে তরে পতিত পামর ॥ . বিষ্ণুর শরীর দ্বিজ বিষ্ণু অবতার। যাহারে গোবিন্দ করিলেন পরিহার ॥ পদাঘাত থেয়ে স্তুতি করেন সে কালে । অদ্যাপিও পদচিহ্ন আছে বক্ষঃস্থলে ॥ এত শুনি জিজ্ঞাসেন ধৰ্ম্মের নন্দন । স্বয়ং বিষ্ণু সৰ্ব্ব কর্তা আদি সনাতন ॥ তারে পদাঘাত কেন করিল ব্রাহ্মণ । কহ পিতামহ শুনি সব বিবরণ ॥ শুনিয়া কহেন হাসি গঙ্গার নন্দন । সাবহিতে শুন রাজা হৈয়া একমন ॥ পূৰ্ব্বে ভূগু মহামুনি ব্রহ্মার নন্দন । ব্ৰহ্মসত্র কৈল ব্ৰহ্মজ্ঞানের কারণ ॥ পৌলস্ত্য পুলহ ক্রতু আদি তপোধন । বশিষ্ঠ নারদ বিষ্ণু যত মুনিগণ ॥ একত্র হইয়া সবে যজ্ঞ আরম্ভিল । হেনকালে ভূগুচিত্তে বিতর্ক উঠিল ॥ দেখি সব মুনিগণে বিস্ময়-জন্মিল । কেবা সে ঈশ্বর বলি জানিতে নারিল ॥ অতি শীঘ্ৰ মহামুনি ব্রহ্মার নন্দন । জানিবার তরে গেল হরের সদন ॥ মহাদেবে কপটে না করিল প্ৰণতি । দেখি মহাক্রোধ করিলেন পশুপতি ॥ ক্রোধ সম্বরিয়া হর কহেন বচন । কিহেতু আইলা হেথা ভূগু তপোধন ॥ শুনিয়া উত্তর কিছু না দিল তাহারে । মহাক্রোধে শঙ্কর বলেন আরবারে ॥ অহঙ্কার কর তুমি না মান আমারে । অবহেলা কর কেন জিজ্ঞাসি তোমারে ॥ অহঙ্কারে উত্তর না দেও দুরাচার । এই হেতু তোরে আজি করিব সংহার ॥ এত বলি ত্রিশূল তুলিয়া নিয়া হাতে । ভূগুরে মারিতে ক্রোধে যান ভূতনাথে ॥ হাতে ধরি শিবেরে রাখেন ত্রিলোচন । তথা হৈতে গেল ভূগু হইয়া বিমন ॥ শীঘ্ৰগতি ব্ৰহ্মলোকে উত্তরিল গিয়া । ব্ৰহ্মারে না বলে কিছু চিত্তে দুঃখী হৈয়া ॥ কপটে সন্তাষ না করিল জনকেরে । দেখি ক্রোধ করিলেন বিরিঞ্চি অস্তরে ॥ পুত্র বলি করিলেন ক্রোধ সম্বরণ । তথা হৈতে বৈকুণ্ঠে চলিল তপোধন ॥ তথায় দেখিল হরি খটার উপরে। শয়নে আছেন লক্ষী পদসেবা করে ॥ দেখি ভূগু মুনিবর না ভাবি অন্তরে । দ্রুত তার বক্ষঃস্থলে পদাঘাত করে ॥ ক্রুদ্ধা হইলেন দেখি লক্ষী ঠাকুরাণী । নিদ্রাভঙ্গে উঠিলেন দেব চক্রপাণি ॥ ভূগুমুনি দেখি প্রভু উঠিয়া সত্বরে । র্তার পদ সেবন করেন পদ্মকরে ॥ আমার কঠিন দেহ বজের তুলনা । চরণ কমলে তব হইল বেদন ॥ শুনি মহামুনি ভূগু লজ্জিত বদন । নানাবিধ প্রকারেতে করিল স্তবন । নমঃ প্ৰভু ভগবান অথিলের পতি । নমস্তে ব্ৰহ্মণ্য দেব নমো জগৎপতি ॥ তুমি হে জানহ প্রভু ব্রাহ্মণ-মৰ্য্যাদা । সবার ঈশ্বর প্রভু ভক্ত ভয়ত্রাত ॥ করিলাম এই দোষ হইয়া অজ্ঞান । মম অপরাধ ক্ষমা কর ভগবান ॥ যোড়হাত করিয়া কহেন দামোদর । কদাচিত চিন্তান্তর নহ দ্বিজবর ॥