পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৮৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


b-Rలా চিত্রগুপ্তাধিদৈবঞ্চ ব্রহ্ম প্রত্যধিদৈবতম। [ মহাভারত । হনুমানে দেখিয়া-পলায় নিশাচর । শরীর ত্যজিয়া কেহ গেল যমঘর ॥ নয় লক্ষ রাক্ষস যে ছিল শেষ রণে । প্রাণভয়ে পলাইল সবে ঘোর বনে ॥ কত সৈন্য সঙ্গে ল’য়ে ভীষণ দুৰ্ম্মতি । মায়াতে হইল সেই মুনির মূরতি ॥ মায়া পাতি করিল মধুর ফুল ফল । মায়াতে নিৰ্ম্মাণ কৈল সরোবর জল ॥ সঙ্গে নিশাচরগণ শিষ্যরূপ হৈল। অধ্যয়ন হেতু তারা চৌদিকে বসিল ॥ হেনমতে মায়া-করি আছে নিশাচর । রাক্ষস জিনিয়া যান পার্থ ধনুৰ্দ্ধর ॥ কতদুর বনেতে দেখেন তপোধন । মুনিরূপে বসে আছে সঙ্গে পুণ্যজন ॥ অৰ্জ্জুনে দেখিয়া ভয়ে আদর করিল। অতিথি বলিয়া পাদ্য অৰ্ঘ্য যোগাইল ॥ দীর্ঘ নখ জটাভার দেখি ধনঞ্জয় । মুনিজ্ঞানে তাহারে কহেন সবিনয় ॥ শুন প্রভু তব স্থানে চাহি আশীৰ্ব্বাদ । অশ্বমেধ সাঙ্গ হৈলে পুরে মনোসাধ । মুনি বলে শুন তুমি পাণ্ডুর নন্দন । যজ্ঞ সাঙ্গ তোমার করিবে নারায়ণ ॥ কিন্তু আজি বিশ্রাম করহ এই স্থানে । আমার অতিথি হও দিন অবসানে ॥ বিবেচনা মনে করিলেন ধনঞ্জয় । রাক্ষস বলিয়া তারে জানেন কথায় ॥ অৰ্জ্জুন বলেন মায়া না করিহ তুমি । মুনিবেশ ধরিয়াছ জানিয়াছি আমি ॥ কিন্তু মম স্থানে আজি নাহিক নিস্তার । এখনি পাঠাব তোমা যমের দুয়ার। প্রাণ-ভয়ে তপস্বী হইল নিশাচর। বিদিত হইল মায়া সবার গোচর ॥ এত বলি অর্জুন নিলেন ধনুৰ্ব্বাণ । ভয়েতে রাক্ষস হয় নিজ মূৰ্ত্তিমান ॥ ভয়ঙ্কর মুর্তি দেখি বীর ধনঞ্জয় । গাওঁীবে টঙ্কার দেন হুইয়া নির্ভয় ॥ গাওঁীবে টঙ্কার শুনি এল সৰ্ব্বজন । যুবনাশ্ব অনুশাল্ব কর্ণের নন্দন ॥ ভীম হংসধবজ আদি যত বীরগণ । ত্বরায় আইল সবে করিবারে রণ ॥ গাছ শিলা অৰ্জ্জুনে মারয়ে নিশাচর। বাণে নিবারেণ তাহা পার্থ ধনুৰ্দ্ধর ॥ বহু যুদ্ধ করিলেন ভীষণ সংহতি । গদাঘাতে মারিলেন ভীম মহামতি ॥ বিজয় পাণ্ডব কথা অমৃত লহরী। কাশী কহে শুনিলে তরয়ে ভববারি ॥ মণিপুরে বক্রবাহনের সহিত অৰ্জ্জুনের পরিচয় । মুনি বলে শুন পরীক্ষিতের তনয় । মণিপুরে প্রবেশিল পাণ্ডবের হয় ॥ মণিপুরে বক্রবাহ নামে নরপতি । তিন বৃন্দ সেনা তার নব লক্ষ হাতী ॥ এক লক্ষ নৃপতি রাজায় সেবা করে। নানা রত্ন আনে তারা ভূপতি গোচরে ॥ চিত্রাঙ্গদাস্থত সেই অৰ্জ্জুন নন্দন । নব লক্ষ রথ যার অাছে স্থশোভন ॥ ষাটি কোটি রণেতে অশ্ব আছে যাহার । মহাবল বক্রবাহ বীর অবতার ॥ তীর্থযাত্রা যেই কালে করে ধনঞ্জয় । সে কালে গন্ধৰ্ব্ব কন্যা করে পরিণয় ॥ তার গর্ভে জনমিল সে বক্রবাহন । অৰ্জুন সমান তারে বলে সৰ্ব্বজন ॥ নাগকন্যা উলুপী আছেন তার ঘরে । ইলাবন্ত তার পুত্র পড়িল সমরে ॥ কুরুক্ষেত্র রণে ইলাবন্ত হৈল ক্ষয় । , শুনিয়াছ সেই কথা শ্ৰীজনমেজয় ॥ অর্জন আইল অশ্ব রাখিবার তরে । দৈবে আসি অশ্ব প্রবেশিল মণিপুরে । ধরিল যজ্ঞের ঘোড়া বক্রবাহ বীর । জননীর কাছে কহে করি চিত্ত স্থির ॥ তুমি বল মম পিতা পাণ্ডুর নন্দন । মণিপুরে আইলেন দৈখের ঘটন। -