পাতা:কাহাকে?.djvu/১১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

উনবিংশ পরিচ্ছেদ।

১০৭

 বাবা এইরূপ বলিয়া উত্তরের অপেক্ষ না করিয়াই চলিয়া গেলেন। আমি বুঝিলাম তাঁহার সঙ্কল্প অটল—আরো বুঝিলাম, তাঁহার আজ্ঞা লঙ্ঘন করিতে আমার ক্ষমতা নাই। আমি মর্ম্মে মর্ম্মে দুর্ব্বল বঙ্গনারী, আজ্ঞাবর্ত্তী দুহিতা। জীবন বিসর্জ্জন দিতে পারি-কিন্তু ইহার পরে বিবাহ সম্বন্ধে দ্বিরুক্তি করা আমার পক্ষে অসম্ভব। আত্মজলাঞ্জলি ভিন্ন আমার উপায়াস্তুর নাই।

উনবিংশ পরিচ্ছেদ।

 দৃষ্টির সম্মুখে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড পরিব্যাপ্ত অথচ কিছুই চোখে পড়িতেছে না; মস্তিষ্ক চিন্তাতরঙ্গে আলোড়িত, অথচ কি ভাবিতেছি কিছুই জানি না। মন স্থানহিসাবেও অতিদূরে, সময় হিসাবেও অতিদূরে, নিজের অস্তিত্ব পর্যন্ত অনুভব করিতেছি কি না করিতেছি! মাঝে মাঝে কেবল সচেতন বেদনার অনুভূতি, দেহবন্ধন হইতে পলায়নের জন্য একটা নিষ্ফল ব্যাকুলতা, অন্ধকারের মধ্যে আলোক দেখিবার জন্য নিদারুণ প্রয়াস, দুর্বল এক হস্তে দৃঢ় লৌহ শৃঙ্খল ভাঙ্গিবার জন্য বৃথা চেষ্টায় প্রাণান্ত পরিশ্রান্তি, অক্ষম কষ্ট ও অসহায় ক্রোধ! আর ছোটু যাহাকে এত ভালবাসিয়াছি এত বন্ধু মনে করিয়াছি—সেই আমার এই কষ্টের কারণ! সহসা ভাবিতে ভাবিতে প্রাণের মধ্যে দৈববাণী শুনিলাম,—“তাহা হইতেই পারেন, চিরদিন সে তোমার বন্ধু ছিল—চিরদিন বন্ধু থাকিবে, এ বিপদে সেই তোমাকে উদ্ধার করিবে।”-অন্ধকার সমুদ্রে মুহূর্ত্তে যেন দিশা উন্মুক্ত হইয়া গেল; তাছাকে সমস্ত খুলিয়া বলিতে সংকল্প করিলাম। বুঝিলাম তাহা-