পাতা:কৃষ্ণচরিত্র.djvu/২৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভীষ্মের যুদ্ধ . 4. এক্ষণে কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধ আরম্ভ হইবে। মহাভারতে চারিটি পর্বে ইহা বর্ণিত হইয়াছে। ফুৰ্য্যোধনের সেনাপতিগণের নামক্রমে ক্রমান্বয়ে এই চারিটি পর্বের নাম হইয়াছে ভীষ্মপৰ্ব্ব, দ্রোণপৰ্ব্ব, কর্ণপৰ্ব্ব ও শল্যপৰ্ব্ব । এই যুদ্ধপৰ্ব্বগুলি মহাভারতের নিকৃষ্ট অংশ মধ্যে গণ্য করা উচিত। পুনরুক্তি, অকারণ এবং অরুচিকর বর্ণনাবাহুল্য, অনৈসর্গিকতা, অত্যুক্তি এবং অসঙ্গতি দোষ এইগুলিতে বড় বেশী। ইহার অল্প ভাগই আদিমস্তরভুক্ত বলিয়া বোধ হয়। কিন্তু কোন অংশ মৌলিক, আর কোন অংশ অমৌলিক, স্থির করা বড় দুষ্কর। যেখানে সবই কাটাবন, সেখানে পুষ্পচয়ন বড় স্থঃসাধ্য। তবে যেখানে কৃষ্ণচরিত্র সম্বন্ধে কোন কথা পাওয়া যায়, সেই স্থান আমরা যথাসাধ্য বুঝিবার চেষ্টা করিব। ভীষ্মপর্বের প্রথম জম্মুখণ্ড-বিনিৰ্মাণ-পৰ্ব্বাধ্যায়। তাহার সঙ্গে যুদ্ধের কোন সম্বন্ধ নাই—মহাভারতেরও বড় অল্প । কৃষ্ণচরিত্রের কোন কথাই নাই। তার পর ভগবদগীতাপৰ্ব্বাধ্যায় । ইহার প্রথম চব্বিশ অধ্যায়ের পর গীতারম্ভ। এই চব্বিশ অধ্যায় মধ্যে কৃষ্ণ সম্বন্ধীয় বিশেষ কোন কথা নাই। কৃষ্ণ যুদ্ধের পূৰ্ব্বে দুর্গাস্তব করিতে অর্জুনকে পরামর্শ দিলে, অর্জুন যুদ্ধারম্ভ কালে তুর্গাস্তব পাঠ করিলেন। কোন গুরুতর কার্য্য আরম্ভ করিবার সময়ে আপন আপন বিশ্বাসামুযায়ী দেবতার আরাধনা করিয়া তাহাতে প্রবৃত্ত হওয়া কৰ্ত্তব্য। তাহা হইলে ঈশ্বরের আরাধন হইল । যাহা বলিয়া ডাকি না কেন, এক ভিন্ন ঈশ্বর নাই। তার পর গীতা । ইহাই কৃষ্ণচরিত্রের প্রধান অংশ। এই গীতোক্ত অনুপম পবিত্র ধৰ্ম্ম প্রচারই কৃষ্ণের আদর্শ মনুষ্যত্বের বা দেবত্বের এক প্রধান পরিচয়। কিন্তু এখানে আমি গীতা সম্বন্ধে কোন কথা বলিব না। তাহার কারণ এই যে এই গীতোক্ত ধৰ্ম্ম একখানি পৃথক গ্রন্থে• কিছু কিছু বুঝাইয়াছি, পরে আর একখানি+

  • * ধৰ্ম্মতত্ত্ব।

+ খ্ৰীমদ্ভগবদগীতার বাঙ্গালী টীকা।