পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৭৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শান্তিপৰ্ব্ব: আনন্দ ভৈরবের ধ্যান সূৰ্যকোটপ্রতীকৗশম্ চন্দ্রকোটা স্বশীতলম্।। ৭৫৩ মধৰ্ম্মী পাপিষ্ঠ জুই অতি হীন জাতি । কান লাজে হেন বোল বলিলে দুৰ্ম্মতি ॥ পর্শ করি তোরে হয় স্নান করিবারে । পূজা নাই তেঁই হেন বলহ আমারে ॥ ভূত্যের সমান মোর নছ চ্ছ্বরাচার । এইমত অনেক করিল তিরস্কার ॥ শুনিয়া হইল ব্যাধ দুঃখিত অস্তর। স্নান করি বৈশ্বপত্নী গেল নিজ ঘর ॥ মনে মনে ব্যাধ তবে অনেক ভাবিয়া । নিবেদিল দাসীগণে বিনয় করিয়া ॥ কিরূপে এ কম্বা লাভ হইবে আমার । বিচার করিয়া তোরা কহ সারোদ্ধার ॥ এত শুনি উপহাস করি দাসীগণ । কোনু লাজে হেন কথা কহরে দুর্জন ॥ বামন হইয়া চাহ চন্দ্রমা ধরিতে । পতঙ্গ হুইয়৷ চাহ অগ্নি নিবারিতে ॥ চণ্ডাল হইয়া চাহ ধরিতে ব্রাহ্মণী । লজ্জা নাই তেঁই বল হেন দুষ্টবাণী ॥ পুনরপি বলে ব্যাধ বিনয় করিয়া । কহ সত্য কিরূপে পাইব এই জায় ॥ ইহজন্মে পাই কিম্ব পাই জন্মান্তরে । নির্ণয় করিয়া সত্য কহিবা আমারে ॥ মালিনী নামেতে দাসী কহে হালি হাসি ॥ প্রয়াগে করহ তপ হইয়। তপস্বী ॥ ত্রিসন্ধ্যা করহ স্নান প্রয়াগের নীরে । এক ক্রমে তিনদিন রহ গঙ্গাতীরে ॥ তথ। বাস করিয়া স্মরিয়ু নারায়ণ । তিন দিন তিন রাত্র করিলে লঙ্ঘন ॥ তবে সে এ কন্য। তুমি পাইবে নিশ্চয়। এত বলি দাসীগণ গেল নিজালয় ॥ শুনিয়া আনন্দে ব্যাধ চলিল ত্বরিত । প্রয়াগের তীরে গিয়ু হৈল উপনীত ॥ একাসন করিয়া তিন দিবস রজনী । একচিত্তে স্মরণ করয়ে চক্রপাণি ॥ ভকতকবৎসল হরি বৈকুণ্ঠে থাকিয় । , ব্যাধে ডাকি বলিলেন শূন্যরূপ হৈয় । , R=SN9 - মনোবাঞ্ছ। পূর্ণ ব্যাধ হইৰে তোমার। এইত প্রয়াগে স্নান কর পুনর্বার ॥ এতেক শুনিয়া ব্যাধ আনন্দিত মন । প্রয়াগে করিয়। স্নান করিয়ু তপণ ॥ পাপতনু খণ্ডিল হইল দিব্যগতি । রূপে গুণে হৈল সেই বৈশ্বের আকৃতি ॥ শীঘ্ৰগতি অযোধ্যায় করিল গমন । উপনীত হন গিয়া বৈশ্বের ভবন ॥ নিজপতি প্রায় ব্যাধে বৈশুপত্নী দেখি । নিরথিয়৷ প্ৰণমিল আলি শশীমুখী । পাদ্য অৰ্ঘ্য দিয়া বসাইল সিংহাসনে । । ঈষৎ হাসিয়া কহে মধুর বচনে ॥ যত দিন প্রাণনাথ নাহি ছিল। ঘরে । তত দিন অসন্তোষ আমার অন্তরে ॥ স্থখলেশ নাহি চিত্তে আমি বিরহিণী । চন্দ্রের অভাবে যেন মান কুমুদিনী ॥ ব্যাধ বলে বড় ভাগ্য তোমার আছিল । র্তেই সে সঙ্কটে মম প্রাণরক্ষ হৈল ॥ • বহুদূর গিয়াছিনু বাণিজ্য কারণ । ধন জন সব বিধি ৰুরিল হরণ ॥ রাক্ষসের হাতে আমি পড়িয়াছিলাম । সকল মজিল দৈবে প্রাণ পাইলাম ॥ শুনি কহে বৈশুপত্নী সজল নয়ন । ধন যাকৃ প্রাণনাথ আইলে ভবন ॥ এইরূপে আছে দোহে কথোপকথনে । হেনকালে আসে বৈশ্য আপন ভবনে ॥ শত শত বলদে শকটে পুরি ধন । নিজ গৃহে আসি উত্তরিল সেইক্ষণ ॥ দেখিয়া বিস্ময়চিত্ত হইল সুমতি । এইরূপ দুইজন একই আকৃতি ॥ তুল্য ভাষা তুল্য গুণ তুল্য দুই জন । দুইজন দোহারে করিল নিরীক্ষণ ॥ দেখিয় বিস্ময় মন বৈশ্বের নন্দন । কার সঙ্গে ভার্ষ্য মম করিছে কথন ॥ পতিব্ৰত ভাৰ্য্যা মম অন্য নাহি জানে। কোন দেব আলিয়াছে ছল আচরণে ।