পাতা:কৃষ্ণচরিত্র.djvu/২১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


---. ❖ዷ : কৃষ্ণচরিত্র ভীষ্মে ও শিশুপালে মায়ও কিছু বকবিকি হইল। ভীষ্ম বলিলেন, “শিশুপাল কৃষ্ণের তেজেই তেজস্বী, তিনি এখনই শিশুপালের তেজোহরণ করিবেন।” শিশুপাল জ্বলিয়া উঠিয়া ভীষ্মকে অনেক গালাগালি দিয়া শেষে বলিল, “তোমার জীবন এই ভূপালগণের অনুগ্রছাধীন, ইহারা মনে করিলেই তোমার প্রাণসংহার করিতে পারেন।” ভীষ্ম তখনকার ক্ষত্রিয়দিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা—তিনি বলিলেন, “আমি ইহাদিগকে তৃণতুল্য বোধ করি না।” শুনিয়া সমবেত রাজমণ্ডলী গর্জিয়া উঠিয়া বলিল, “এই ভীষ্মকে পশুবৎ বধ কর অথবা প্রদীপ্ত হুতাশনে দগ্ধ কর।” ভীষ্ম উত্তর করিলেন, “যা হয় কর, আমি এই তোমাদের মস্তকে পদার্পণ করিলাম ।” বুড়াকে জোরেও আঁটিবার যে নাই, বিচারেও আঁটিবার যে নাই। ভীষ্ম তখন রাজগণকে মীমাংসার সহজ উপায়ট দেখাইয়া দিলেন। তিনি যাহা বলিলেন, তাহার স্থূল মৰ্ম্ম এই –“ভাল, কৃষ্ণের পুজা করিয়াছি বলিয়া তোমরা গোল করিতেছ ; তাহার শ্রেষ্ঠত্ব মানিতেছ না । গোলে কাজ কি, তিনি ত সম্মুখেই আছেন—একবার পরীক্ষা করিয়া দেখ না । যাহার মরণ কর্তুতি থাকে, তিনি একবার কৃষ্ণকে যুদ্ধে আহবান করিয়া দেখুন না ?” শুনিয়া কি শিশুপাল চুপ করিয়া থাকিতে পারে ? শিশুপাল কৃষ্ণকে ডাকিয়া বলিল, “আইস, সংগ্রাম কয়, তোমাকে যুদ্ধে আহবান করিতেছি।” এখন, কৃষ্ণ প্রথম কথা কহিলেন । কিন্তু শিশুপালের সঙ্গে নহে । ক্ষত্রিয় হইয়া কৃষ্ণ যুদ্ধে আহুত হইয়াছেন, আর যুদ্ধে বিমুখ হইবার পথ রহিল না ; এবং যুদ্ধেরও ধৰ্ম্মতঃ প্রয়োজন ছিল । তখন সভাস্থ সকলকে সম্বোধন করিয়া শিশুপালকৃত পুৰ্ব্বাপরাধ সকল একটি একটি করিয়া বিবৃত করিলেন । তার পর বলিলেন, “এত দিন ক্ষমা করিয়াছি। আজি ক্ষমা করিব না।” এই কৃষ্ণোক্তি মধ্যে এমন কথা আছে যে, তিনি পিতৃম্বসার অনুরোধেই তাহার এত অপরাধ ক্ষমা করিয়াছেন। ইতিপূৰ্ব্বেই যাহা বলিয়াছি, তাহী স্মরণ করিয়া হয়ত পাঠক জিজ্ঞাসা করিবেন, এ কথাটাও প্রক্ষিপ্ত ? অামাদের উত্তর এই যে, ইহা প্রক্ষিপ্ত হইলেও হইতে পারে, কিন্তু প্রক্ষিপ্ত বিবেচনা করিবার কোন প্রয়োজন দেখি না । ইহাতে অনৈসর্গিকতা কিছুই নাই ; বরং ইহা বিশেষরূপে স্বাভাবিক ও সম্ভব। ছেলে ফুরন্ত, কৃষ্ণম্বেী ; কৃষ্ণও বলবান, মনে করিলে শিশুপালকে মাছির মত টিপিয়া মারিতে পারেন, এমন অবস্থায় পিস যে ভ্রাতুপুত্রকে অনুরোধ করিবেন, ইহা খুব সম্ভব। ক্ষমাপরায়ণ কৃষ্ণ শিশুপালকে নিজ গুণেই ক্ষমা করিলেও পিসীর অনুরোধ স্মরণ রাখিবেন, ইহাও খুব