পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৯১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


જેર করয়ে তপস্যা তীরে কত শত মুনি । তরঙ্গ নিৰ্ম্মল বহে গঙ্গা মন্দাকিনী ॥ দুৰ্ব্বাস গৌতম ভরদ্বাজ পরাশর । অশ্বথামা আঙ্গিরস আর সোমেশ্বর ॥ ঋষিগণ বলে তবে রাজাকে দেখিয়া । হেথায় থাকহ রাজা আমা সব লৈয়া ॥ দেবতা গন্ধৰ্ব্ব এথা আছে শত শত । পঞ্চভাই থাক মুখে সবার সহিত । . অশ্বথামা আসিয়া মিলিল পঞ্চজনে । পূর্ব শোক স্মরিয়া কান্দয়ে দুঃখমনে ॥ অশ্বথামা বলে থাক বদরিকাশ্ৰমে । পাপ মুক্ত হৈয়া, হরি পাবে পরিণামে ॥ এতেক শুনিয়া বলিলেন যুধিষ্ঠির । না করিব স্থিতি মোরা থাকিতে শরীর ॥ সঙ্কল্প করিমু আমি কৃষ্ণের সাক্ষাতে । যাইব অমরপুরে সুমেরু পৰ্ব্বতে ॥ " সঙ্কল্প লঙ্ঘিলে হয় ব্রহ্মবধ ভয় । অতএব কহি শুন তপস্বী-তনয় ॥ যে হোক সে হোক, থাকে যায় বা জীবন । যাইব বৈকুণ্ঠপুরী যথা নারায়ণ ॥ অশ্বথামা বলে কোথা দ্রুপদ-নন্দিনী । • যুধিষ্ঠির কহিলেন ত্যজিল পরাণী ॥ শুনি হাহাকার করি কান্দে দ্রোণস্থত । হাহা কৃষ্ণ স্ববদনী রূপ গুণযুত ॥ তবে গুরুপুত্রে বন্দিলেন সৰ্ব্বজন । উত্তর মুখেতে যান পাণ্ডুর নন্দন ॥ কতদূরে গঙ্গাতীরে দেখে নৃপবর। পৰ্ব্বত রৈবত নামে অতি মনোহর ॥ স্বৰ্গ মর্ত্য দুল্লভ বিচিত্র উপবন । আরোহেণ সে পৰ্ব্বতে ভাই পঞ্চজন ॥ রেবা নাৱে পুণ্য নদী পৰ্ব্বত উপর। - অতি স্বনিৰ্ম্মল জল শোভে মনোহর ॥ তীরে রেবানাথ বিষ্ণুমূৰ্ত্তি চতুভুজ। প্রণমেন যুধিষ্ঠির সহিত অনুজ | মণি মরকত পুরী অতি শোভ করে । চৌরণী যোজন তার উপরে বিস্তারে । , প্ৰণাম মন্ত্র—নৃসিংহরূপিণীং দেবীং দৈত্যাদানবনাশীনীং— [ মহাভারত । বৃক্ষে অন্ধকার নাহি জানি দিবারাতি । তিন লক্ষ কিরাত কুৎসিত মুক্তি অতি ॥ নানাবর্ণে অস্ত্র ধরে প্রচণ্ড কিরণ । মণি রত্বে বিভূষিত লোহিত বরণ ॥ পিন্ধন গাছের ছাল তাম্রবর্ণ কেশ । কর্ণে রামকড়ি সাজে ভয়ঙ্কর বেশ ॥ কেহ মালসাট মারে কেহ দেয় লম্ফ । কেহ অন্তরীক্ষে কেহ জলে দেয় বার্ফ ॥ বাণ বৃষ্টি করিয়া করিল অন্ধকার । ভাবেন না দেখি পথ পাণ্ডুর কুমার ॥ মহাহিমে কঁপে তনু পায়ে বাজে শীলা । বিষণ্ণ হইয়া তবে ভাবিতে লাগিলা ॥ তিন লক্ষ কিরাত করিল বানবৃষ্টি । প্রলয়কালেতে যেন সংহারিতে স্থষ্টি । সাত্যবাদী পাণ্ডুপুত্র গোবিন্দ সহায় । একগুটি বাণ তার না লাগিল গায় ॥ দেখিয়া কিরাতগণ অদ্ভুত মানিল । এড়িয়া ধনুক বাণ নমস্কার কৈল ॥ জিজ্ঞাসিল তোমা সবে কোন মহাজন। কিবা নাম কোথা ধাম কোথায় গমন ॥ যুধিষ্ঠির বলিলেন শুন পরিচয় । চন্দ্রবংশে জন্ম মম পাণ্ডুর তনয় ॥ দ্বাপর হইল শেষ কলি আগমন । স্বৰ্গপুরে যাই মোরা তথির কারণ ॥ রাজার বচনে বলে কিরাত প্রধান । এই দেশে রাজা হও তুমি পুণ্যবান ॥ | স্বর্গমুখ পাবে তুমি এস্থানে রাজন । নিরন্তর তোমারে সেবিবে দেবগণ ॥ তা সবারে মৃদুভাষে বিদায় করিয়া । স্বর্গপথে যান রাজা গোবিন্দ স্মরিয়া ॥ যাইতে পৰ্ব্বত মধ্যে দেখেন রাজন । করয়ে শিবের সেবা কিরাত ব্রাহ্মণ ॥ অপুর্ব দেখিয়া ভাবিলেন মনে মন । , বর মাগি লইল শঙ্করে পঞ্চজন ॥ মহাশীতে ছিমে ভেদি যান কতদূর । সহদেব বীর পড়ি অঙ্গ হৈল চুর ॥