পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৭৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শাস্তিপৰ্ব্ব । ] নীলাঞ্জনচয় প্রভম্। নিগুণঞ্চ গুণাধারং কালীস্থানং পুনঃ পুনঃ ॥ ৭৪৭ পদাঘাত নহে মম হইল ভূষণ । এত শুনি সানন্দ হুইল তপোধন ॥ নানামত স্তুতি করে প্রভু নারায়ণে । মুনি পুনঃ গমন করিল যজ্ঞস্থানে ॥ মহাভারতের কথা অমৃত লহরী । শুনিলে অধৰ্ম্ম খণ্ডে পরলোকে তরি ॥ চন্দ্রচুড় পদদ্বয় করিয়া ভাবন । কাশীরাম দেব করে পয়ার রচনা ॥ একাদশীর মাহাত্ম্য । ভীষ্ম বলিলেন রাজ করছ শ্রবণ । পৃথিবীতে জন্মি পুণ্য করে ষেই জন ॥ সৰ্ব্ব পাপে মুক্ত সেই নিষ্পাপ শরীর । , অন্তে মোক্ষগতি লভে শুন যুধিষ্ঠির ॥ অষ্টমীর উপবাস করে ঘেই জন । শুদ্ধচিত্তে শিবদুর্গ করে আরাধন ॥ ভূমিদান রত্নদান করিয়া ব্রাহ্মণে । অতিথি অথর্ব পূজা করে অন্নদানে ॥ দিব্য অন্ন উপহার করিয়৷ রন্ধন । কুটুম্বেরে দিয়া পরে করয়ে পারণ ॥ এমত মাসে মাসে অষ্টমীর ক্ষণে । শুদ্ধচিত্তে এই ব্রত করে সাবাধনে : সৰ্ব্ব পাপে মুক্ত হৈয়া শিবলোকে যায়। কদাচিত যমের তাড়ন নাহি পায় ॥ নারায়ণ নামে ব্রত বিখ্যাত জগতে । নারায়ণ ব্রত যেই করে শুদ্ধচিত্তে ॥ তাহার পুণ্যের কথা না যায় বাখান । ংক্ষেপে কহিব কিছু কর অবধান ॥ গৃহ ধৰ্ম্মে থাকিয় করিবে যেই জন । সৰ্ব্বভুতে দয়া করি করিবে পূজন ॥ যেমন বৈভব তথা করিবেক ব্যয় । ব্রাহ্মণেরে দিবে ধন হৈয়া শুদ্ধাশয় ॥ মূলমন্ত্র তিনবার করিবে চিন্তন । উপহার বৈভব করিবে নিবেদন ॥ অবশেষে প্ৰণমিয়া পড়িবে ধরণী । ভক্তিভাবে বলিবে বিবিধ স্তুতিবাণী ॥ লক্ষমী নারায়ণ জয় জগত-জীবন। নমস্তে গোবিন্দ জয় জয় নারায়ণ ॥ এইরূপে ভক্তি করি লক্ষী নারায়ণ । অবশেষে করি আবাহন বিসর্জন ॥ ভূমিদান দিবে আর অন্নদান আদি । অতিথি ব্রাহ্মণেরে পূজিবে যথাবিধি ॥ দ্বিজ গুরু আজ্ঞা তবে মস্তকে ধরিয়া । পশ্চাতে ভুঞ্জিবে স্বথে নিয়ম করিয়া ॥ এইমত নারয়ণ ব্রত যে অচিরে । কুটুম্বের সহ যায় বৈকুণ্ঠ নগরে ॥ একাদশী মহাব্ৰত বাখানে পুরাণে । তার কথা কহি রাজা শুন একমনে ॥ গালব নামেতে মুনি মহাতপোধন ॥ ভদ্রেশীল নাম ধরে তাহার নন্দন ॥ সৰ্ব্ব ধৰ্ম্ম ত্যজিয়া আরাধে নারায়ণ । তাহার পুণ্যের কিছু কহিব কথন ॥ স্বয়স্থ নন্দন হেন ধ্রুব মহাশয় । শিশুকাল অবধি আরাধে জন্মেজয় ॥ সেইরূপ ধৰ্ম্মশীল গালবনন্দন । সৰ্ব্ব ধৰ্ম্ম ত্যজিয়া আরাধে নারায়ণ ॥ দেব পাঠ তপ জপ শাস্ত্র অধ্যয়ণ । সব ত্যজি করে হরিমন্দির মার্জন ॥ মাসে মাসে কৃষ্ণ শুক্ল দুই একাদশী । শুদ্ধচিতে আরাধয়ে পরম তপস্বী ॥ দেখিয়া পুত্রের কৰ্ম্ম সবিস্ময় মন । জিজ্ঞাসিল কহ তাত ইহার কারণ ॥ নানামত বিষ্ণুভক্তি আছে শাস্ত্রমতে । তপ জপ পূজা ধৰ্ম্ম বিখ্যাত জগতে ॥ ব্রাহ্মণের তপ জপ ধৰ্ম্ম আচরণ । ইহার কি ফল কহ শুনি হে নন্দন ॥ এত শুনি ভদ্রশীল বলয়ে বচন । এই যে ব্রতের ফল না যায় কথন ॥ আকাশের তারা যদি গণিবারে পারি। সমুদ্রের জল যদি কলসীতে ভরি ॥ পৃথিবীর রেণু যদি পারি যে গণিতে । তথাপি এ ব্রতপুণ্য না পারি কহিতে ॥