পাতা:কৃষ্ণচরিত্র.djvu/১৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


←i . x যুধিষ্ঠির অশ্বমেধ যজ্ঞ করিয়াছিলেন, এবং উহার বহুপূর্ববর্তী রাজগণও অশ্বমেধ যুঁজ করিয়াছিলেন, ইহাই মহাভারতে এবং অস্তান্ত প্রাচীন গ্রন্থে পাওয়া যায়। অতএব ইহাই সম্ভব যে, অশ্বমেধ যজ্ঞের এই যজুর্ম কৃষ্ণ-পাণ্ডবের অপেক্ষা প্রাচীন। এখন যেমন লোকে আধুনিক লেখকদিগের কাব্যগ্রন্থ হইতে পুত্রকার নামকরণ করিতেছে,* তেমনি সেকালেও বেদ হইতে লোকের পুত্ৰকস্তার নাম রাখা অসম্ভব নহে। এই মন্ত্র হইতেই কাশিরাঙ্গ আপনার তিনটি কন্যার নাম অম্বা, অম্বিক, অম্বালিকা রাখিয়া থাকিবেন, এবং এইরূপেই কৃষ্ণভগিনী স্বভদ্রারও নামকরণ হইয়া থাকিবে। এই মন্ত্রে এমন কিছু দেখি ন যে, তজ্জন্ত কৃষ্ণভগিনী সুভদ্রা কেহ ছিলেন না, এমন কথা অনুমান করা যায়। অতএব আমরা সুভদ্রাহরণের বিচারে প্রবৃত্ত হুইব । এক্ষণে, সুভদ্রাহরণের নৈতিক বিচারে প্রবৃত্ত হইবার আগে পাঠকের নিকট একটা অনুরোধ আছে। তিনি কাশীদাসের গ্রন্থে অথবা কথকের নিকট, অথবা পিতামহীর মুখে, অথবা বাঙ্গালা নাটকাদিতে যে সুভদ্রাহরণ পড়িয়াছেন বা শুনিয়াছেন, তাহ অনুগ্রহপূর্বক ভুলিয়া যাউন। অর্জুনকে দেখিয়া সুভদ্র। অনঙ্গশরে ব্যথিত হইয়া উন্মত্ত হইলেন, সত্যভামা মধ্যবৰ্ত্তিনী দূতী হইলেন, অর্জুন সুভদ্রাকে হরণ করিয়া লইয়া গেলে যাদবসেনরি সঙ্গে তার ঘোরতর যুদ্ধ হইল, সুভদ্র তাহার সারথি হইয় গগনমার্গে তাহার রথ চালাইতে লাগিলেন—সে সকল কথা ভুলিয়া যান। এ সকল অতি মনোহর কাহিনী বটে, কিন্তু মূল মহাভারতে ইহার কিছুই নাই। ইহা কাশীরাম দাসের গ্রন্থেই প্রথম দেখিতে পাই, কিন্তু এ সকল তাহার সৃষ্টি কি তাহার পরবর্তী কথকদিগের স্মৃষ্টি, তাহ বলা যার না। সংস্কৃত মহাভারতে যে প্রকার সুভদ্রাহরণ কথিত হইয়াছে, তাহার স্থলমৰ্ম্ম বলিতেছি । ৫ যথা—প্রমীলা, মৃণালিনী ইত্যাদি ।