পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৭৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শাস্তিপৰ্ব্ব । ] পিতৃগৃহেতে কন্যা প্রসবিল যে নন্দন । গয়াস্ত্রর নাম হ’ল বিখ্যাত ভুবন ॥ সৰ্ব্বশাস্ত্রবিশারদ হয় মহাবীর । তাহার সমরে দেবগণ নহে স্থির ॥ এক দিন গয়াস্কর কোন কৰ্ম্ম কৈল । বিরলে বসিয়া জমিনীরে জিজ্ঞাসিল । শুনগো জননী মোর এক নিবেদন । বিবরিয়া কহ মোরে ইহার কথন ॥ যখন পড়িতে আমি যাই শুক্রস্থানে । পিতৃহীন বলি মোরে বলে সৰ্ব্বজনে ॥ কহত জননী শুনি পূর্বের কথন । কোন বংশে জন্ম মম কাহার নন্দন ॥ পিতৃহীন স্বতের অস্থখী সদা মন । জলহীন নদী যেন নহে স্বশোভন a চন্দ্রহীন রাত্রি যেন পদ্মহীন সর। পিতৃহীন সন্তানের তেমতি অন্তর ॥ এত শুনি কহে মাতা রোদন করিয়া । পিতৃহীন বাপু তুমি বড় অভাগিয়া ॥ ধন্দ অস্থরের বংশ ত্রিপুর নামেতে । তোমার জনক সেই ৰিখ্যাত জগতে ॥ আমার গর্ভেতে তুমি আছিল যখন । নারদ আসিয়া দ্বৈত্যে কহিল তখন ॥ শিব সহ তোমার হইবে মহারণ । অতএব আইলাম তোমার সদন ॥ এই গর্ভবতী যেই তোমার রমণী । ইহাতে জন্মিবে এক মহাবীর মণি ॥ জনকের ঘরে ল’য়ে রাখ এইক্ষণে । তবে সে করিবে রণ ধূর্জটির সনে ॥ এত শুনি তব পিতা জানিয়া হেথাতে । রাখিয়া করিল যুদ্ধ শিবের সঙ্গেতে ॥ কপট প্রবন্ধে কহে সৰ্ব্ব দেবগণ । শিব হাতে তব পিতা হইল নিধন ॥ ভ্রাতৃবন্ধু আদি যত ছিল দৈত্যগণ । সকলেরে দেবগণ করিল নিধন ॥ ত্রিপুরের বংশে তুমি এক বংশধর । এত বলি তার মাত কান্দিল বিস্তর ॥ খড়্গখেটকপটিশমুদগরং শূলদগুস্তৃক্ । ԳՅՒՏ এত শুনি গয়াস্থর সক্রোধ অন্তর । মায়ে প্রবোধিয়া গেল শুক্রের গোচর ॥ করযোড়ে প্রণমিল শুক্রের চরণে । নিজ পরিচয় দৈত্যু দিল সেইক্ষণে ॥ শুনি শুক্র দৈত্যগুরু আশ্বাস করিল। অস্ত্ৰ শস্ত্র নানা বিদ্যা সব পড়াইল ॥ ত্রিভুবনে যত বিদ্যা কিছু নাহি শেষ । গুরু প্ৰণমিয়া দৈত্য আসে নিজ দেশ ॥ আসিয়৷ মায়ের পায়ে দণ্ডবত্ কৈল । জননী বিস্তর তারে আশীৰ্ব্বাদ দিল । অবশেষে যত দৈত্য ত্রিভুবনে ছিল । গয়াস্বরে আলি সবে সত্বরে মিলিল ॥ তবে গয়াস্কর বীর মহাকোপ ভরে । বহু সৈন্তে সাজি গেল স্থমেরু-শিখরে ॥ ইন্দ্র আদি দেব যত অদিতি-তনয় । বাহুবলে সবারে করিল পরাজয় ॥ তদন্তরে শিবসহ কৈল মহারণ । একে একে জিনিল সকল দেবগণ ॥ একচ্ছত্র দৈত্য রাজা হৈল ত্রিভুবনে । উদাসীন হয়ে ফিরে যত দেবগণে ॥ ইন্দ্র সহ যুক্তি করি যত দেবগণ । ক্ষীরোদ উত্তর দিকে করিল গমন ॥ জগৎ ঈশ্বর বিষ্ণু আদি সনাতন । করযোড় করি সবে করিল স্তবন ॥ জয় জয় জনাৰ্দ্দন জয় জগৎপতি । ত্রিভুবন চরাচর তোমার বিভুতি ॥ তুমি স্বজ তুমি পাল করহ সংহার। এ মহাবিপদে দেব করছ নিস্তার ॥ তোমার স্থাপিত দেব যত দেবগণ । আপনি স্থাপি কর আপনি নিধন ॥ এইরূপ স্তুতিবাদ করে দেবগণ । সেইক্ষণে প্রত্যক্ষ হৈলেন নারায়ণ ॥ ! চারু চতুভুজ পীতবাস পরিধান । ডাকিয়া বলেন দেবগণে ভগবান ॥ দৈত্যের ভয়েতে ভীত আছ দেবগণ। নির্ভর হইয়া যাহ আপন ভবন ।