পাতা:কৃষ্ণচরিত্র.djvu/২৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পঞ্চম খণ্ড : নবম পরিচ্ছেদ : উপসংহার શ૪૧ কৃষ্ণ,নিজে যাহা বলিয়াছিলেন, এবং অন্তে যাহা বলিয়াছিল, তাই বলিত্তে লাগিলেনf কিন্তু সেই সকল ৰক্তৃতার পূর্বপুৰ্ব্ব অধ্যায়ে যেরূপ বর্ণনা দেখিয়াছি, এখানে তাহার সহিত মিল নাই। কিছুর সঙ্গে কিছু মিলে না। মিলিলে দীর্ঘ পুনরুক্তি ঘটিত । তাহ হইতে উদ্ধার পাইবার জঙ্ক কোন মহাপুরুষ কিছু সূত্তম রকম বসাইয়া দিয়াছেন বোধ হয় । ৫৪৫ এইখানে ভগবদূষান-পৰ্ব্বাধ্যায় সমাপ্ত। তার পর সৈন্যনিৰ্যাণ-পৰ্ব্বাধ্যায় । ইহাতে বিশেষ কথা কিছু নাই। কতকগুলা মৌলিক কথা আছে ; কতকগুলা কথা অমৌলিক বলিয়া বোধ হয় ; কৃষ্ণসম্বন্ধীয় কথা বড় অল্প । কৃষ্ণের ও অর্জুনের পরামর্শানুসারে, পাণ্ডবেরা ধৃষ্টছমাকে সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন, এবং বলরাম মদ খাইয়া আসিয়া, কৃষ্ণকে কিছু মিষ্ট ভৎসন করিলেন, কেন না তিনি কুরুপাণ্ডবকে সমান জ্ঞান করেন না । কুরুসভায় যাহা ঘটিয়াছিল, সে কথাও কিছু হইল। ইহা ভিন্ন আরও কিছু নাই। তাহার পর উলুকদূতাগমন-পৰ্ব্বাধ্যায়। এটি নিতান্ত অকিঞ্চিৎকর । ইহাতে আর কিছুই নাই, কেবল উভয় পক্ষের গালিগালাজ । ছর্য্যোধন, শকুনি প্রভৃতির পরামর্শে উলুককে পাণ্ডবদিগের নিকট পাঠাইলেন। উদ্দেশ্ব আর কিছুই নহে, কেবল পাণ্ডৰদিগকে ও কৃষ্ণকে খুব গালিগালাজ কর । উলুক আসিয়া ছয় জনকেই খুব গালিগালাজ করিল। ' পাণ্ডবেরা উত্তরে খুবই গালিগালাজ করিলেন। কৃষ্ণ বড় কিছু বলিলেন না, তাহার হ্যায় রোষামৰ্ধশুস্ত ব্যক্তি গালিগালাজ করে না, বরং একটা রাগারগি বাড়াবাড়ি যাহাতে না হয়, এই অভিপ্রায়ে পাণ্ডবেরা উত্তর করিবার আগেই তিনি উলুককে বিদায় করিবার চেষ্টা করিলেন। বলিলেন, “তুমি শীঘ্ৰ গমন করিয়া ফুৰ্য্যোধনকে কহিবে–পাণ্ডবেরা তোমার বাক্য শ্রবণ ও তাহার যথার্থ অর্থ গ্রহণ করিয়াছেন। এক্ষণে তোমার যেরূপ অভিপ্রায় তাহাই হইবে।” অথচ গালিগালাজটা কৃষ্ণাৰ্জ্জুনের ভাগেই বেশী রকম হইয়াছিল। কিন্তু উলুকের দুৰ্ব্বদ্ধি, উলুক ছাড়ে না। আবার গালিগালাজ আরম্ভ করিল। ন হইবে কেন ? ইনি দুৰ্য্যোধনের সহোদর। তখন ওবেরা একে একে উলুকের উত্তর দিলেন। উলুককে মুদ সমেত আসল ফিরাইয়া ঞ্জি। কৃষ্ণও একটা কথা বলিলেন, “আমি অর্জুনের সারথ্য স্বীকার করিয়াছি বলিয়া যুদ্ধ করিব না, ইহা মনে স্থির করিয়া ভীত হইতেছ না ; কিন্তু যেমন হতাশনে তৃণ সকল ভস্মসাৎ করে ; তক্রপ আমিও চরম কালে ক্রোধাভরে সমস্ত পার্থিবগণকে সংহার করিব সন্দেহ নাই ।” উলুকদূতাগমন-পৰ্ব্বাধ্যায়ে মহাভারতের কাৰ্য্যের পক্ষে কিছুমাত্র প্রয়োজন নাই । ইহাতে রচনার নৈপুণ্য বা কবিত্ব নাই। এবং কোন কোন স্থান মহাভারতের অন্যাস্তাংশের ○〉