পাতা:কাশ্মীরনামা — অফরুটে পায়ে পায়ে - ইন্দ্রজিৎ দাস.pdf/১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।


কাশ্মীরনামা—অফরুটে পায়ে পায়ে
ই ন্দ্র জি ৎ দা স

 

ঘোড়া ছুটছে ছুটছে ছুটছে, একরাশ কুণ্ডলী পাকিয়ে চারদিকে বড় বড় পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে ছুটছে সৈন্যরাও। আর ঠিক তার কিছুদূরে একটি শ্বেতপাথরের প্রাসাদে মণিমুক্ত খচিত স্বর্ণমুকুটে শোভিত এক রাজা হাতে ইরানী গোলাপ নিয়ে নাচ দেখছেন বাইজীর। কাশ্মীর, এই নামের সঙ্গে আমার ঠিক এমনই এক চলচ্চিত্রময় ছবি ভেসে ওঠে মনে। এই নানান ছবির জন্যই আমার কাশ্মীরের প্রতি এক অমোঘ আকর্ষণ।

 এবারের কামীর ভ্রমণটা হঠাই তৈরি হয়ে গেছিল। পার্কে দৌড়তে দৌড়তে মধু একদিন এসে প্রস্তাব দিল অমরনাথ যাত্রার। শুনেই নৈব নৈব চ, আমি যে একেবারেই ধার্মিক নই। কিন্তু অমরনাথের ট্রেকিং আর কাশ্মীর এই দুই-এর লোভটা ছাড়তেও পারলাম না। রাজি হয়ে গেলাম, শুরু করলাম ট্র্যাভেল প্ল্যান। নানান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যে জায়গাগুলো প্রথমবার কাশ্মীর ভ্রমণের সময় দেখা হয়ে ওঠেনি সেগুলো লিস্টের প্রথমে জায়গা পেলো। কিন্তু, এইবারও কাশ্মীর ভ্রমণের সময় কাশ্মীর ছিল অশান্ত। যাইহোক, তারই মধ্যে নানান সমস্যার সম্মুখীন হয়েও জায়গাগুলো স্বচক্ষে দেখতে পেরেছি, এটাই আমার কাছে অনেকটা।

 রোজাবল! তখন আমি কলেজে, হাতে এলো স্বামী অভেদানন্দের লেখা ‘পরিব্রাজক স্বামী অভেদানন্দ—কাশ্মীর ও তিব্বতভ্রমণ” বইটি। তাতে, রোজাবল নিয়ে তার লেখা পড়ে আমার প্রথম রোজাবল দেখার ইচ্ছা। সেই বই থেকে আমি প্রথম জানতে পারি, যীশুখ্রিস্টকে ক্রুশবিদ্ধ করার পর উনি নাকি বেঁচে ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি তার শেষ জীবন ভারতের শ্রীনগরে অতিবাহিত করেন এবং ভারতের মাটিতেই তিনি দেহ রাখেন। স্বামীজি, তার বইতে রুশ পরিব্রাজক ডঃ নটোভিচ-এর কথা উল্লেখ করে লিখেছেন যে, ডাঃ নটোভিচ্‌ যখন ভারতে আসেন তখন লাদাখের হেমিস মনাস্ট্রিতে কিছু হাতে লেখা নথি দেখেছিলেন। যার থেকে তিনি প্রমাণ পেয়েছিলেন যে যীশুখ্রিস্ট ভারতে এসেছিলেন। স্বামী অভেদানন্দ তার বইতে এটাও উল্লেখ করেছেন যে, ১৯২২ সালে তার ভ্রমণকালে তিনি একই নথির তিব্বতি তর্জমা দেখেছেন। যে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ওঁকে এই নথি দেখান, তিনি স্বামীজিকে সেটি অনুবাদ করে শুনিয়েছিলেন। সেই বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ওঁকে এও বলেছিলেন, আসল নথিটি লাসার কাছে অবস্থিত মারবার মনাস্ট্রিতে আছে। তারপর এই বিষয় নিয়ে নানান বই পড়ে জেনেছিলাম, যীশুখ্রিস্টকে ক্রুশবিদ্ধ করার পরেও উনি নাকি বেঁচেছিলেন এবং পরবর্তীকালে তিনি পাকিস্তান হয়ে ভারতবর্ষের শ্রীনগরে এসে পাকাপাকি ভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। পরবর্তীকালে যীশুখ্রিস্টের মৃত্যু

ভ্রমণআড্ডা • অষ্টাদশ সংকলন ২০১৬ • ৭৮